ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

  • আপডেট সময়: ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬১ জন দেখেছে
Spread the love

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধি:ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎
‎বাগেরহাটে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কর্মসূচিটির শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত মশাবাহিত এই রোগটির বিস্তার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার আগেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ থেকে দেশব্যাপী এই অভিযানের অংশ হিসেবে বাগেরহাটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৯০ দিন ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎উদ্বোধনী এই কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলো ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গুর আক্রমণ যেভাবে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, তার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই এই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব, যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
‎
‎কার্যক্রমটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত এবং নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো অবস্থাতেই যেন বাসাবাড়ি বা টবের আশপাশে কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ কেবল একটি মৌসুমী কাজ নয়, বরং এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্কাউট এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি বাড়িতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সচেতনতার বার্তাটি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
‎
‎এই তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কেবল উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা কিংবা সাময়িক অভিযানের মধ্যে এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যদি প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবেই এই উদ্যোগের সুফল মিলবে এবং ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
‎

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধন

আপডেট সময়: ০৩:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

‎ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট প্রতিনিধি:ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাগেরহাটে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎
‎বাগেরহাটে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ রোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাসব্যাপী একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে কর্মসূচিটির শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত মশাবাহিত এই রোগটির বিস্তার আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ার আগেই স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের তাগিদ থেকে দেশব্যাপী এই অভিযানের অংশ হিসেবে বাগেরহাটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ৯০ দিন ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
‎
‎উদ্বোধনী এই কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন মাস জেলার প্রতিটি উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিশেষ করে এডিস মশার প্রজননস্থল হিসেবে চিহ্নিত স্থানগুলো ধ্বংস করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ষা মৌসুমের আগেই ডেঙ্গুর আক্রমণ যেভাবে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, তার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যেই এই মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সাজানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব, যার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
‎
‎কার্যক্রমটির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত এবং নির্মাণাধীন ভবনের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কোনো অবস্থাতেই যেন বাসাবাড়ি বা টবের আশপাশে কিংবা পরিত্যক্ত পাত্রে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ কেবল একটি মৌসুমী কাজ নয়, বরং এটি নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, স্কাউট এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মীদের এই কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে প্রতিটি বাড়িতে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে সচেতনতার বার্তাটি তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
‎
‎এই তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে বাগেরহাট জেলায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে কেবল উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা কিংবা সাময়িক অভিযানের মধ্যে এই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং নিয়মিত মনিটরিং করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যদি প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, তবেই এই উদ্যোগের সুফল মিলবে এবং ডেঙ্গুর মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষ সুরক্ষা পাবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
‎