ঢাকা ১০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি

  • আপডেট সময়: ১১:১৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়।

তবে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়তে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে চুয়েট উপাচার্যকে উদ্ধার করলেন ডিসি-এসপি

আপডেট সময়: ১১:১৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়।

তবে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়তে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’

এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।

এদিকে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’

পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।