ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন গোলাম পরওয়ারসহ ৮ নেতা’

  • আপডেট সময়: ১২:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ১১৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আট নেতা বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত এবং প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্তা বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া ২১ আগস্টের মত আরেকটি আগস্টের পুনর্জন্মের জন্য তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে প্রস্তুত করার অভিমত ব্যক্ত করে তারা। যা প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার শামিল।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আট নেতাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে আদালতের একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ আলী। ওই প্রতিবেদনেই এসব কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

কারাগারে যাওয়া জামায়াতের অপর সাত নেতা হলেন- সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, আব্দুর রব, মোবারক হোসেন ও সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত।

প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আসামিরাসহ তাদের অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত, প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাদের প্রস্তুত করা লিফলেটে বর্তমান সরকারপ্রধানকে বাঁচিয়ে রেখে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম সম্ভব নয় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ২১ আগস্টের মত আরেকটি আগস্টের পুনর্জন্মের জন্য তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে প্রস্তুত করার অভিমত ব্যক্ত করা, প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসীকাজে উদ্বুদ্ধ করার শামিল। যা জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এরইমধ্যে তাদের সহযোগী মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেফতার অপর আসামিদের জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সাতজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত ও বাবুর্চি মো. ইমাম হোসেন।

তারও আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম ও বাবুর্চি মো. ইমাম হোসেনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোলাম পরওয়াসহ নয়জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার। রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, আব্দুর রব, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটারা থানায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে ওই থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হাসান মাসুদ। মামলায় অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওইদিনই বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গোলাম পরওয়ারসহ অন্য নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই মামলার এজহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, আব্দুর রব, জামায়াতের সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত, জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

‘সরকার উৎখাত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন গোলাম পরওয়ারসহ ৮ নেতা’

আপডেট সময়: ১২:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আট নেতা বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত এবং প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্তা বা সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। এছাড়া ২১ আগস্টের মত আরেকটি আগস্টের পুনর্জন্মের জন্য তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে প্রস্তুত করার অভিমত ব্যক্ত করে তারা। যা প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ, জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার শামিল।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ আট নেতাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদন করে আদালতের একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক কাজী ওয়াজেদ আলী। ওই প্রতিবেদনেই এসব কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

কারাগারে যাওয়া জামায়াতের অপর সাত নেতা হলেন- সংগঠনটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, আব্দুর রব, মোবারক হোসেন ও সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত।

প্রতিবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা যায়, আসামিরাসহ তাদের অন্যান্য সহযোগীরা ঘটনার দিন ও সময়ে ঘটনাস্থলে সমবেত হয়ে বর্তমান সরকারকে অবৈধভাবে উৎখাত, প্রজাতন্ত্রের ব্যক্তিসত্তা বা প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তাদের প্রস্তুত করা লিফলেটে বর্তমান সরকারপ্রধানকে বাঁচিয়ে রেখে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম সম্ভব নয় উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ২১ আগস্টের মত আরেকটি আগস্টের পুনর্জন্মের জন্য তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রশিবিরকে প্রস্তুত করার অভিমত ব্যক্ত করা, প্রত্যক্ষভাবে সন্ত্রাসীকাজে উদ্বুদ্ধ করার শামিল। যা জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এরইমধ্যে তাদের সহযোগী মনিরুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে গ্রেফতার অপর আসামিদের জড়িয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ সাতজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত ও বাবুর্চি মো. ইমাম হোসেন।

তারও আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন ও ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাতের দুদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ও নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রবকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম দেবব্রত বিশ্বাস জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম ও বাবুর্চি মো. ইমাম হোসেনের চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৭ সেপ্টেম্বর গোলাম পরওয়াসহ নয়জনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা আক্তার। রিমান্ডে যাওয়া অপর আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, আব্দুর রব, ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে ভাটারা থানায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নয়জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করে ওই থানার পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) হাসান মাসুদ। মামলায় অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ওইদিনই বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে গোলাম পরওয়ারসহ অন্য নেতাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

ওই মামলার এজহারভুক্ত অন্য আসামিরা হলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, রফিকুল ইসলাম খান, নির্বাহী পরিষদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসেন, আব্দুর রব, জামায়াতের সুরা সদস্য ইয়াসিন আরাফাত, জামায়াতের কর্মী মনিরুল ইসলাম ও আব্দুল কালাম।