লোকসমাচার ডেস্ক:পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি আলোচনা। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার পরপরই এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্য জেরুজালেম পোস্টের খবরে জানানো হয়েছে এমন তথ্য।
রোববার (১২ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাস্ট দ্য নিউজের একটি নিবন্ধ শেয়ার করেন ট্রাম্প। পোস্টে তিনি ইঙ্গিত দেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব করতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে পাল্টা অবরোধ আরোপ করতে পারে।
ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন খুব সহজেই এই প্রণালির যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
এর আগে গত শনিবার এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, চীন, জাপান ও জার্মানির মতো দেশগুলোর ওপর ‘করুণা’ করে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকা থেকে মাইন অপসারণ শুরু করেছে। কারণ ওই দেশগুলোর এই কাজ করার মতো সাহস নেই।
এদিকে ইসলামাবাদে লম্বা বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাবটি টেবিলে তুলেছি এবং যথেষ্ট নমনীয়তা দেখিয়েছি। এখন দেখার বিষয় ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’
অন্যদিকে, ইরানি প্রতিনিধিদল এই বৈঠককে ‘অবিশ্বাসের পরিবেশে’ হওয়া আলোচনা বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটন আলোচনার টেবিলে নমনীয়তার যে দাবি করছে তা ভিত্তিহীন।
পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিই এখন দুই দেশের সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা চলাকালীন মার্কিন কয়েকটি রণতরি প্রণালিটি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে।
ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, তেহরানের অনুমতি ছাড়া কোনো বিদেশি জাহাজ এই জলসীমায় প্রবেশ করলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে আলোচনায় বসার জন্য উভয়পক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। একইসঙ্গে বড় কোনো সংঘাত এড়াতে চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত উভয়পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে তারা।



























