ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানপন্থি নেতার তথ্য দিলে ১ কোটি মার্কিন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট সময়: ১০:১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরাকে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রধানের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারলে এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয়েছে। হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজি নামক ওই ব্যক্তির অবস্থান বা তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় মার্কিন প্রশাসন এই বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কারের প্রস্তাব রেখেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আল-সরাজি মূলত ‘কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা’ বা কেএসএস নামক একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এই সংগঠনটিকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই গোষ্ঠীটি কেবল ইরাকের ভেতরেই অস্থিরতা তৈরি করছে না, বরং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের নোটিশে বলা হয়, কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা বা কেএসএস-এর সদস্যরা ইরাকের সাধারণ নাগরিকদের হত্যায় সরাসরি জড়িত। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে এই গোষ্ঠীটি। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে নিয়মিত আক্রমণ পরিচালনার পেছনেও তাদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ছায়া যুদ্ধের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। ইসরায়েল ও আমেরিকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হামলার পাল্টা জবাব দিতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরাকের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই এই মিলিশিয়া সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এরা সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আল-সরাজির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

ইরানপন্থি নেতার তথ্য দিলে ১ কোটি মার্কিন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময়: ১০:১১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরাকে অবস্থানরত ইরান সমর্থিত একটি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর প্রধানের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারলে এক কোটি মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘোষণাটি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় দেওয়া হয়েছে। হাশিম ফিনিয়ান রহিম আল-সরাজি নামক ওই ব্যক্তির অবস্থান বা তার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশায় মার্কিন প্রশাসন এই বিশাল অংকের অর্থ পুরস্কারের প্রস্তাব রেখেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আল-সরাজি মূলত ‘কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা’ বা কেএসএস নামক একটি সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে এই সংগঠনটিকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই গোষ্ঠীটি কেবল ইরাকের ভেতরেই অস্থিরতা তৈরি করছে না, বরং তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের নোটিশে বলা হয়, কাতায়িব সাইয়্যেদ আল-শুহাদা বা কেএসএস-এর সদস্যরা ইরাকের সাধারণ নাগরিকদের হত্যায় সরাসরি জড়িত। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন কূটনৈতিক মিশনে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে এই গোষ্ঠীটি। এছাড়া ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং সেনাসদস্যদের লক্ষ্য করে নিয়মিত আক্রমণ পরিচালনার পেছনেও তাদের প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে পেন্টাগন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ছায়া যুদ্ধের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। ইসরায়েল ও আমেরিকার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান হামলার পাল্টা জবাব দিতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরাকের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্য থেকেই এই মিলিশিয়া সদস্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়। এরা সরাসরি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনায় নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা, আল-সরাজির মতো শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব অনেকটাই হ্রাস করা সম্ভব হবে।