ঢাকা ১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাকে মারধর করে শিশুকে ছিনিয়ে ২ লাখে বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেফতার ৫

  • আপডেট সময়: ১১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,ময়মনসিংহ ব্যুরো:ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মা’কে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে তের মাস বয়সী শিশু সন্তানকে রেখে দেওয়ার পর সন্তানকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মায়ের করা মামলায় শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন শিশুটির মা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন -ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাঁদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়িতে। পরে রোজিনা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।

এরই মধ্যে রোজিনা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তাঁর স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন ঘটনা তদন্তে এস.আই ফারুক হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই শিশুর মা রোজিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালায়।পরে, বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে দোহার থানার হরিচন্ডি চর মাহমুদপুর গ্রামের আবেদ মোল্লার বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় ওই গ্রামের হাসেম মোল্লার পুত্র আবেদ মোল্লা ও তার স্ত্রী শিখা সহ এজাহার নামীয় আসামী ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, উচাখিলা গ্রামের শরীফা খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। তাঁরা শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিয়েছিলেন। তবে শিশুটিকে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।

ওসি বলেন, শিশুকে নিরাপদে আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার পাঁচজনকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

মাকে মারধর করে শিশুকে ছিনিয়ে ২ লাখে বিক্রি, দাদা-দাদিসহ গ্রেফতার ৫

আপডেট সময়: ১১:৩১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,ময়মনসিংহ ব্যুরো:ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মা’কে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে তের মাস বয়সী শিশু সন্তানকে রেখে দেওয়ার পর সন্তানকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে মায়ের করা মামলায় শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির দাদা-দাদিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ভোররাতে ঢাকার দোহার উপজেলার চর মাহমুদপুর ইউনিয়নের হরিচণ্ডী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন শিশুটির মা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন -ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মাইজহাটি (সুতি ভরট) এলাকার শিশুটির দাদা উজ্জল মিয়া (৫০), তাঁর স্ত্রী আয়শা খাতুন (৪৫), শিশুটির ফুফু শরিফা খাতুন (৩৫) এবং ঢাকার দোহার উপজেলার হরিচণ্ডী এলাকার আবেদ মোল্লা (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী শিখা (৩৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে শিশুটির মা রোজিনা বেগমের (২১) সঙ্গে মো. নাঈম মিয়ার (২৫) বিয়ে হয়। তাঁদের ছেলে মোজাহিদের বয়স এখন ১৩ মাস। পারিবারিক কলহের জেরে প্রায় পাঁচ মাস আগে রোজিনাকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শিশুটিকে রেখে দেওয়া হয় শ্বশুরবাড়িতে। পরে রোজিনা গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন।

এরই মধ্যে রোজিনা স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারেন, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে তাঁর স্বামী ও স্বজনেরা শিশুটিকে অজ্ঞাত কয়েকজনের কাছে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। পরদিন রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিশুর বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে গালাগাল করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার শিশুটির মা ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি)করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন ঘটনা তদন্তে এস.আই ফারুক হোসেনকে দায়িত্ব দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই শিশুর মা রোজিনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালায়।পরে, বুধবার ভোর পৌনে ছয়টার দিকে দোহার থানার হরিচন্ডি চর মাহমুদপুর গ্রামের আবেদ মোল্লার বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এসময় ওই গ্রামের হাসেম মোল্লার পুত্র আবেদ মোল্লা ও তার স্ত্রী শিখা সহ এজাহার নামীয় আসামী ঈশ্বরগঞ্জের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামের উজ্জ্বল মিয়া ও তার স্ত্রী আয়শা খাতুন, উচাখিলা গ্রামের শরীফা খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ রোমন বলেন, যে দম্পতির কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের কোনো সন্তান নেই। তাঁরা শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিয়েছিলেন। তবে শিশুটিকে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি সঠিক ছিল না।

ওসি বলেন, শিশুকে নিরাপদে আদালতের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার পাঁচজনকে গতকাল বুধবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।