ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুপ্রিম কোর্টের সামনে পুলিশ-বিএনপি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ব্যাপক সংঘর্ষ-ভাঙচুর

  • আপডেট সময়: ০৪:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৯
  • ১১৯ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে একটি বিশাল মিছিল হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয় ও হাইকোটের সামনে অবস্থান নেয়।

প্রায় শোয়া ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে চায়। এসময় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে তাকে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা প্রায় ৩০টির মত গাড়ি ভাঙচুর করে।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানসহ ছাত্র ও যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয়। এর কিছুক্ষণ পরই মিছিলটি হাইকোর্টের দ্বিতীয় গেটে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় হাইকোর্ট থেকেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীসহ অনেকেই মিছিলে যোগ দেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে নোমান বলেন, ‘আমরা কোনও অসাংবিধানিক কাজ করছি না। দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘর ছেড়ে আজ রাজপথে নেমেছে। রাজপথই আমাদের ঠিকানা। যতক্ষণ পারি ততক্ষণ অবস্থান করবো। পুলিশ যেন আমাদেরকে উস্কানি না দেয়।’

তার এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরাও চড়াও হলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

গেল রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘মিছিল-সমাবেশ করতে আর কখনও বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি চাইবে না। আমরা আমাদের যখন খুশি তখন সমাবেশ করবো। এটা আমাদের অধিকার, সংবিধান অনুযায়ী অধিকার। তাই সকলকে দল-মত নির্বিশেষে সামনের দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

মির্জা ফখরুলের সেই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোনও ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নামলো বিএনপি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

সুপ্রিম কোর্টের সামনে পুলিশ-বিএনপি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ব্যাপক সংঘর্ষ-ভাঙচুর

আপডেট সময়: ০৪:১১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে রাজধানীর হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর প্রেসক্লাব থেকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে একটি বিশাল মিছিল হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয় ও হাইকোটের সামনে অবস্থান নেয়।

প্রায় শোয়া ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশ টিয়ারসেল নিক্ষেপ শুরু করে এবং নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে চায়। এসময় নেতাকর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে তাকে। বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা প্রায় ৩০টির মত গাড়ি ভাঙচুর করে।

নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানসহ ছাত্র ও যুবদলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

এর আগে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে হাইকোর্টের দিকে অগ্রসর হয়। এর কিছুক্ষণ পরই মিছিলটি হাইকোর্টের দ্বিতীয় গেটে গিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় হাইকোর্ট থেকেও বিএনপিপন্থি আইনজীবীসহ অনেকেই মিছিলে যোগ দেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে নোমান বলেন, ‘আমরা কোনও অসাংবিধানিক কাজ করছি না। দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঘর ছেড়ে আজ রাজপথে নেমেছে। রাজপথই আমাদের ঠিকানা। যতক্ষণ পারি ততক্ষণ অবস্থান করবো। পুলিশ যেন আমাদেরকে উস্কানি না দেয়।’

তার এই বক্তব্য শেষ হতে না হতেই টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে পুলিশ। তখন বিএনপি নেতাকর্মীরাও চড়াও হলে ব্যাপক সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

গেল রবিবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, ‘মিছিল-সমাবেশ করতে আর কখনও বিএনপি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি চাইবে না। আমরা আমাদের যখন খুশি তখন সমাবেশ করবো। এটা আমাদের অধিকার, সংবিধান অনুযায়ী অধিকার। তাই সকলকে দল-মত নির্বিশেষে সামনের দিনগুলোতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করতে হবে।’

মির্জা ফখরুলের সেই ঘোষণার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই কোনও ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাজার হাজার নেতাকর্মী নিয়ে ঢাকার রাজপথ দখলে নামলো বিএনপি।