ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, সিদ্ধান্ত আইসিসির

  • আপডেট সময়: ১১:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৬ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে হবে।

বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলছে, তেমন কোনো ঝুঁকি নেই এবং এই স্বল্প সময়ে সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনা না করার কারণ হিসেবে আইসিসি যুক্তি দেখিয়েছে যে, এই আবেদন বিবেচনা করা হলে তা ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য একটি খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে আনার অনুরোধ জানালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইসিসি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, ‘স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার মূল্যায়নসহ সব ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা খতিয়ে দেখার পর বোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এসব প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী কিংবা দর্শকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।’

আইসিসি বোর্ড আরও উল্লেখ করেছে, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়। নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদল করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর ক্ষেত্রে নজির তৈরি হতে পারে, যা সংস্থার নিরপেক্ষতা ও বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হবে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘অচলাবস্থা কাটাতে আইসিসি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বিসিবির সঙ্গে বৈঠক ও চিঠিপত্র বিনিময় করেছে। এ সময় ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে জানানো হয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবির সঙ্গে আমরা নিয়মিত ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছি, যাতে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক দেশের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস— সব কিছুতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতে কোনো বাস্তব বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।’

সেখানো আরো বলা হয়েছে, ‘তবু বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং একটি ঘরোয়া লিগে তাদের এক খেলোয়াড়ের সংশ্লিষ্ট একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেছে, যার সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই।’

আইসিসি জানায়, ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য একই নীতিমালা প্রযোজ্য। স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে ঝুঁকির প্রমাণ না থাকায় ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। এতে অন্য দল ও বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও শাসনব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শেষে আইসিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা সদিচ্ছার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘আমার ছেলে সাঁতার জানত, সনদও ছিল, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে, সিদ্ধান্ত আইসিসির

আপডেট সময়: ১১:৪৫:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে বাংলাদেশকে ভারতে গিয়েই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে হবে।

বাংলাদেশ যে নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলছে, তেমন কোনো ঝুঁকি নেই এবং এই স্বল্প সময়ে সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের আবেদন বিবেচনা না করার কারণ হিসেবে আইসিসি যুক্তি দেখিয়েছে যে, এই আবেদন বিবেচনা করা হলে তা ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য একটি খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করবে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে আইসিসি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে আনার অনুরোধ জানালে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আইসিসি বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, ‘স্বাধীন নিরাপত্তা সংস্থার মূল্যায়নসহ সব ধরনের নিরাপত্তা পর্যালোচনা খতিয়ে দেখার পর বোর্ড এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এসব প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—ভারতের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী কিংবা দর্শকদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।’

আইসিসি বোর্ড আরও উল্লেখ করেছে, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে সূচিতে পরিবর্তন আনা বাস্তবসম্মত নয়। নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদল করলে ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টগুলোর ক্ষেত্রে নজির তৈরি হতে পারে, যা সংস্থার নিরপেক্ষতা ও বৈশ্বিক শাসন কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হবে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘অচলাবস্থা কাটাতে আইসিসি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার বিসিবির সঙ্গে বৈঠক ও চিঠিপত্র বিনিময় করেছে। এ সময় ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত ব্যবস্থাসহ বিস্তারিত তথ্য বিসিবিকে জানানো হয়।’

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিসিবির সঙ্গে আমরা নিয়মিত ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েছি, যাতে বাংলাদেশ দল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারে। স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক দেশের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস— সব কিছুতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতে কোনো বাস্তব বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা হুমকি নেই।’

সেখানো আরো বলা হয়েছে, ‘তবু বিসিবি তাদের অবস্থানে অনড় থেকেছে এবং একটি ঘরোয়া লিগে তাদের এক খেলোয়াড়ের সংশ্লিষ্ট একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করেছে, যার সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তার কোনো সম্পর্ক নেই।’

আইসিসি জানায়, ২০টি অংশগ্রহণকারী দেশের জন্য একই নীতিমালা প্রযোজ্য। স্বাধীন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে ঝুঁকির প্রমাণ না থাকায় ম্যাচ স্থানান্তর করা সম্ভব নয়। এতে অন্য দল ও বিশ্বজুড়ে দর্শকদের জন্য বড় ধরনের লজিস্টিক ও সূচিগত জটিলতা তৈরি হবে এবং আইসিসির নিরপেক্ষতা ও শাসনব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শেষে আইসিসি পুনর্ব্যক্ত করেছে, তারা সদিচ্ছার ভিত্তিতে কাজ করছে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ, ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।