ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে দলিলে সইয়ের চেষ্টা, জানা গেল মেয়ের পরিচয়

  • আপডেট সময়: ১০:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে হাসপাতালের শয্যায় বসে জমি-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীর পরিচয়ও প্রকাশ্যে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি বেডে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় তার পাশে থাকা এক নারী জমি-সংক্রান্ত একটি কাগজে তার স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিও ধারণকারী নারী ওই বৃদ্ধের মেয়েকে হাসপাতালে দলিল নিয়ে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথোপকথন হয় এবং বৃদ্ধের মেয়ে ভিডিও ধারণকারী নারীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলছেন- এমন কথাও ভিডিওতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়, সেখানে থাকা নারী ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন চিকিৎসক এবং তার শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে- এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস (গাইনী অ্যান্ড অবস)। তিনি গাইনী ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন অথবা আছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে রোগী দেখেন বলে প্রচারিত তথ্য থেকে জানা যায়। সেখানে প্রতি শনিবার, সোমবার ও বুধবার তার রোগী দেখার সময় নির্ধারিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে জানতে আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মী কথা বলেন। পরে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে ফোনটি হস্তান্তর করেন।

প্রতিষ্ঠানটির ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেনের বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। এ কারণে তিনি চিকিৎসকটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনাটিকে অনৈতিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে, একজন অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে হাসপাতালের বেডে বসে সম্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং এ ধরনের নথি সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, দলিলটির প্রকৃতি, স্বাক্ষর নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের আইনগত বা প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

হাসপাতালে বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে দলিলে সইয়ের চেষ্টা, জানা গেল মেয়ের পরিচয়

আপডেট সময়: ১০:১৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন এক বৃদ্ধ বাবার কাছ থেকে হাসপাতালের শয্যায় বসে জমি-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরই মধ্যে ভিডিওতে দেখা যাওয়া নারীর পরিচয়ও প্রকাশ্যে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি বেডে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন। এ সময় তার পাশে থাকা এক নারী জমি-সংক্রান্ত একটি কাগজে তার স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

ভিডিও ধারণকারী নারী ওই বৃদ্ধের মেয়েকে হাসপাতালে দলিল নিয়ে আসার বিষয়ে প্রশ্ন করেন। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে কথোপকথন হয় এবং বৃদ্ধের মেয়ে ভিডিও ধারণকারী নারীকে সেখান থেকে চলে যেতে বলছেন- এমন কথাও ভিডিওতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করা হয়, সেখানে থাকা নারী ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন চিকিৎসক এবং তার শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে- এমবিবিএস (ঢাকা), বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও এফসিপিএস (গাইনী অ্যান্ড অবস)। তিনি গাইনী ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন হিসেবে পরিচিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেন মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন অথবা আছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে রোগী দেখেন বলে প্রচারিত তথ্য থেকে জানা যায়। সেখানে প্রতি শনিবার, সোমবার ও বুধবার তার রোগী দেখার সময় নির্ধারিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে জানতে আফ্রজা বেগম ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের একজন নারী কর্মী কথা বলেন। পরে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে তিনি একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে ফোনটি হস্তান্তর করেন।

প্রতিষ্ঠানটির ওই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ডা. ফারিয়া আঞ্জুমান হোসেনের বিষয়ে কোনো ধরনের তথ্য দেওয়ার ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নিষেধ রয়েছে। এ কারণে তিনি চিকিৎসকটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনাটিকে অনৈতিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে, একজন অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে হাসপাতালের বেডে বসে সম্পত্তি-সংক্রান্ত কোনো দলিলে স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং এ ধরনের নথি সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, দলিলটির প্রকৃতি, স্বাক্ষর নেওয়ার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা কর্মকাণ্ডের আইনগত বা প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।