ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

  • আপডেট সময়: ০৭:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে দুই নারী নৃত্যশিল্পী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের একজন কিশোরী। এ ঘটনায় করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সরাইল থানা-পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগতভাবে চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাকিব মিয়া নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরে দ্রুত বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর দুই নারীকে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে রাকিবসহ তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে রাত আটটার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে আসামিরা চলে যান।

এরপর ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা নিতে প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

নাসিরনগর থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধের ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট সময়: ০৭:১৮:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে এসে দুই নারী নৃত্যশিল্পী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তাদের একজন কিশোরী। এ ঘটনায় করা মামলায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সরাইল থানা-পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার বাসিন্দা। তারা পেশাগতভাবে চুক্তির ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নৃত্য পরিবেশন করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক পেজ থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাকিব মিয়া নামের এক যুবক। বৃহস্পতিবার বিকেলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে তারা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রাকিব ও তার সহযোগীরা তাদের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুরের একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরে দ্রুত বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে চালক ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন। এরপর দুই নারীকে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে রাকিবসহ তার সহযোগীরা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন। তাদের সঙ্গে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত নদীর মাঝখানে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে রাত আটটার দিকে ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার কুণ্ডা তিতাস নদীসংলগ্ন ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে আসামিরা চলে যান।

এরপর ভুক্তভোগীরা আইনি সহায়তা নিতে প্রথমে নাসিরনগর থানায় যান। তবে ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা করা হয়। মামলায় রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আপাতত গ্রেপ্তার ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না।

নাসিরনগর থানার ওসি শাহিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধের ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় ভুক্তভোগীদের সরাইল থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছিল।