ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতার ও ইসরায়েলে নতুন করে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

  • আপডেট সময়: ০২:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • ১৮১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আক্ষরিক অর্থেই আগুনের গোলার দখলে চলে গেছে এবং যুদ্ধের দাবানল হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। শনিবারের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার (১ মার্চ) সকালে কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে পুরো শহর।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দোহার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অন্তত ১১টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলায় দেশটিতে নতুন করে আরও আটজন নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কাতারে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রাজধানী দোহার বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে কিছু ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে।

এদিকে যুদ্ধের আগুনের আঁচ কেবল কাতারেই সীমাবদ্ধ নেই; রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়েও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাইয়ের আকাশে বেশ কয়েকটি ‘জোরালো’ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর ফলে দুবাইয়ের জনবহুল এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুরো আমিরাত এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বিদেশি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। রোববার সকাল থেকেই তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে একাধিক বিমান হামলার আশঙ্কায় সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজতে শুরু করেছে।

আইডিএফ বা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তারা তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ। জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কাতার ও ইসরায়েলে নতুন করে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

আপডেট সময়: ০২:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন আক্ষরিক অর্থেই আগুনের গোলার দখলে চলে গেছে এবং যুদ্ধের দাবানল হু হু করে ছড়িয়ে পড়ছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। শনিবারের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার (১ মার্চ) সকালে কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে পুরো শহর।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দোহার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অন্তত ১১টি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটেছে।

কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই হামলায় দেশটিতে নতুন করে আরও আটজন নাগরিক গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কাতারে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রাজধানী দোহার বিভিন্ন এলাকায় সীমিত আকারে কিছু ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ করছে।

এদিকে যুদ্ধের আগুনের আঁচ কেবল কাতারেই সীমাবদ্ধ নেই; রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়েও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাইয়ের আকাশে বেশ কয়েকটি ‘জোরালো’ বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এর ফলে দুবাইয়ের জনবহুল এলাকাগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পুরো আমিরাত এখন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বিদেশি নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় চলাফেরা সীমিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। রোববার সকাল থেকেই তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে একাধিক বিমান হামলার আশঙ্কায় সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজতে শুরু করেছে।

আইডিএফ বা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ধেয়ে আসা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে তারা তাদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং ‘অ্যারো’ ব্যবহার করছে।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জেরে হঠাৎই ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে যৌথ এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ। জবাবে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরানও। ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা করে যাচ্ছে দেশটি।