ঢাকা অফিস,জাফরান আকন্দ:নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ.ন.ম. এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘হিফযুল কুরআন অ্যাওয়ার্ড ও কুরআন উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠানের তৃতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নৈতিক, ইসলামিক ও ধর্মীয় শিক্ষা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে সমাজে অবক্ষয় দেখা দেয়। এ অবক্ষয় রোধে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। দ্বীনি শিক্ষা থেকে পিছিয়ে যাওয়া জাতির জন্য কল্যাণকর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় মূল্যবোধের অন্তর্ভুক্তির কোনো বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন জরুরি। এ জন্য ধর্মীয় শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছেন। তাঁরা আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে পারলে কর্মক্ষেত্রে আরও ভালো সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়ানোর সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
অনুষ্ঠানে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন পরিচালিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে হিফয সম্পন্নকারী ১ হাজার ৭৫৭ জন ছাত্রছাত্রীকে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। পবিত্র কুরআন মুখস্থ করার কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন তানযীমুল উম্মাহ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, শিক্ষাবিদ, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন পর্যায়ের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এ আয়োজনের লক্ষ্য হিফয সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে পবিত্র কুরআন শিক্ষায় উৎসাহিত করা। আয়োজকেরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের কুরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি এর শিক্ষা ও আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করতে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


























