ঢাকা ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেবাচিমে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ২ যুবকের মৃত্যু, ভর্তি ২৪

  • আপডেট সময়: ০৯:২৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
  • ১৩৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার.বরিশাল প্রতিনিধি : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত দুই রোগীর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মৃত্যু ব্যাক্তিরা হলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার নাসির খানের ছেলে আসলাম খান (২৪) ও পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার গোসনতারা এলাকার আদম আলীর ছেলে সোহেল (১৮)।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। তিনি জানান, মৃত আসলাম খান সোমবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে ভর্তি হন এবং মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া ৩ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

অপরদিকে সোহলে সোমবার (২৯ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে ভর্তি হন এবং মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৪ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

তিনি বলেন, উভয় রোগী আগে থেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত হওয়ার পরেও সঠিকভাবে চিকিৎসা না করিয়ে তারা কেন বাড়িতে এসেছেন তা জানি না। তারা খুবই খারাপ অবস্থায় এসেছেন। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক যে আমাদের হাসপাতালে ২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলো।

এদিকে আজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ২৪ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জন মহিলা ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। আর এ পর্যন্ত শেবাচিম হসপাতালে মোট ৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অপরদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীর স্থান হচ্ছে মেঝেতে বা বারান্দায়। বাড়তি রোগীর চাপে ওয়ার্ডগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও হিমশিমখাচ্ছে কর্মীরা।

এদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিলেও বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো দেড় থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তবে ডেঙ্গু রোগীকে এখন সবার চেয়ে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আসন্ন ঈদুল আযহায় রাজধানী ছেড়ে মানুষের গ্রামের ফেরার সাথে সাথে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশংকা করেন হাসপাতালের পরিচালক। সেই আশংকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

শেবাচিমে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ২ যুবকের মৃত্যু, ভর্তি ২৪

আপডেট সময়: ০৯:২৭:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার.বরিশাল প্রতিনিধি : ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত দুই রোগীর বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে হাসপাতালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

মৃত্যু ব্যাক্তিরা হলেন, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর এলাকার নাসির খানের ছেলে আসলাম খান (২৪) ও পিরোজপুর জেলার কাউখালি উপজেলার গোসনতারা এলাকার আদম আলীর ছেলে সোহেল (১৮)।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ বাকির হোসেন। তিনি জানান, মৃত আসলাম খান সোমবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে ভর্তি হন এবং মঙ্গলবার ভোররাত সোয়া ৩ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

অপরদিকে সোহলে সোমবার (২৯ জুলাই) রাত দেড়টার দিকে শেবাচিম হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ৩ নম্বর ইউনিটে ভর্তি হন এবং মঙ্গলবার ভোররাত পৌনে ৪ টার দিকে মৃত্যু বরণ করেন।

তিনি বলেন, উভয় রোগী আগে থেকেই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাদের ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত হওয়ার পরেও সঠিকভাবে চিকিৎসা না করিয়ে তারা কেন বাড়িতে এসেছেন তা জানি না। তারা খুবই খারাপ অবস্থায় এসেছেন। বিষয়টি আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক যে আমাদের হাসপাতালে ২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হলো।

এদিকে আজ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ২৪ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ৯ জন মহিলা ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। আর এ পর্যন্ত শেবাচিম হসপাতালে মোট ৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অপরদিকে হাসপাতালের ওয়ার্ডে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীর স্থান হচ্ছে মেঝেতে বা বারান্দায়। বাড়তি রোগীর চাপে ওয়ার্ডগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেও হিমশিমখাচ্ছে কর্মীরা।

এদিকে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সরকার সর্বোচ্চ ৫শ’ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিলেও বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো দেড় থেকে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ফি আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

তবে ডেঙ্গু রোগীকে এখন সবার চেয়ে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শেরে-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. মো. বাকির হোসেন। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ বরাদ্দ রয়েছে বলে জানান তিনি।

আসন্ন ঈদুল আযহায় রাজধানী ছেড়ে মানুষের গ্রামের ফেরার সাথে সাথে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করতে পারে বলে আশংকা করেন হাসপাতালের পরিচালক। সেই আশংকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।