ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় চার বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার

  • আপডেট সময়: ০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • ১৪৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : কানাডার টরন্টো শহরের মারখাম এলাকার ক্যাসেলমোর অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসা থেকে গত রোববার চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় ইয়র্ক রিজিওনাল পুলিশ। এরা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে।

হত্যার শিকার চার ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মুনির, তাঁর স্ত্রী মুক্তা জামান, মেয়ে মিকা ও মুনিরের শাশুড়ি। শাশুড়ির নাম জানা যায়নি।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ বাসার সামনে থেকে ২৩ বছর বয়সী মিনহাজ জামানকে গ্রেপ্তার করেছে। মিনহাজ জামান মুনির-মুক্তা জামান দম্পতির একমাত্র ছেলে।

গ্রেপ্তার মিনহাজ জামানের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার তাঁকে ইয়র্কের নিউমার্কেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আগামী ২ আগস্ট মিনহাজ জামানকে আবার আদালতে হাজির করার কথা।

ইয়র্ক পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ৩টায় তাদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, মারখামের ক্যাসেলমোর অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়িতে কিছু মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছেন। এ খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারজনকে পড়ে থাকতে দেখে। এঁদের কেউ তখন আর বেঁচে নেই। তবে কে, কোন জায়গা থেকে ৯১১ নম্বরে ফোন দিয়েছিল, তা জানাতে অস্বীকার করে পুলিশ।

প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, মিনহাজ জামান ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। তিনি স্বল্পভাষী এবং সব সময় শান্তশিষ্ট থাকতে ভালোবাসেন। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গত রোববার বাবা, মা, নানি ও ছোট বোনকে হত্যা করেন। এরপরই ‘পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড ভয়েড’ (Perfect World Void) নামের অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি গেমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান।

স্থানীয় গণমাধ্যমে মিনহাজ জামানের গেমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পোস্টটির স্ক্রিনশটে দেখানো হয়। তাতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মিনহাজ লিখেছেন, তিনি বাবা, মা, বোন এবং নানিকে হত্যা করেছেন। এক বছর ধরে এ ধরনের পোস্ট দিয়ে আসছিলেন তিনি। তাই মিনহাজ জামানের এ পোস্টটি কেউ বিশ্বাস করেননি। পোস্টে হতাশার কথাও লিখে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার পর তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। পরে নাস্তিকতায় পেয়ে যায় তাঁকে। ওই সময় থেকে তিন এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে থাকেন।

ধারণা করা হচ্ছে, গেম খেলার সময় অপর প্রান্তে মিনহাজ জামানের সঙ্গে খেলতে থাকা বন্ধুটি হত্যার খবর পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বাড়ির সামনে থেকে অভিযুক্ত হিসেবে মিনহাজ জামানকে গ্রেপ্তার করে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কানাডায় চার বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার

আপডেট সময়: ০৭:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : কানাডার টরন্টো শহরের মারখাম এলাকার ক্যাসেলমোর অ্যাভিনিউয়ের একটি বাসা থেকে গত রোববার চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় ইয়র্ক রিজিওনাল পুলিশ। এরা সবাই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলে জানা গেছে।

হত্যার শিকার চার ব্যক্তি হলেন মোহাম্মদ মুনির, তাঁর স্ত্রী মুক্তা জামান, মেয়ে মিকা ও মুনিরের শাশুড়ি। শাশুড়ির নাম জানা যায়নি।

এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে পুলিশ বাসার সামনে থেকে ২৩ বছর বয়সী মিনহাজ জামানকে গ্রেপ্তার করেছে। মিনহাজ জামান মুনির-মুক্তা জামান দম্পতির একমাত্র ছেলে।

গ্রেপ্তার মিনহাজ জামানের বিরুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের খুনের অভিযোগ এনেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার তাঁকে ইয়র্কের নিউমার্কেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আগামী ২ আগস্ট মিনহাজ জামানকে আবার আদালতে হাজির করার কথা।

ইয়র্ক পুলিশ জানায়, রোববার বেলা ৩টায় তাদের কাছে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, মারখামের ক্যাসেলমোর অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়িতে কিছু মানুষ আহত হয়ে পড়ে আছেন। এ খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চারজনকে পড়ে থাকতে দেখে। এঁদের কেউ তখন আর বেঁচে নেই। তবে কে, কোন জায়গা থেকে ৯১১ নম্বরে ফোন দিয়েছিল, তা জানাতে অস্বীকার করে পুলিশ।

প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা যায়, মিনহাজ জামান ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। তিনি স্বল্পভাষী এবং সব সময় শান্তশিষ্ট থাকতে ভালোবাসেন। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েন। গত রোববার বাবা, মা, নানি ও ছোট বোনকে হত্যা করেন। এরপরই ‘পারফেক্ট ওয়ার্ল্ড ভয়েড’ (Perfect World Void) নামের অ্যাডভেঞ্চার ফ্যান্টাসি গেমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানান।

স্থানীয় গণমাধ্যমে মিনহাজ জামানের গেমের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের পোস্টটির স্ক্রিনশটে দেখানো হয়। তাতে দেখা যায়, অভিযুক্ত মিনহাজ লিখেছেন, তিনি বাবা, মা, বোন এবং নানিকে হত্যা করেছেন। এক বছর ধরে এ ধরনের পোস্ট দিয়ে আসছিলেন তিনি। তাই মিনহাজ জামানের এ পোস্টটি কেউ বিশ্বাস করেননি। পোস্টে হতাশার কথাও লিখে তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার পর তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। পরে নাস্তিকতায় পেয়ে যায় তাঁকে। ওই সময় থেকে তিন এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে থাকেন।

ধারণা করা হচ্ছে, গেম খেলার সময় অপর প্রান্তে মিনহাজ জামানের সঙ্গে খেলতে থাকা বন্ধুটি হত্যার খবর পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ বাড়ির সামনে থেকে অভিযুক্ত হিসেবে মিনহাজ জামানকে গ্রেপ্তার করে।