ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেভাবে গোপন নম্বর ও স্যাটেলাইট ফোনে শেষ মুহূর্তে যোগাযোগ রাখতো শেখ হাসিনা

  • আপডেট সময়: ০৪:৩০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৩৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:২০২৪ সালে জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও গণভবনে বিশেষ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট সংযোগ সচল ছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগের ধরন, ব্যবহৃত ফোন নম্বর এবং দেশত্যাগের আগে বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ সম্পর্কেও নতুন কিছু তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের একটি বিশেষ সংযোগের মাধ্যমে গণভবনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। এ জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ১ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে শেখ হাসিনার যোগাযোগব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসে। ৩ আগস্টের পর তার ব্যবহৃত একটি ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব নম্বরের মধ্যে কয়েকটির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ৪ আগস্টের পর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারী দলের দাবি, ওই সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পরদিন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকটি ফোনকল করা হয় বলে ফরেনসিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, একটি কল ছিল শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)-এর নামে নিবন্ধিত নম্বরে, আরেকটি কল করা হয় উড্ডয়নের ঠিক আগে।

এ ছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগস্টের শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব বার্তার ফরেনসিক বিশ্লেষণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিজিটাল ফরেনসিক টিম আরও দাবি করেছে, শেখ হাসিনার যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গুমসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ভূমিকা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, তার ব্যবহৃত একটি ভবনে ব্যক্তিগত সার্ভার অবকাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তে উঠে আসা এসব তথ্য এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে আইনি ভিত্তিতে নির্ধারক।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

যেভাবে গোপন নম্বর ও স্যাটেলাইট ফোনে শেষ মুহূর্তে যোগাযোগ রাখতো শেখ হাসিনা

আপডেট সময়: ০৪:৩০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:২০২৪ সালে জুলাই–আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানের সময় সারা দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকলেও গণভবনে বিশেষ ব্যবস্থায় ইন্টারনেট সংযোগ সচল ছিল বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক টিম। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগাযোগের ধরন, ব্যবহৃত ফোন নম্বর এবং দেশত্যাগের আগে বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ সম্পর্কেও নতুন কিছু তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ট্রাইব্যুনালের ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের একটি বিশেষ সংযোগের মাধ্যমে গণভবনে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করা হয়। এ জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ১ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে শেখ হাসিনার যোগাযোগব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসে। ৩ আগস্টের পর তার ব্যবহৃত একটি ফোন থেকে অন্তত ৭০টি নম্বরে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব নম্বরের মধ্যে কয়েকটির নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ৪ আগস্টের পর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মোবাইল নম্বরের পরিবর্তে স্যাটেলাইট ফোন এবং গণভবনের কর্মীদের ব্যক্তিগত নম্বর ব্যবহার করা হয়। তদন্তকারী দলের দাবি, ওই সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে স্যাটেলাইট ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল।

তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, পরদিন শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে কুর্মিটোলা এয়ার মুভমেন্টে যান। সেখানে অবস্থানকালে কয়েকটি ফোনকল করা হয় বলে ফরেনসিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, একটি কল ছিল শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল)-এর নামে নিবন্ধিত নম্বরে, আরেকটি কল করা হয় উড্ডয়নের ঠিক আগে।

এ ছাড়া তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আগস্টের শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে দেশ ছাড়ার বিষয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব বার্তার ফরেনসিক বিশ্লেষণ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ডিজিটাল ফরেনসিক টিম আরও দাবি করেছে, শেখ হাসিনার যোগাযোগসংক্রান্ত তথ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে গুমসংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের ভূমিকা তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, তার ব্যবহৃত একটি ভবনে ব্যক্তিগত সার্ভার অবকাঠামোর অস্তিত্বের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

তবে তদন্তে উঠে আসা এসব তথ্য এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ। অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই হবে আইনি ভিত্তিতে নির্ধারক।