ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোংলায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক: প্রলোভনের ফাঁদে বিপন্ন শৈশব

  • আপডেট সময়: ১০:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৪০ জন দেখেছে
Spread the love

‎লোকসমাচার,বাগেরহাট প্রতিনিধি:মোংলায় মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন শিকদার নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।..

‎বাগেরহাটের মোংলায় মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ আগস্ট দুপুরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার একটি মাছের ঘেরে এই অমানবিক অপরাধ সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী সেদিন দুপুরে শাপলা তোলার জন্য ঘের এলাকায় গেলে একই এলাকার বাসিন্দা সুমন শিকদার (৩৫) তাকে মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন ঘেরের বেড়ীবাঁধে নিয়ে যায়। সেখানে কৌশলে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুমন। অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্ত যুবক বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়, যার ফলে ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘ সময় ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য হয়।

‎দীর্ঘ কয়েকদিন ঘটনাটি চেপে রাখায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে বিষয়টি ভুক্তভোগীর মামীর নজরে আসে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কিশোরী পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত সুমন শিকদার এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় কিশোরী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং প্রতিশোধের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রান্তিক জনপদগুলোতে নারীরা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী সব ঘটনা তার মামীর কাছে স্বীকার করলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‎অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগীর মামা শিপন বাদী হয়ে মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ অভিযুক্ত সুমন শিকদারকে এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আইন অনুযায়ী তাকে শনিবার সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই দ্রুত তৎপরতা কিছুটা স্বস্তি আনলেও, সমাজ ও পরিবারের সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎এই জঘন্য ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যা নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাছের ঘের বা জনমানবহীন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধীর কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

মোংলায় কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে যুবক আটক: প্রলোভনের ফাঁদে বিপন্ন শৈশব

আপডেট সময়: ১০:১৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

‎লোকসমাচার,বাগেরহাট প্রতিনিধি:মোংলায় মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন শিকদার নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।..

‎বাগেরহাটের মোংলায় মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। গত ১৬ আগস্ট দুপুরে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার একটি মাছের ঘেরে এই অমানবিক অপরাধ সংঘটিত হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরী সেদিন দুপুরে শাপলা তোলার জন্য ঘের এলাকায় গেলে একই এলাকার বাসিন্দা সুমন শিকদার (৩৫) তাকে মাছ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নির্জন ঘেরের বেড়ীবাঁধে নিয়ে যায়। সেখানে কৌশলে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে সুমন। অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্ত যুবক বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য কিশোরীকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়, যার ফলে ভয়ে ভুক্তভোগী কিশোরী দীর্ঘ সময় ঘটনাটি গোপন রাখতে বাধ্য হয়।

‎দীর্ঘ কয়েকদিন ঘটনাটি চেপে রাখায় শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে বিষয়টি ভুক্তভোগীর মামীর নজরে আসে এবং তার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে কিশোরী পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, অভিযুক্ত সুমন শিকদার এলাকার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় কিশোরী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল এবং প্রতিশোধের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, প্রান্তিক জনপদগুলোতে নারীরা কতটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার চার দিন পর শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী সব ঘটনা তার মামীর কাছে স্বীকার করলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

‎অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিকেলে ভুক্তভোগীর মামা শিপন বাদী হয়ে মোংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ অভিযুক্ত সুমন শিকদারকে এলাকা থেকে আটক করতে সক্ষম হয়। মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং আইন অনুযায়ী তাকে শনিবার সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই দ্রুত তৎপরতা কিছুটা স্বস্তি আনলেও, সমাজ ও পরিবারের সুরক্ষায় এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‎এই জঘন্য ঘটনাটি স্থানীয় জনমনে গভীর ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে, যা নারী ও শিশু সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। মাছের ঘের বা জনমানবহীন এলাকায় নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন ও সচেতন মহলকে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। অপরাধীর কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচলের পথে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।