ঢাকা ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর গায়ে দুর্গন্ধ, বিচ্ছেদের আবেদন

  • আপডেট সময়: ১১:১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০
  • ১২৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : স্বামী নিয়মিত গোসল করেন না। শেভ করেন না। এমনকি দাঁতে ব্রাশ করেন না। ফলে তার গায়ে মারাত্মক দুর্গন্ধ। এ ছাড়া তিনি স্ত্রীর সঙ্গে শিষ্টাচার ও স্বাভাবিক ব্যবহারও করেন না। এ জন্য ২০ বছর বয়সী এক যুবতী বধু স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চেয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায়। ওই যুবতীর নাম সোনি দেবি।

তার স্বামী মানিশ রাম (২৩)। সোনি দেবির অভিযোগ শুনেছে রাজ্যের নারী বিষয়ক কমিশন। তারা মানিশ রামকে দু’মাসের সময় দিয়েছে তাকে সংশোধিত হতে। অন্যথায় অভিযোগের ভিত্তিতে নারী কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, রাজ্যের নারী কমিশনের সদস্য প্রতীমা সিনহা শুক্রবার বলেছেন, বৈশালি জেলার দেসরি ব্লকে নয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সোনি দেবী। তিনি গত বৃহস্পতিবার কমিশনের সামনে হাজির হয়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চান।

আবেদনে সোনি দেবী বলেছেন, ২০১৭ সালে তিনি মানিশের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মানিশ পেশায় একজন সুতার। সোনি দেবী বলেন, আমার স্বামী একটানা ১০ দিন গোসল না করে এবং শেভ না করে থাকেন। এমনকি দাঁতে ব্রাশ করেন না। এ জন্য তার সঙ্গে উৎকট গন্ধ। নারী কমিশনের সদস্য বলেছেন, ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবিতে অনড়। তার দাবি, আমি ওই স্বামীর সঙ্গে আর বসবাস করতে চাই না। আর অবমাননা সহ্য করতে পারছি না। দয়া করে আমাকে এই ব্যক্তির হাত থেকে রেহাই দিন। তিনি আমার জীবনকে শেষ করে দিয়েছেন।

একই আবেদনে সোনি দেবী তার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ফেরত দেয়ার আবেদন করেছেন। বলেছেন, এসব বিয়ের সময় তার পিতামাতা দিয়েছিলেন। সোনি দেবীর ভাষায়, আমাদের কোনো ছেলেমেয়ে নেই। এমনকি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের সম্পর্ক আন্তরিক নয়। জীবনের কোনো অর্থই নেই সেখানে। সোনি দেবী তবু তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাই প্রতীমা সিনহা বলেছেন, আমরা তার স্বামীকে সংশোধন হওয়ার জন্য দু’মাস সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে যদি সন্তোষজনকভাবে তার আচরণে পরিবর্তন পাওয়া না যায়, তাহলে বিচ্ছেদের বিষয়টি পারিবারিক আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মানিশ বলেছেন, আমরা একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সময় তাকে বেশ নার্ভাস মনে হয়। প্রতিশ্রুতি দেন, স্ত্রীর আস্থা অর্জনের জন্য তিনি আচরণ পরিবর্তন করবেন। প্রতীমা সিনহা বলেন, সোনি দেবী কোনো বড় শিক্ষিত মেয়ে নন। তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত শিডিউল কাস্ট পরিবারের সন্তান। তবে চারদিকে যা ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি অবহিত এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

স্বামীর গায়ে দুর্গন্ধ, বিচ্ছেদের আবেদন

আপডেট সময়: ১১:১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : স্বামী নিয়মিত গোসল করেন না। শেভ করেন না। এমনকি দাঁতে ব্রাশ করেন না। ফলে তার গায়ে মারাত্মক দুর্গন্ধ। এ ছাড়া তিনি স্ত্রীর সঙ্গে শিষ্টাচার ও স্বাভাবিক ব্যবহারও করেন না। এ জন্য ২০ বছর বয়সী এক যুবতী বধু স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চেয়েছেন। এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনায়। ওই যুবতীর নাম সোনি দেবি।

তার স্বামী মানিশ রাম (২৩)। সোনি দেবির অভিযোগ শুনেছে রাজ্যের নারী বিষয়ক কমিশন। তারা মানিশ রামকে দু’মাসের সময় দিয়েছে তাকে সংশোধিত হতে। অন্যথায় অভিযোগের ভিত্তিতে নারী কমিশন যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। এ খবর দিয়ে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, রাজ্যের নারী কমিশনের সদস্য প্রতীমা সিনহা শুক্রবার বলেছেন, বৈশালি জেলার দেসরি ব্লকে নয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা সোনি দেবী। তিনি গত বৃহস্পতিবার কমিশনের সামনে হাজির হয়ে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ চান।

আবেদনে সোনি দেবী বলেছেন, ২০১৭ সালে তিনি মানিশের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মানিশ পেশায় একজন সুতার। সোনি দেবী বলেন, আমার স্বামী একটানা ১০ দিন গোসল না করে এবং শেভ না করে থাকেন। এমনকি দাঁতে ব্রাশ করেন না। এ জন্য তার সঙ্গে উৎকট গন্ধ। নারী কমিশনের সদস্য বলেছেন, ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের দাবিতে অনড়। তার দাবি, আমি ওই স্বামীর সঙ্গে আর বসবাস করতে চাই না। আর অবমাননা সহ্য করতে পারছি না। দয়া করে আমাকে এই ব্যক্তির হাত থেকে রেহাই দিন। তিনি আমার জীবনকে শেষ করে দিয়েছেন।

একই আবেদনে সোনি দেবী তার স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ফেরত দেয়ার আবেদন করেছেন। বলেছেন, এসব বিয়ের সময় তার পিতামাতা দিয়েছিলেন। সোনি দেবীর ভাষায়, আমাদের কোনো ছেলেমেয়ে নেই। এমনকি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আমাদের সম্পর্ক আন্তরিক নয়। জীবনের কোনো অর্থই নেই সেখানে। সোনি দেবী তবু তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন। তাই প্রতীমা সিনহা বলেছেন, আমরা তার স্বামীকে সংশোধন হওয়ার জন্য দু’মাস সময় দিয়েছি। এ সময়ের মধ্যে যদি সন্তোষজনকভাবে তার আচরণে পরিবর্তন পাওয়া না যায়, তাহলে বিচ্ছেদের বিষয়টি পারিবারিক আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মানিশ বলেছেন, আমরা একসঙ্গে বসবাস করতে চাই। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এ সময় তাকে বেশ নার্ভাস মনে হয়। প্রতিশ্রুতি দেন, স্ত্রীর আস্থা অর্জনের জন্য তিনি আচরণ পরিবর্তন করবেন। প্রতীমা সিনহা বলেন, সোনি দেবী কোনো বড় শিক্ষিত মেয়ে নন। তিনি নিম্ন মধ্যবিত্ত শিডিউল কাস্ট পরিবারের সন্তান। তবে চারদিকে যা ঘটছে সে সম্পর্কে তিনি অবহিত এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে জানেন।