লোকসমাচার বিশেষ প্রতিনিধি:ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ইউনূস সরকারের সাম্প্রতিক একাধিক বৈঠক এবং সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বাংলাদেশ কি এখনো ভারতের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে? জাতীয় যুবশক্তি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সংগঠক সজীব হাসান এই প্রেক্ষাপটে বলেন, “আওয়ামী লীগের টানা ১৭ বছরের শাসনামলে যে ভারতের আধিপত্যমূলক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, বর্তমান সময়েও তার মৌলিক কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।”
এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডেকে এনে নাস্তা বা কফি বৈঠকের মাধ্যমে যে কূটনৈতিক সৌজন্য প্রদর্শন করা হচ্ছে, তা বাস্তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো কার্যকর অবস্থানে রূপ নিচ্ছে না। এসব বৈঠক আলোচনার চেয়ে বেশি প্রতীকী, সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি আনুষ্ঠানিক।”
সজীব হাসান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি বণ্টন, বাণিজ্য ভারসাম্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, “ভারত যেখানে নিজের স্বার্থে আপসহীন, সেখানে বাংলাদেশকে বছরের পর বছর ধরে আপসের রাজনীতিতে আটকে রাখা হয়েছে। এই বাস্তবতা এখনো বহাল রয়েছে, কেবল সরকারের নাম পরিবর্তন হলেও নীতির পরিবর্তন চোখে পড়ছে না।”
বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সজীব হাসান বলেন, “জনগণ আশা করেছিল রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কূটনীতিতেও দৃঢ়তা আসবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এখনো সৌজন্যের আবরণে ঢাকা একপাক্ষিক নির্ভরতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরোধিতা নয়, বরং সমতা, মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক কূটনীতি চায়। ১৭ বছরের জমে থাকা আধিপত্য যদি ভাঙতে না পারি, তাহলে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব কেবল সংবিধানের পাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।”
সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “লোক দেখানো কূটনীতি নয়, সময় এসেছে স্পষ্ট অবস্থান, স্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং আঞ্চলিক সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের।”


























