স্টাফ রিপোর্টার:বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নিজেদেরকে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিসেবে নয়, গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশি হিসেবে পরিচয় দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই। পাহাড় কিংবা সমতল—যেখানেই বসবাস হোক না কেন, সকলের পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক বিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে সমাজে বিভেদের রেখা টানার কোনো সুযোগ নেই।
শনিবার যশোরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সনাতন ধর্ম সমাজ যশোর সদর উপজেলা শাখার আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, ধর্ম বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবেই মূল্যায়ন করতে হবে। এই মূল্যবোধ তার পরিবার, রাজনৈতিক দল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি অর্জন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমাজে পরিকল্পিতভাবে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে আমরা সম্মিলিতভাবে ভাবতে ও কাজ করতে পারিনি।
তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নতুনভাবে চিন্তা ও উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই দেশ ও সমাজ গড়ার কাজে সবাইকে সক্রিয় হতে হবে। তিনি বলেন, সবকিছুতে রাজনীতির রং লাগানোর প্রয়োজন নেই। অতীতে মসজিদ, মন্দির, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন দলীয়করণের শিকার হয়েছে, যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন যশোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সাবেক সভাপতি অসীম কুন্ডু, কল্যাণ ফ্রন্টের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক অলোক ঘোষ, সদস্য সচিব নির্মল কুমার বিট, বৈষম্য বিরোধী সনাতন সমাজ যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক মৃণাল কান্তি দে, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি শ্যামল দাস।





















