লোকসমাচার ডেস্ক : বিনা দোষে ২৪ বছর ধরে কারাবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন তিন কাশ্মীরি। তারা হলেন লতিফ আহমেদ, মির্জা নিসার হুসেন এবং মহম্মদ আলি বাট। বুধবার ওই তিন কাশ্মীরিকে মুক্তি দিয়েছে দিল্লি ও রাজস্থান হাইকোর্ট। তাদের মুক্তির খবর পেয়েই শ্রীনগর জুড়ে শুরু হয়েছে উল্লাস।
দিল্লির লাজপত নগর বাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই তিন কাশ্মীরিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। ১৯৯৬ সালের ২১ মে-র ওই বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হন।
এই হামলার ঘটনার আগেই অস্ত্র ও বিস্ফোরক জোগাড়ে ওই তিনজনের হাত রয়েছে বলে মামলা দায়ের করে পুলিশ। ফলে নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও প্রথমে জয়পুর এবং তার পরে তিহাড় জেলে কমপক্ষে ২৪ বছর কাটিয়েছেন শ্রীনগরের তিন বাসিন্দা লতিফ, মির্জা এবং মহম্মদ।
সম্প্রতি রাজস্থান হাইকোর্ট এক রায়ে জানায়, অস্ত্র জোগাড়ে ওই তিন যুবকের জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। অবিলম্বে যেন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। দিল্লি হাইকোর্টও একই রায় দেয়।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বুধবারই বাড়ি ফিরেছেন এই তিনজন। তবে এত বছর পরিবার-বন্ধুবান্ধব বিচ্ছিন্ন এই তিনজনেরই এখন খুব কাছের মানুষদেরও অচেনা লাগছে।
শ্রীনগরের শামসওয়ারি এলাকায় থাকে লতিফের পরিবার। তার ফেরার খবর পেয়ে বাড়িতে ভিড় করেছেন বহু আত্মীয় আর বন্ধুরা। সঙ্গে ফুলের তোড়া, মালা, মিষ্টি। জেলে বন্দি থাকাকালীন একবার লতিফকে দেখে ফেরার পথে মৃত্যু হয় তার বাবার। এত বছর পরে জঙ্গি অপবাদ থেকে মুক্ত ছেলেকে ফিরে পেয়ে এক নাগাড়ে কেঁদে চলেছেন তাঁর মা। তিনি বললেন, ‘সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। সব শুনানির পরেই বলা হত, এর পরে আরও শুনানি আছে। আল্লাহ ছাড়া আর কারও উপরে ভরসা ছিল না।’
লতিফের দাবি, তার মতো আরও অনেক কাশ্মীরিকেই বিনা দোষে জয়পুরের জেলে বন্দি থাকতে হচ্ছে। বললেন, ‘মনে হচ্ছে দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখছিলাম। এত দিনে জীবন ফিরে পেলাম।’
জেলে থাকাকালীন মহম্মদ আলি বাটের বাবা-মা দু’জনেই মারা গিয়েছেন। হাসান্নাবাদের বাড়িতে পরিবারের বাকিরা তাকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন। মহম্মদের কথায়, ‘নেপাল থেকে প্রথমে আটক করা হয়েছিল আমাকে। কার্পেট বেচতাম ওখানে। গ্রেফতারির পরে জেল হয়। ভেবেছিলাম জীবদ্দশায় হয়তো পরিবারের বাকিদের আর দেখতে পাব না। আল্লাহর রহমতে আবার সবাইকে দেখতে পাচ্ছি। তবে অনেককেই এখন অচেনা লাগছে।’
মির্জার দাবি, তাকেও নেপাল থেকে ধরা হয়েছিল। তখন তার বয়স সতেরো। আজ ফতেহ কাদাল এলাকায় তার বাড়িতেও উপচে পড়ছে ভিড়। মির্জার বক্তব্য, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা নির্দোষ প্রমাণিত হলাম। চব্বিশ বছর বিনা অপরাধে জেলে আটক থেকেছি। সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এতগুলো বছর আল্লাহর ওপর আস্থা রেখেছি।’


























