ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

  • আপডেট সময়: ০৮:১৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
  • ১১৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি ২ মাস বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।

শনিবার (২৩ মে) প্রায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই একই তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে মুখপাত্র বাঘেই বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, একদিকে আমরা চুক্তি থেকে অনেক দূরে, আবার অন্যদিকে খুব কাছেও আছি। কারণ আমরা অতীতে বহুবার দেখেছি, মার্কিন পক্ষ নিজেদের অবস্থান বদলেছে এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তাই তাদের অবস্থান আবারও পরিবর্তন হবে না-এমন নিশ্চয়তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে সেগুলো মূলত যুদ্ধ বন্ধে প্রাধান্য দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন নৌ আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরানে চলমান আলোচনার বিষয়ে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরামর্শ হয়েছে। বর্তমানে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে উভয় পক্ষ।’

প্রস্তাবিত সমঝোতা খসড়া নথি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণের বিষয়েও ইরানের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শিথিল ও কিছু নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে।

খসড়া নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবরের তথ্য মতে, এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান তাদের সমৃদ্ধ পরমাণু হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার এ পর্যায়ে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির বিরুদ্ধে দুটি আগ্রাসী যুদ্ধ চালানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলাকালেও আমরা অবৈধ হামলার শিকার হয়েছি। তাই আমরা বিচক্ষণতার সঙ্গে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরান এই বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যেসব ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছালো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

আপডেট সময়: ০৮:১৩:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতি ২ মাস বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে।

শনিবার (২৩ মে) প্রায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই একই তথ্য জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে মুখপাত্র বাঘেই বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, একদিকে আমরা চুক্তি থেকে অনেক দূরে, আবার অন্যদিকে খুব কাছেও আছি। কারণ আমরা অতীতে বহুবার দেখেছি, মার্কিন পক্ষ নিজেদের অবস্থান বদলেছে এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। তাই তাদের অবস্থান আবারও পরিবর্তন হবে না-এমন নিশ্চয়তা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চলছে সেগুলো মূলত যুদ্ধ বন্ধে প্রাধান্য দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন নৌ আগ্রাসন বন্ধ করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্তি দেওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ বন্ধে তেহরানে চলমান আলোচনার বিষয়ে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরামর্শ হয়েছে। বর্তমানে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে উভয় পক্ষ।’

প্রস্তাবিত সমঝোতা খসড়া নথি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হবে এবং ইরান অবাধে তেল বিক্রি করতে পারবে। এছাড়া প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণের বিষয়েও ইরানের সম্মতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ শিথিল ও কিছু নিষেধাজ্ঞা ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করবে।

খসড়া নথিতে আরও বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব খবরের তথ্য মতে, এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে সমঝোতার বিষয়টি এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান তাদের সমৃদ্ধ পরমাণু হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। কিন্তু পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার এ পর্যায়ে পরমাণু ইস্যুতে তেহরান বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছে না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির বিরুদ্ধে দুটি আগ্রাসী যুদ্ধ চালানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলাকালেও আমরা অবৈধ হামলার শিকার হয়েছি। তাই আমরা বিচক্ষণতার সঙ্গে এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হচ্ছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা। ইরান এই বিষয়ের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছি, যার মধ্যে লেবাননও রয়েছে।’