ঢাকা ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মণিরামপুরে ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ! বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
  • ১৩৮ জন দেখেছে
Spread the love

সুমন চক্রবর্তী,নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকরা বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে কিছু ফসলের মাঠে ধানের শিষ সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এতে কিছু ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রোদ আর বাতাসে ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। মাঠগুলোতে ধান সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষক তাদের ধান কেটে ফসল ঘরে তুলবে। তবে যারা আগাম ধান রোপণ করেছেন, তারা ইতিমধ্যেই ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেছেন। কিছু এলাকায় ধানের শিষে আংশিক সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলায় ২৮৩৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিভিন্ন জাতের ধানের বোরো আবাদ হয়েছে ২৬৯০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রান্তীক পর্যায়ের ৩৯০০ জন কৃষকের মাঝে ২কেজি হাইব্রিড জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য যে, ভবদহের বাধ ভেঙ্গে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামের কৃষক গোলাম রসুল বলেন, ‘আমার জমিতে ধানে পাক ধরেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটতে পারব। এবার ফসলের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।
রনজিৎ বিশ্বাস নামের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে দাম ভালো পেলে লাভবান হব।
পৌর এলাকার বোরো চাষি মিজানুর বলেন, ‘আমি ৪০ শতক জমিতে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছি। হঠাৎ গত দুদিন আগে গিয়ে দেখি জমির কিছু ধানের শিষ সাদা হয়ে গেছে। কিছুটা লোকসান হতে পারে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ৩০ দিনের ভিতর কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবে। আমরা সবসময় কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছি।

ধানের শিষ সাদা বর্ণ ধারণ করছে, এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরাতন জাতের ধানগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারমধ্যে সাদা বর্ণ ধারণ করা অন্যতম। আমরা কৃষকদের নতুন নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করছি।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

মণিরামপুরে ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ! বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশায় কৃষক

আপডেট সময়: ০৯:৫৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৫
Spread the love

সুমন চক্রবর্তী,নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় ফসলের মাঠে সোনালি ধানের সমারোহ। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকরা বোরো ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। তবে গত কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহে কিছু ফসলের মাঠে ধানের শিষ সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এতে কিছু ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা।

পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, রোদ আর বাতাসে ফসলের মাঠে মাঠে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। মাঠগুলোতে ধান সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ বর্ণ ধারণ করছে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই কৃষক তাদের ধান কেটে ফসল ঘরে তুলবে। তবে যারা আগাম ধান রোপণ করেছেন, তারা ইতিমধ্যেই ধান কেটে ঘরে তোলা শুরু করেছেন। কিছু এলাকায় ধানের শিষে আংশিক সাদা বর্ণ ধারণ করেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায়ও রয়েছেন কৃষক।

উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলায় ২৮৩৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিভিন্ন জাতের ধানের বোরো আবাদ হয়েছে ২৬৯০০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে উপজেলার প্রান্তীক পর্যায়ের ৩৯০০ জন কৃষকের মাঝে ২কেজি হাইব্রিড জাতের বীজ বিতরণ করা হয়েছিলো। উল্লেখ্য যে, ভবদহের বাধ ভেঙ্গে ওই অঞ্চলের প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

উপজেলার বিপ্রকোনা গ্রামের কৃষক গোলাম রসুল বলেন, ‘আমার জমিতে ধানে পাক ধরেছে। কয়েকদিন পরেই ধান কাটতে পারব। এবার ফসলের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি।
রনজিৎ বিশ্বাস নামের পাঁচবাড়িয়া গ্রামের আরেক কৃষক বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আমার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তবে দাম ভালো পেলে লাভবান হব।
পৌর এলাকার বোরো চাষি মিজানুর বলেন, ‘আমি ৪০ শতক জমিতে ২৮ জাতের ধান চাষ করেছি। হঠাৎ গত দুদিন আগে গিয়ে দেখি জমির কিছু ধানের শিষ সাদা হয়ে গেছে। কিছুটা লোকসান হতে পারে।

মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। বড় ধরনের ঝড়বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি না হলে বোরো ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২০ থেকে ৩০ দিনের ভিতর কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারবে। আমরা সবসময় কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছি।

ধানের শিষ সাদা বর্ণ ধারণ করছে, এমন প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরাতন জাতের ধানগুলোতে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তারমধ্যে সাদা বর্ণ ধারণ করা অন্যতম। আমরা কৃষকদের নতুন নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত করছি।