ঢাকা ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে ঠিকাদার রেজাউল হত্যার নেপথ্যে কারা:আজও ধোঁয়াশা রয়ে গেল ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পেলোনা

  • আপডেট সময়: ০৯:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪২৭ জন দেখেছে
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার:যশোরে চাঞ্চল্যকর ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম হত্যার নেপথ্যে কারা আজও ধোঁয়াশায় রয়ে গেল দীর্ঘ ২২ বছর পার হলেও ভুক্তভোগী পরিবার আজও সঠিক বিচার পেলোনা।

মরহুমের পরিবার লোকসমাচার কে জানিয়েছে, রেজাউল হত্যা মামলা গত ২২ বছর পার হলেও আদালতে পুলিশ সঠিক অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেনি।তদন্তের নামে পুলিশ নিজেরাই একের পর এক নাটক সাজিয়ে মামলাটির অতীত ভবিষ্যৎ সব নষ্ট করেছে।রেজাউল ইসলাম এর সাথে কখনো কারো কোন শত্রুতা ছিল না ,সে মারা যাওয়ার পর ঐ সময় যারা সব থেকে লাভবান ছিল, তারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। অজানা কারণে ওই সময় পুলিশ এই দিকটা কখনো তদন্তে আনিনি।

শহরের ঢাকা রোড ততকালীন বাবলাতলা পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই বিগত ২০০৩ সালের জুলাই মাসের ৩০ তারিখে খুন হন ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম। মটরসাইকেলযোগে এসে দু’জন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে গুলি করে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

প্রকাশ্য দিবালোকে এমন একটি হতার ঘটনায় তটস্থ হয়ে পড়ে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন।

দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরের দিন উপশহর এলাকার হাবিবুর রহমান, লিটু ও সিরাজুল ইসলাম নামে ৩ যুবককে আটক করে পুলিশ দাবি করেছিল খুনিরা ধরা পড়েছে। ওই সময় শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার নবাব নামে এক যুবকের বাড়ি থেকে ৮০ সিসি’র একটি টার্বো মটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

যশোরে ঠিকাদার রেজাউল

সাংবাদিকদের সামনে কোতয়ালি থানার তৎকালীন ওসি শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, মটরসাইকেলটি হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু অতীতে এ ধরনের একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে হত্যা মিশন সাকসেস করতে হত্যাকারীরা রেডি পিকআপ মটরসাইকেল ব্যবহার করে। কেননা, রেডি পিকআপ মটরসাইকেল ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালানো সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, তিন যুবককে আটকের পর পুলিশ অমানষিক নির্যাতন চালিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করাতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ধৃতরা আদালতে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করে দেয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতয়ালি থানার তৎকালীন টিএসআই আমান উল্লাহ আমান। দীর্ঘ এক বছর পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। দায়িত্ব পেয়েই ডিবি’র তৎকালীন এসআই রতন শেখ রচনা করেন আরও একটি নাটক। শহরের চুড়িপট্টি এলাকার চরমপন্থী রিপনকে আটক করে তিনি জানান, সে রেজাউল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। সে নিজের হাতে খুন করেনি। তবে মটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল সে নিজেই। পুলিশের কথামত সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় যে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলের কমান্ডার দাদা তপনের নির্দেশে তাকে খুন করা হয়। ঠিকাদার রেজাউলের সাথে দাদা তপনের বিরোধ রয়েছে বলে চরমপন্থী রিপন পুলিশকে জানায়। ডিবি’র এসআই রতন শেখ ডিএমপি’তে বদলি হওয়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি’র এসআই শহিদকে এভাবেই একেকজন দারোগা মামলাটির তদন্তে র দায়িত্ব নিয়ে কালক্ষেপণ করেছেন। কেউ প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেননি। আদালতেও দাখিল করা সম্ভব হয়নি চার্জশিট।

অত্যন্ত সাদামাটা এবং সাধারণ একজন ঠিকাদার রেজাউল ইসলামকে কারা খুন করলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঠিকাদারী ব্যবসা করে উপশহর এলাকার রেজাউল কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু তার সাথে কোন পক্ষের বিরোধ থাকার কোন খবর মেলেনি। তাহলে কারা, কোন স্বার্থে তাকে হত্যা করলো? বিষয়টি আর কতকাল

রহস্যাবৃত্ত থেকে যাবে?

চলবে

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

যশোরে ঠিকাদার রেজাউল হত্যার নেপথ্যে কারা:আজও ধোঁয়াশা রয়ে গেল ভুক্তভোগী পরিবার সঠিক বিচার পেলোনা

আপডেট সময়: ০৯:৫১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Spread the love

স্টাফ রিপোর্টার:যশোরে চাঞ্চল্যকর ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম হত্যার নেপথ্যে কারা আজও ধোঁয়াশায় রয়ে গেল দীর্ঘ ২২ বছর পার হলেও ভুক্তভোগী পরিবার আজও সঠিক বিচার পেলোনা।

মরহুমের পরিবার লোকসমাচার কে জানিয়েছে, রেজাউল হত্যা মামলা গত ২২ বছর পার হলেও আদালতে পুলিশ সঠিক অভিযোগ পত্র দাখিল করতে পারেনি।তদন্তের নামে পুলিশ নিজেরাই একের পর এক নাটক সাজিয়ে মামলাটির অতীত ভবিষ্যৎ সব নষ্ট করেছে।রেজাউল ইসলাম এর সাথে কখনো কারো কোন শত্রুতা ছিল না ,সে মারা যাওয়ার পর ঐ সময় যারা সব থেকে লাভবান ছিল, তারা এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিল। অজানা কারণে ওই সময় পুলিশ এই দিকটা কখনো তদন্তে আনিনি।

শহরের ঢাকা রোড ততকালীন বাবলাতলা পুলিশ ফাঁড়ির কাছেই বিগত ২০০৩ সালের জুলাই মাসের ৩০ তারিখে খুন হন ঠিকাদার রেজাউল ইসলাম। মটরসাইকেলযোগে এসে দু’জন দুর্বৃত্ত প্রকাশ্য দিবালোকে তাকে গুলি করে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।

প্রকাশ্য দিবালোকে এমন একটি হতার ঘটনায় তটস্থ হয়ে পড়ে তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন।

দ্রুত হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরের দিন উপশহর এলাকার হাবিবুর রহমান, লিটু ও সিরাজুল ইসলাম নামে ৩ যুবককে আটক করে পুলিশ দাবি করেছিল খুনিরা ধরা পড়েছে। ওই সময় শহরতলীর কিসমত নওয়াপাড়ার নবাব নামে এক যুবকের বাড়ি থেকে ৮০ সিসি’র একটি টার্বো মটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।

যশোরে ঠিকাদার রেজাউল

সাংবাদিকদের সামনে কোতয়ালি থানার তৎকালীন ওসি শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, মটরসাইকেলটি হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু অতীতে এ ধরনের একাধিক ঘটনায় দেখা গেছে হত্যা মিশন সাকসেস করতে হত্যাকারীরা রেডি পিকআপ মটরসাইকেল ব্যবহার করে। কেননা, রেডি পিকআপ মটরসাইকেল ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালানো সম্ভব নয়। অভিযোগ রয়েছে, তিন যুবককে আটকের পর পুলিশ অমানষিক নির্যাতন চালিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করাতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ধৃতরা আদালতে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ করে দেয়।
চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলাটি তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন কোতয়ালি থানার তৎকালীন টিএসআই আমান উল্লাহ আমান। দীর্ঘ এক বছর পর মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি পুলিশকে। দায়িত্ব পেয়েই ডিবি’র তৎকালীন এসআই রতন শেখ রচনা করেন আরও একটি নাটক। শহরের চুড়িপট্টি এলাকার চরমপন্থী রিপনকে আটক করে তিনি জানান, সে রেজাউল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। সে নিজের হাতে খুন করেনি। তবে মটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল সে নিজেই। পুলিশের কথামত সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় যে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলের কমান্ডার দাদা তপনের নির্দেশে তাকে খুন করা হয়। ঠিকাদার রেজাউলের সাথে দাদা তপনের বিরোধ রয়েছে বলে চরমপন্থী রিপন পুলিশকে জানায়। ডিবি’র এসআই রতন শেখ ডিএমপি’তে বদলি হওয়ায় মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় ডিবি’র এসআই শহিদকে এভাবেই একেকজন দারোগা মামলাটির তদন্তে র দায়িত্ব নিয়ে কালক্ষেপণ করেছেন। কেউ প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারেননি। আদালতেও দাখিল করা সম্ভব হয়নি চার্জশিট।

অত্যন্ত সাদামাটা এবং সাধারণ একজন ঠিকাদার রেজাউল ইসলামকে কারা খুন করলো, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ঠিকাদারী ব্যবসা করে উপশহর এলাকার রেজাউল কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু তার সাথে কোন পক্ষের বিরোধ থাকার কোন খবর মেলেনি। তাহলে কারা, কোন স্বার্থে তাকে হত্যা করলো? বিষয়টি আর কতকাল

রহস্যাবৃত্ত থেকে যাবে?

চলবে