ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, মুখ ফিরিয়ে নিল ন্যাটো মিত্ররাও

  • আপডেট সময়: ১০:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • ১৫১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই কৌশলগত জলপথটি সচল ও নিরাপদ রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। তবে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ রাষ্ট্রই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছে। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট-ন্যাটোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।

ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ন্যাটো মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। একে একে সবাই তার দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।

ট্রাম্পের জন্য নতুন এক ধাক্কা হিসেবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ‘প্রায় সাতটি’ দেশের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি ন্যাটোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি মিত্র দেশগুলো এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে—যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—তবে এই জোটকে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যতের’ মুখোমুখি হতে হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল বলেন, ‘আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই সংকট জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

ইরান যুদ্ধে একা হয়ে পড়ছেন ট্রাম্প, মুখ ফিরিয়ে নিল ন্যাটো মিত্ররাও

আপডেট সময়: ১০:৫৫:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এই কৌশলগত জলপথটি সচল ও নিরাপদ রাখতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মিত্র দেশগুলোকে নিজেদের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছে। তবে, তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভয়াবহতা বিবেচনায় অধিকাংশ রাষ্ট্রই ট্রাম্পের এই প্রস্তাবে সরাসরি সাড়া না দিয়ে এক ধরনের নীরবতা পালন করছে। এমনকি পশ্চিমা সামরিক জোট-ন্যাটোও মার্কিন প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না।

ইরানের নিয়ন্ত্রণ থেকে বিশ্বের জ্বালানি পরিবহণের করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ন্যাটো মিত্র রাষ্ট্রগুলোর কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন ট্রাম্প। একে একে সবাই তার দাবি প্রত্যাখ্যান করছে।

ট্রাম্পের জন্য নতুন এক ধাক্কা হিসেবে জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে ন্যাটোর ভূমিকা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ‘প্রায় সাতটি’ দেশের সহায়তা চেয়েছিলেন। তিনি ন্যাটোকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি মিত্র দেশগুলো এই সামুদ্রিক পথটি উন্মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাহায্য করতে অস্বীকার করে—যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে—তবে এই জোটকে ‘খুবই খারাপ ভবিষ্যতের’ মুখোমুখি হতে হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) ব্রাসেলসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুল বলেন, ‘আমি দেখছি না যে ন্যাটো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব নিতে পারে। যদি তেমনটি হতো, তবে ন্যাটোর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।’

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ আকাশপথ বন্ধ থাকায় অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল, পুনঃনির্ধারণ এবং পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। একইসঙ্গে, এই সংকট জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী করে তুলেছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসন শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটিরও বেশি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।