ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুবলীগের পিয়ন থেকে শতকোটি টাকার মালিক হওয়া সেই আনিসকে বহিষ্কার

  • আপডেট সময়: ১২:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯
  • ১১৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: পিয়ন থেকে দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করেছে যুবলীগ। আজ শুক্রবার দুপুরে প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম আমজাদ হোসেন।

বিএনপি’র শাসনকালে আওয়ামী যুবলীগ অফিসের পিয়ন ছিলেন কাজী আনিস। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি পাওয়ার পর মাসিক বেতন ছিল সাকল্যে ৩ হাজার টাকা। ২০১২ সালে তার সেই বেতন বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। শরিয়তপুর জেলার পালং উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাশেম কাজী আনিসকে যুবলীগ অফিসের এই চাকরির ব্যবস্থা করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ছেলেটি বড়ই অসহায়। কম্পিউটার চালাতে জানে। ব্যস, হয়ে গেল চাকরি। যুবলীগ নেতাদের চা-পানি এনে খাওয়ানোই ছিল আনিসের কাজ। ২০১২ সালের যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের পর ভাগ্য বদলে যায় আনিসের। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে আনিস দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাসিম রূপককে উপ-দফতর সম্পাদক পদ দেওয়া হলে রাগে ক্ষোভে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

জানা গেছে, দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পরই ভাগ্য পাল্টে যেতে থাকে আনিসের। সাড়ে ৭ হাজার টাকা বেতনের সেই ‘অসহায়’ ছেলেটি আলাদিনের চেরাগ ছুঁয়ে দেওয়ার মতো করে হয়ে ওঠেন টাকার কুমির। মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার মালিক এখন তিনি। ঢাকার শুক্রাবাদে বিশাল বাড়ি ছাড়াও ধানমন্ডিতে রয়েছে তার অনেকগুলো ফ্ল্যাট। ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ জমা রয়েছে তার। দুটি জাহাজও তিনি কিনেছেন। এছাড়া বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কমিটি বাণিজ্য ও ক্যাসিনোর ভাগ বাটোয়ারা করেই আনিস এই বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন।

মাত্র ৩ হাজার থেকে ক্যাসিনোর ছোঁয়ায় শত কোটি টাকার মালিক আনিস। কি নেই তার! বাড়ি, ফ্ল্যাট ছাড়াও দোকানের সংখ্যা বিশটিরও উপর। গোপালগঞ্জে ফিলিং স্টেশন, এমনকি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি সবই আছে তার। আনিসের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে। জানা গেছে, রাজধানীর শুক্রাবাদে কাঁচাবাজারের পাশের ৭ তলা বাড়ির ১৩টি ফ্লাটের মালিক কাজী আনিস। এই বাড়ির কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, কাজী আনিসের হয়ে তার শ্যালক এখানে ভাড়া নিতে আসে।

জানা গেছে, শুক্রাবাদের পাশে ধানমন্ডির ১০ নম্বর রোডের ২২/এ নম্বরে একটি ১৩ তলা ভবনে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকও কাজী আনিস। এই ফ্ল্যাটের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। ধানমন্ডি এলাকা খুব পছন্দ আনিসের। তাই ওই ফ্ল্যাটের আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলেই ধানমন্ডি ৯ নম্বর সড়ক। সেখানে রয়েছে যুবলীগ চেয়ারম্যানের অফিস। সেই অফিসের উপরের ফ্লোরটি তাই কিনেই নিলেন আনিস। প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট! প্রতি বর্গফুটের খরচ ১৪ হাজার ৪৬০ টাকা। সব মিলিয়ে দাম পড়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকারও বেশি। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। নিজ জন্মস্থান গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও রয়েছে তার আলিশান প্রাসাদ। আছে শখের বাগানবাড়িও।

কাজী আনিসের আলাদীনের কোনো চেরাগ নেই। আছে শুধু যুবলীগের একটি কেরানি সমতুল্য দফতর সম্পাদক পদ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

যুবলীগের পিয়ন থেকে শতকোটি টাকার মালিক হওয়া সেই আনিসকে বহিষ্কার

আপডেট সময়: ১২:১৫:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ অক্টোবর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: পিয়ন থেকে দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমানকে বহিষ্কার করেছে যুবলীগ। আজ শুক্রবার দুপুরে প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবিএম আমজাদ হোসেন।

বিএনপি’র শাসনকালে আওয়ামী যুবলীগ অফিসের পিয়ন ছিলেন কাজী আনিস। ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চাকরি পাওয়ার পর মাসিক বেতন ছিল সাকল্যে ৩ হাজার টাকা। ২০১২ সালে তার সেই বেতন বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে ৭ হাজার টাকা। শরিয়তপুর জেলার পালং উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাশেম কাজী আনিসকে যুবলীগ অফিসের এই চাকরির ব্যবস্থা করেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ছেলেটি বড়ই অসহায়। কম্পিউটার চালাতে জানে। ব্যস, হয়ে গেল চাকরি। যুবলীগ নেতাদের চা-পানি এনে খাওয়ানোই ছিল আনিসের কাজ। ২০১২ সালের যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের পর ভাগ্য বদলে যায় আনিসের। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে আনিস দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নাসিম রূপককে উপ-দফতর সম্পাদক পদ দেওয়া হলে রাগে ক্ষোভে তিনি তা গ্রহণ করেননি।

জানা গেছে, দফতর সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পরই ভাগ্য পাল্টে যেতে থাকে আনিসের। সাড়ে ৭ হাজার টাকা বেতনের সেই ‘অসহায়’ ছেলেটি আলাদিনের চেরাগ ছুঁয়ে দেওয়ার মতো করে হয়ে ওঠেন টাকার কুমির। মাত্র ৭ বছরের মধ্যেই কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার মালিক এখন তিনি। ঢাকার শুক্রাবাদে বিশাল বাড়ি ছাড়াও ধানমন্ডিতে রয়েছে তার অনেকগুলো ফ্ল্যাট। ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ জমা রয়েছে তার। দুটি জাহাজও তিনি কিনেছেন। এছাড়া বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। কমিটি বাণিজ্য ও ক্যাসিনোর ভাগ বাটোয়ারা করেই আনিস এই বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হন।

মাত্র ৩ হাজার থেকে ক্যাসিনোর ছোঁয়ায় শত কোটি টাকার মালিক আনিস। কি নেই তার! বাড়ি, ফ্ল্যাট ছাড়াও দোকানের সংখ্যা বিশটিরও উপর। গোপালগঞ্জে ফিলিং স্টেশন, এমনকি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি সবই আছে তার। আনিসের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে। জানা গেছে, রাজধানীর শুক্রাবাদে কাঁচাবাজারের পাশের ৭ তলা বাড়ির ১৩টি ফ্লাটের মালিক কাজী আনিস। এই বাড়ির কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, কাজী আনিসের হয়ে তার শ্যালক এখানে ভাড়া নিতে আসে।

জানা গেছে, শুক্রাবাদের পাশে ধানমন্ডির ১০ নম্বর রোডের ২২/এ নম্বরে একটি ১৩ তলা ভবনে প্রায় ৩ হাজার বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিকও কাজী আনিস। এই ফ্ল্যাটের দাম প্রায় দেড় কোটি টাকা। ধানমন্ডি এলাকা খুব পছন্দ আনিসের। তাই ওই ফ্ল্যাটের আরেকটু সামনে এগিয়ে গেলেই ধানমন্ডি ৯ নম্বর সড়ক। সেখানে রয়েছে যুবলীগ চেয়ারম্যানের অফিস। সেই অফিসের উপরের ফ্লোরটি তাই কিনেই নিলেন আনিস। প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট! প্রতি বর্গফুটের খরচ ১৪ হাজার ৪৬০ টাকা। সব মিলিয়ে দাম পড়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকারও বেশি। এখানেই কিন্তু শেষ নয়। নিজ জন্মস্থান গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরেও রয়েছে তার আলিশান প্রাসাদ। আছে শখের বাগানবাড়িও।

কাজী আনিসের আলাদীনের কোনো চেরাগ নেই। আছে শুধু যুবলীগের একটি কেরানি সমতুল্য দফতর সম্পাদক পদ।