ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আরো ২টি মিসাইলের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

  • আপডেট সময়: ০৬:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০১৯
  • ১৩৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া আরো দু’টি মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে, যা দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তাদের চতুর্থ মিসাইল উৎক্ষেপণ বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মিসাইলগুলো কী ধরণের- তা শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ হুয়াংহে অঞ্চল থেকে উপদ্বীপ পার করে পূর্বে সমুদ্রের দিকে উৎক্ষেপণ করা হয় মিসাইলগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা করছে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোমবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়।

মূল মহড়া ১১ই অগাস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত ছোট পরিসরে মহড়া চলছে। উত্তর কোরিয়া এর আগে দাবি করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের মধ্যে হওয়া সমঝোতার লঙ্ঘন করে এই সামরিক মহড়া।

মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘কূটকৌশলের মাধ্যমে’ দু’দেশের সামরিক মহড়াকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার চেষ্টা করছে। ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দু’দেশের ‘আগ্রাসী চরিত্র’ লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আলোচনার সমঝোতার ‘সরাসরি অস্বীকৃতি এবং ঘোরতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই সামরিক মহড়ার সমালোচনা করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে সতর্কবার্তা দেয়া হয় যে, “আমরা এরই মধ্যে একাধিকবার সতর্ক করেছি যে, উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কে অবনতি ঘটাবে। এর ফলে আগে আমরা যেসব বড় পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলোও পুনর্বিবেচনা করার মত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং একের পর এক মিসাইল পরীক্ষার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে।

সাম্প্রতিক মিসাইল পরীক্ষাগুলো
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া যেসব মিসাইল পরীক্ষা করেছে সেগুলো ছোট পরিসরের ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা ৩৭ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যেসব মিসাইল পরীক্ষা করেছে তা নতুন ধরণের ছোট পরিসরের মিসাইল। গত শুক্রবার দু’টি মিসাইল জাপান সাগরে নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর যুগ্ম প্রধান।

তিনি বলেছেন, মিসাইলগুলো অনেক নীচ দিয়ে ভ্রমণ করেছে এবং প্রায় ২২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের মতে, ঐ মিসাইলগুলো অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করেছে।

বুধবার উত্তর কোরিয়া দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে যেগুলো ৩০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জাপান সাগরে পড়ে। ২৫শে জুলাই উত্তর কোরিয়া আরো দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করে যেগুলোর একটি ৬৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের জুন মাসের সাক্ষাতের পর ২৫শে জুলাই প্রথম মিসাইল পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। জুন মাসের সাক্ষাতে দুই নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম বন্ধের আলোচনা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে একমত হন। সূত্র : বিবিসি

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

আরো ২টি মিসাইলের পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া

আপডেট সময়: ০৬:০৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: উত্তর কোরিয়া আরো দু’টি মিসাইল উৎক্ষেপণ করেছে, যা দুই সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে তাদের চতুর্থ মিসাইল উৎক্ষেপণ বলে দাবি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে মিসাইলগুলো কী ধরণের- তা শনাক্ত করা যায়নি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এক বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ হুয়াংহে অঞ্চল থেকে উপদ্বীপ পার করে পূর্বে সমুদ্রের দিকে উৎক্ষেপণ করা হয় মিসাইলগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে আলোচনা করছে। উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সোমবার শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ সামরিক মহড়ার বিষয়ে উষ্মা প্রকাশ করা হয়।

মূল মহড়া ১১ই অগাস্ট থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত ছোট পরিসরে মহড়া চলছে। উত্তর কোরিয়া এর আগে দাবি করেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইনের মধ্যে হওয়া সমঝোতার লঙ্ঘন করে এই সামরিক মহড়া।

মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ‘কূটকৌশলের মাধ্যমে’ দু’দেশের সামরিক মহড়াকে গ্রহণযোগ্যতা দেয়ার চেষ্টা করছে। ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, দু’দেশের ‘আগ্রাসী চরিত্র’ লুকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া আলোচনার সমঝোতার ‘সরাসরি অস্বীকৃতি এবং ঘোরতর লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই সামরিক মহড়ার সমালোচনা করা হয় বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে সতর্কবার্তা দেয়া হয় যে, “আমরা এরই মধ্যে একাধিকবার সতর্ক করেছি যে, উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কে অবনতি ঘটাবে। এর ফলে আগে আমরা যেসব বড় পদক্ষেপ নিয়েছি, সেগুলোও পুনর্বিবেচনা করার মত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”

পিয়ংইয়ংয়ের পরমাণু অস্ত্র তৈরি এবং একের পর এক মিসাইল পরীক্ষার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে।

সাম্প্রতিক মিসাইল পরীক্ষাগুলো
দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া যেসব মিসাইল পরীক্ষা করেছে সেগুলো ছোট পরিসরের ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা ৩৭ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ৪৫০ কিলোমিটার অতিক্রম করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, গত কয়েক সপ্তাহে উত্তর কোরিয়া যেসব মিসাইল পরীক্ষা করেছে তা নতুন ধরণের ছোট পরিসরের মিসাইল। গত শুক্রবার দু’টি মিসাইল জাপান সাগরে নিক্ষেপ করা হয় বলে দাবি করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর যুগ্ম প্রধান।

তিনি বলেছেন, মিসাইলগুলো অনেক নীচ দিয়ে ভ্রমণ করেছে এবং প্রায় ২২০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। বিশ্লেষকদের মতে, ঐ মিসাইলগুলো অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে ভ্রমণ করেছে।

বুধবার উত্তর কোরিয়া দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করেছে যেগুলো ৩০ কিলোমিটার উচ্চতা দিয়ে ২৫০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে জাপান সাগরে পড়ে। ২৫শে জুলাই উত্তর কোরিয়া আরো দু’টি মিসাইল নিক্ষেপ করে যেগুলোর একটি ৬৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-আনের জুন মাসের সাক্ষাতের পর ২৫শে জুলাই প্রথম মিসাইল পরীক্ষা করে উত্তর কোরিয়া। জুন মাসের সাক্ষাতে দুই নেতা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম বন্ধের আলোচনা নতুন করে শুরু করার বিষয়ে একমত হন। সূত্র : বিবিসি