ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’, যে রক্তের বিনিময়ে এসেছিল শিক্ষার অধিকার

  • আপডেট সময়: ০৩:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শিক্ষাবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান একটি শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক এ নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। শিক্ষাকে সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংকোচন নীতি বাতিল এবং গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের আগস্ট থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এ আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থনও বাড়তে থাকে।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মিছিল বের করেন। এ সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা ও বাবুলসহ কয়েকজন শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। এর পর সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের রোষানলে পড়েন ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা।

এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের নয় নেতার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। তারা হলেন রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সিরাজুল আলম খান, কে এম ওবায়দুর রহমান, বদরুল হায়দার চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম, রেজা আলী, গিয়াস কামাল চৌধুরী ও আইয়ুব রেজা চৌধুরী। মূলত, হুলিয়া জারি হলো ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ ঘোষণা, যা সাধারণত কোনো মামলার পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক দেওয়া হয়।

শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে দিনটি প্রতিবছর পালন করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

আজ ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’, যে রক্তের বিনিময়ে এসেছিল শিক্ষার অধিকার

আপডেট সময়: ০৩:৫১:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:আজ ১৭ সেপ্টেম্বর, মহান শিক্ষা দিবস। ১৯৬২ সালের এই দিনে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক ও শিক্ষাবিরোধী নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলনে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর দিনটি শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করা হয়।

১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল আইয়ুব খান একটি শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেন। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক এ নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে। শিক্ষাকে সবার অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা সংকোচন নীতি বাতিল এবং গণমুখী, বিজ্ঞানমনস্ক, অসাম্প্রদায়িক ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২ সালের আগস্ট থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে থাকেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ধীরে ধীরে এ আন্দোলনের প্রতি সাধারণ মানুষের সমর্থনও বাড়তে থাকে।

১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীরা শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে মিছিল বের করেন। এ সময় ঢাকার হাইকোর্টের সামনে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা ও বাবুলসহ কয়েকজন শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগ শিক্ষা অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।

ওই ঘটনার প্রতিবাদে ১৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী হরতাল পালিত হয়। এর পর সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের রোষানলে পড়েন ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা।

এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের নয় নেতার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। তারা হলেন রাশেদ খান মেনন, হায়দার আকবর খান রনো, সিরাজুল আলম খান, কে এম ওবায়দুর রহমান, বদরুল হায়দার চৌধুরী, শাহ মোয়াজ্জেম, রেজা আলী, গিয়াস কামাল চৌধুরী ও আইয়ুব রেজা চৌধুরী। মূলত, হুলিয়া জারি হলো ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়ার একটি বিশেষ ঘোষণা, যা সাধারণত কোনো মামলার পলাতক আসামির বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক দেওয়া হয়।

শিক্ষার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন, গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবিতে আত্মত্যাগের স্মৃতি ধারণ করে দিনটি প্রতিবছর পালন করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদদের স্মরণ করে।