ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বিপাকে কঙ্গনা

  • আপডেট সময়: ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
  • ১৩৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিগত কারণে নানা সময়েই আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। বলিউডের কুইনখ্যাত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবার এক সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মুম্বাই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

কঙ্গনার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের অভিযোগ, কঙ্গনা রানাওয়াত গত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শিবসেনাকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলেন।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি একজন বিজেপি সমর্থক হয়েও ভোট দিতে চাননি শিবসেনাকে। তাকে অনেকটা জোর করে ভোট দিতে হয়েছিল।

তবে বিবৃতিতে সাংবাদিক কমলেশ সুতার বলেন, ‘কঙ্গনা নিজেই বান্দ্রা পশ্চিম আসনের ভোটার। এই আসনটি বিজেপি প্রার্থী আশীষ শেলার এবং বিজেপির পুনম মহাজন লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদি তিনি বলেন যে, তিনি ২০১৪ সালের কথা বলছেন, তবে আবার বিজেপি-সেনা লোকসভায় বিজেপির সাথে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তাই স্পষ্টই বোঝা যায়, বিধানসভা নির্বাচনে তার বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার বিকল্প ছিল। কারণ উভয় দলই আলাদাভাবে লড়াই করেছিল।’

আর সাংবাদিকের এই টুইটের পরেই চটে যান কঙ্গনা, ফিরতি টুইটে তিনি লিখেন, ‘আপনি ভুল। আপনি ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। আপনাকে শিগগিরই আমি আইনি নোটিশ পাঠাবো। আদালতে আপনাকে অবশ্যই আপনার কথাগুলো প্রমাণ করতে হবে। আপনার জেলও হতে পারে এই মিথ্যা তথ্যের জন্য। আপনার এই স্বস্তা ট্রলের মূল্য আপনাকে দিতে হবে।’

এরপরি সাংবাদিক কমলেশ সেই টুইট শেয়ার করেন। সেটি মুম্বাই প্রেসক্লাবের নজরে এলে তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে এবং কঙ্গনার বক্তব্যের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছে। এরপরই কঙ্গনা তার টুইটটি মুছে পেলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন কঙ্গনা। অনেকেই লিখছেন, সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে নিজেই ভয় পেয়ে গেছেন কঙ্গনা।

এদিকে কমলেশকে থ্রেট দিয়ে কঙ্গনার টুইটের স্ক্রিনশট রয়ে গেছে মুম্বাই প্রেসক্লাবের কাছে। তারা দাবি জানাচ্ছে, এভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে একজন অভিনেত্রীর উদ্ভট মতবাদের জবাব দিতে প্রস্তুত তারা। পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তারা।

এদিকে, সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যু রহস্য ঘিরে প্রথম দিন থেকেই ঝড় তুলেছে কঙ্গনার টুইট। শুরু হয়েছে বিতর্কও। সেই রেশ টেনেই টুইট যুদ্ধে জড়ালেন কঙ্গনা-অনুরাগ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক টুইটে কঙ্গনা লিখেছিলেন, “আমি একজন ক্ষত্রিয়। গর্দান দিতে পারি, কিন্তু মাথা নিচু করতে পারব না। দেশের সম্মানের স্বার্থে সব সময়েই মুখ খুলব। আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে এসেছি এবং গর্বের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী হয়েই বেঁচে থাকব।”

যার জবাবে কটাক্ষ করে অনুরাগ লেখেন, “বোনটি, তুমি একাই! চার-পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সঙ্গে লড়াই করো। দেখ চীন দেশের কতটা ভিতরে ঢুকে পড়েছে। দেখিয়ে দাও তাদেরও যে, যখন তুমি রয়েছ, তখন কেউ ভারতের এক চুলও ক্ষতি করতে পারবে না! তোমার বাড়ি থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওই অঞ্চলে পৌঁছতে মাত্র এক দিন সময় লাগে। যাও বাঘিনী। জয় হিন্দ।”

কটাক্ষের জবাবে কঙ্গনার পাল্টা টুইট, “ঠিক আছে, আমি সীমান্তে যাচ্ছি। আপনিও সামনের বছর অলিম্পিক্স-এ চলে যান, দেশের স্বর্ণপদক প্রয়োজন… আপনি তো দেখছি রূপকেও আক্ষরিক অর্থ খুঁজছেন। এত নির্বোধ হয়ে গিয়েছেন কবে থেকে? আমরা যখন বন্ধু ছিলাম, তখন তো বেশ বুদ্ধিমান ছিলেন!”

এরপর অবশ্য চুপ করে থাকেননি অনুরাগও। তার টুইট, “বোনটি, তোমার জীবনটাই এখন রূপকের রূপ নিয়েছে!”

সঙ্গে রাজনৈতিক খোঁচাও জুড়ে দেন তিনি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বিপাকে কঙ্গনা

আপডেট সময়: ১২:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:অভিনয়ের বাইরে ব্যক্তিগত কারণে নানা সময়েই আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটলো না। বলিউডের কুইনখ্যাত অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত এবার এক সাংবাদিককে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়ে বিপাকে পড়েছেন। মুম্বাই প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা এই অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন।

কঙ্গনার বিরুদ্ধে এক সাংবাদিকের অভিযোগ, কঙ্গনা রানাওয়াত গত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শিবসেনাকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে মিথ্যা বলেছিলেন।সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি একজন বিজেপি সমর্থক হয়েও ভোট দিতে চাননি শিবসেনাকে। তাকে অনেকটা জোর করে ভোট দিতে হয়েছিল।

তবে বিবৃতিতে সাংবাদিক কমলেশ সুতার বলেন, ‘কঙ্গনা নিজেই বান্দ্রা পশ্চিম আসনের ভোটার। এই আসনটি বিজেপি প্রার্থী আশীষ শেলার এবং বিজেপির পুনম মহাজন লোকসভা নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদি তিনি বলেন যে, তিনি ২০১৪ সালের কথা বলছেন, তবে আবার বিজেপি-সেনা লোকসভায় বিজেপির সাথে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। তাই স্পষ্টই বোঝা যায়, বিধানসভা নির্বাচনে তার বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার বিকল্প ছিল। কারণ উভয় দলই আলাদাভাবে লড়াই করেছিল।’

আর সাংবাদিকের এই টুইটের পরেই চটে যান কঙ্গনা, ফিরতি টুইটে তিনি লিখেন, ‘আপনি ভুল। আপনি ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। আপনাকে শিগগিরই আমি আইনি নোটিশ পাঠাবো। আদালতে আপনাকে অবশ্যই আপনার কথাগুলো প্রমাণ করতে হবে। আপনার জেলও হতে পারে এই মিথ্যা তথ্যের জন্য। আপনার এই স্বস্তা ট্রলের মূল্য আপনাকে দিতে হবে।’

এরপরি সাংবাদিক কমলেশ সেই টুইট শেয়ার করেন। সেটি মুম্বাই প্রেসক্লাবের নজরে এলে তারা বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসে এবং কঙ্গনার বক্তব্যের প্রতিবাদে নিন্দা জানিয়েছে। এরপরই কঙ্গনা তার টুইটটি মুছে পেলেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রলের শিকার হচ্ছেন কঙ্গনা। অনেকেই লিখছেন, সাংবাদিককে ভয় দেখিয়ে নিজেই ভয় পেয়ে গেছেন কঙ্গনা।

এদিকে কমলেশকে থ্রেট দিয়ে কঙ্গনার টুইটের স্ক্রিনশট রয়ে গেছে মুম্বাই প্রেসক্লাবের কাছে। তারা দাবি জানাচ্ছে, এভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে একজন অভিনেত্রীর উদ্ভট মতবাদের জবাব দিতে প্রস্তুত তারা। পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে ইতিমধ্যে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তারা।

এদিকে, সুশান্ত সিংহ রাজপুতের মৃত্যু রহস্য ঘিরে প্রথম দিন থেকেই ঝড় তুলেছে কঙ্গনার টুইট। শুরু হয়েছে বিতর্কও। সেই রেশ টেনেই টুইট যুদ্ধে জড়ালেন কঙ্গনা-অনুরাগ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর এক টুইটে কঙ্গনা লিখেছিলেন, “আমি একজন ক্ষত্রিয়। গর্দান দিতে পারি, কিন্তু মাথা নিচু করতে পারব না। দেশের সম্মানের স্বার্থে সব সময়েই মুখ খুলব। আত্মসম্মানের সঙ্গে বেঁচে এসেছি এবং গর্বের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী হয়েই বেঁচে থাকব।”

যার জবাবে কটাক্ষ করে অনুরাগ লেখেন, “বোনটি, তুমি একাই! চার-পাঁচ জনকে সঙ্গে নিয়ে চীনের সঙ্গে লড়াই করো। দেখ চীন দেশের কতটা ভিতরে ঢুকে পড়েছে। দেখিয়ে দাও তাদেরও যে, যখন তুমি রয়েছ, তখন কেউ ভারতের এক চুলও ক্ষতি করতে পারবে না! তোমার বাড়ি থেকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওই অঞ্চলে পৌঁছতে মাত্র এক দিন সময় লাগে। যাও বাঘিনী। জয় হিন্দ।”

কটাক্ষের জবাবে কঙ্গনার পাল্টা টুইট, “ঠিক আছে, আমি সীমান্তে যাচ্ছি। আপনিও সামনের বছর অলিম্পিক্স-এ চলে যান, দেশের স্বর্ণপদক প্রয়োজন… আপনি তো দেখছি রূপকেও আক্ষরিক অর্থ খুঁজছেন। এত নির্বোধ হয়ে গিয়েছেন কবে থেকে? আমরা যখন বন্ধু ছিলাম, তখন তো বেশ বুদ্ধিমান ছিলেন!”

এরপর অবশ্য চুপ করে থাকেননি অনুরাগও। তার টুইট, “বোনটি, তোমার জীবনটাই এখন রূপকের রূপ নিয়েছে!”

সঙ্গে রাজনৈতিক খোঁচাও জুড়ে দেন তিনি।