ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃদ্ধ বাবাকে মাথায় তুলে ছুড়ে ফেললো ছেলে

  • আপডেট সময়: ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১
  • ১২০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:একমাস রোজা রাখার পর শুক্রবার (১৪ মে) সকালে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যশােরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের বৃদ্ধ রজব আলী মোড়ল (৯০)। ওই সময় তুচ্ছ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে রহমতুল্লাহ মোড়ল তাকে মারপিট করেন। সাথে অংশ নেন তারই ছোট ছেলে মহসীন মোড়ল। ছেলেদের হামলায় আহত হয়ে দুইদিন হাসপাতালের বেডে ও দুই দিন বাড়িতে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন বৃদ্ধ রজব আলী। ছেলেদের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেও ফল পাননি তিনি।

আহত বৃদ্ধ রজব আলী জানান, বাড়ি ও মাঠ মিলে বেশ কিছু জমির মালিক তিনি। বহুদিন ধরে সেই জমি লিখে দিতে তাকে চাপাচাপি করছেন দুই ছেলে। ১০ বছর আগে বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হারান। এরপর থেকে ছেলেরা তাকে জমির দাবিতে নির্যাতন করে আসছেন। এরআগেও দুইবার ছেলেদের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করে ফল পাননি বৃদ্ধ।

রজব আলী বলেন, স্ত্রীকে হারানোর পর থেকে ছেলেরা আমাকে খেতে দেয় না। স্বামী বিদেশে থাকায় মেঝ মেয়ে হামিরা খাতুন আমার কাছে থাকেন। ছোট মেয়ে জবেদা খাতুনকে একই পাড়ায় বিয়ে দিয়েছি। এই দুই মেয়ে আমাকে দেখাশোনা করেন। ঈদের দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুরগির খাবার দেওয়া নিয়ে আমার দুই ছেলে রহমতুল্লাহ ও মহাসীন এবং বড় ছেলের বউ রেখা ও তাদের ছেলে মনিরুল আমারে মারপিট শুরু করে। চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে তারা আমার দুই মেয়ে হামিরা ও জবেদাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে বড় ছেলে রহমত আমাকে উপরে তুলে আছাড় দেয়। ওইদিন বিকেলে দুই মেয়েসহ মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি হই আমি। আমার ছোট মেয়ে এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি শনিবার বাড়ি ফিরিছি। এখন বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছি। চারদিন পার হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি বলেন, আগেও দুইবার ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে বিচার পাইনি। এবারও ছোট জামাই আজিজুর রহমান থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি ছেলেদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

তবে এই ব্যাপারে রজব আলীর অভিযুক্ত দুই ছেলের বক্তব্য জানা যায়নি।

মারপিটের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছেন মণিরামপুর থানার এসআই যোগেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। হাসপাতালের সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

বৃদ্ধ বাবাকে মাথায় তুলে ছুড়ে ফেললো ছেলে

আপডেট সময়: ০৭:১১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:একমাস রোজা রাখার পর শুক্রবার (১৪ মে) সকালে ঈদের নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন যশােরের মণিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের বৃদ্ধ রজব আলী মোড়ল (৯০)। ওই সময় তুচ্ছ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে বড় ছেলে রহমতুল্লাহ মোড়ল তাকে মারপিট করেন। সাথে অংশ নেন তারই ছোট ছেলে মহসীন মোড়ল। ছেলেদের হামলায় আহত হয়ে দুইদিন হাসপাতালের বেডে ও দুই দিন বাড়িতে বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছেন বৃদ্ধ রজব আলী। ছেলেদের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করেও ফল পাননি তিনি।

আহত বৃদ্ধ রজব আলী জানান, বাড়ি ও মাঠ মিলে বেশ কিছু জমির মালিক তিনি। বহুদিন ধরে সেই জমি লিখে দিতে তাকে চাপাচাপি করছেন দুই ছেলে। ১০ বছর আগে বৃদ্ধ তার স্ত্রীকে হারান। এরপর থেকে ছেলেরা তাকে জমির দাবিতে নির্যাতন করে আসছেন। এরআগেও দুইবার ছেলেদের বিচার চেয়ে থানায় অভিযোগ করে ফল পাননি বৃদ্ধ।

রজব আলী বলেন, স্ত্রীকে হারানোর পর থেকে ছেলেরা আমাকে খেতে দেয় না। স্বামী বিদেশে থাকায় মেঝ মেয়ে হামিরা খাতুন আমার কাছে থাকেন। ছোট মেয়ে জবেদা খাতুনকে একই পাড়ায় বিয়ে দিয়েছি। এই দুই মেয়ে আমাকে দেখাশোনা করেন। ঈদের দিন সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মুরগির খাবার দেওয়া নিয়ে আমার দুই ছেলে রহমতুল্লাহ ও মহাসীন এবং বড় ছেলের বউ রেখা ও তাদের ছেলে মনিরুল আমারে মারপিট শুরু করে। চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে তারা আমার দুই মেয়ে হামিরা ও জবেদাকে মারপিট করে। একপর্যায়ে বড় ছেলে রহমত আমাকে উপরে তুলে আছাড় দেয়। ওইদিন বিকেলে দুই মেয়েসহ মণিরামপুর হাসপাতালে ভর্তি হই আমি। আমার ছোট মেয়ে এখনো হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি শনিবার বাড়ি ফিরিছি। এখন বিছানায় পড়ে কাতরাচ্ছি। চারদিন পার হলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি বলেন, আগেও দুইবার ছেলেদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে বিচার পাইনি। এবারও ছোট জামাই আজিজুর রহমান থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি ছেলেদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

তবে এই ব্যাপারে রজব আলীর অভিযুক্ত দুই ছেলের বক্তব্য জানা যায়নি।

মারপিটের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করছেন মণিরামপুর থানার এসআই যোগেশ মণ্ডল। তিনি বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। হাসপাতালের সার্টিফিকেট চাওয়া হয়েছে। সার্টিফিকেট হাতে পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।