লোকসমাচার ডেস্ক:সরকার এবং ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই সভার আয়োজন করে।
সভায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। বিদ্যমান কিছু চ্যালেঞ্জের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, সরকার ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায় একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করলে এসব সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
বর্তমান সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যেই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে এবং সেক্টরভিত্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করছে সরকার।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পূর্ববর্তী বৈঠকের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, অতীতে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ইতোমধ্যে ২১টির সমাধান করা হয়েছে এবং বাকিগুলো প্রক্রিয়াজাধীনে রয়েছে।
পারস্পরিক আলোচনা অব্যাহত রাখতে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসার ঘোষণা দেন তিনি। তার মতে, খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমেই কার্যকর সমাধান বের হয়ে আসে।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, নীতিগত সহায়তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।
জবাবে রপ্তানি বাড়াতে কূটনৈতিক পর্যায়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন নীতিনির্ধারক ও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।










