ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান সাবেক অধিনায়কের

  • আপডেট সময়: ০৩:১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। বল এখন আইসিসির কোর্টে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আগের অবস্থানে অটল থাকলে টাইগারদের আসন্ন মেগা ইভেন্টে খেলা হবে না। আইসিসির বোর্ড সভায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলা এবং অন্যথায় অন্য দলকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। যেখানে বিসিবির বাইরে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের পক্ষে ছিল।

ওই সভা শেষে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় আইসিসি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎ শেষে একই সিদ্ধান্ত আসে। অর্থাৎ, কেবল শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হলেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যাবে। এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়– বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে, তারাও টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে। এবার নিজের দেশকে সেই আহবানই জানালেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

সাবেক এই ক্রিকেটার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদ নয় জানিয়ে দেশটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিসিবি। সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য বজায় রেখে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও কি একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা রাখে?’

এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব শো–তেও কথা বলেছেন রশিদ লতিফ। সেখানে তিনি পিসিবির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ‘পাকিস্তানের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। পাকিস্তান যদি এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তবে এই বিশ্বকাপ বড় বিপদে পড়বে। আমি এটা আগেও বলেছি, বাংলাদেশ যখন একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা সেটা করেই ছাড়ে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারত নিরাপদ দেশ নয়। আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যা–ই বলুক না কেন।’

ক্রিকেটবিশ্বের বর্তমান ইকোসিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটাই উপযুক্ত সময় বলেও মনে করেন ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা রশিদ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হাতেই ট্রাম্পকার্ড। বাংলাদেশের অবস্থান সঠিক। পাকিস্তান এরচেয়ে ভালো সুযোগ পাবে না। পাকিস্তানের না খেলা মানে বিশ্বকাপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, তারাই এখন চাবিকাঠি। এটা ঠিক যে পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে হয়তো ভুগতে হতে পারে। আইসিসি ইভেন্টে না খেললে নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানা পেতে পারে। তবে এখানে কিছু শব্দের ব্যবহার ছাড়া কিছুই করতে হচ্ছে না– আপনি কাকে সমর্থন করেন জানিয়ে দেওয়ার এখনই সময়।’

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ও সাংবাদিক নোমান নিয়াজ আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ টানলে রশিদ বলেন, ‘যখন আপনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন আইসিসির অনুদানের চিন্তা ছেড়ে দিতে হয়। বাংলাদেশ এটা করে দেখিয়েছে। ২১ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট শেষ হয়ে যায়নি।’ একই অনুষ্ঠানে সাবেক এই পাক অধিনায়ক আরও বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপের আয় ৫০ ভাগ কমে যাবে। বর্তমান ক্রিকেট–ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এটাই সেরা সময়। পাকিস্তানের এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।’

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘আমার ছেলে সাঁতার জানত, সনদও ছিল, ঘটনা ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে’

বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানকেও বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্বান সাবেক অধিনায়কের

আপডেট সময়: ০৩:১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:ভারতের মাটিতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ। বল এখন আইসিসির কোর্টে। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আগের অবস্থানে অটল থাকলে টাইগারদের আসন্ন মেগা ইভেন্টে খেলা হবে না। আইসিসির বোর্ড সভায় ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলা এবং অন্যথায় অন্য দলকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে ভোটাভুটি হয়। যেখানে বিসিবির বাইরে কেবল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বাংলাদেশের পক্ষে ছিল।

ওই সভা শেষে বাংলাদেশকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেয় আইসিসি। গতকাল (বৃহস্পতিবার) যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে বিসিবি ও ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎ শেষে একই সিদ্ধান্ত আসে। অর্থাৎ, কেবল শ্রীলঙ্কায় ম্যাচের ভেন্যু সরিয়ে নেওয়া হলেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে যাবে। এর আগে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়– বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লে, তারাও টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে। এবার নিজের দেশকে সেই আহবানই জানালেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ।

সাবেক এই ক্রিকেটার নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদ নয় জানিয়ে দেশটিতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিসিবি। সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য বজায় রেখে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও কি একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা রাখে?’

এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব শো–তেও কথা বলেছেন রশিদ লতিফ। সেখানে তিনি পিসিবির দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান, ‘পাকিস্তানের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। পাকিস্তান যদি এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তবে এই বিশ্বকাপ বড় বিপদে পড়বে। আমি এটা আগেও বলেছি, বাংলাদেশ যখন একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা সেটা করেই ছাড়ে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারত নিরাপদ দেশ নয়। আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যা–ই বলুক না কেন।’

ক্রিকেটবিশ্বের বর্তমান ইকোসিস্টেমকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটাই উপযুক্ত সময় বলেও মনে করেন ১৯৯২ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করা রশিদ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের হাতেই ট্রাম্পকার্ড। বাংলাদেশের অবস্থান সঠিক। পাকিস্তান এরচেয়ে ভালো সুযোগ পাবে না। পাকিস্তানের না খেলা মানে বিশ্বকাপ বন্ধ হয়ে যাওয়া, তারাই এখন চাবিকাঠি। এটা ঠিক যে পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে হয়তো ভুগতে হতে পারে। আইসিসি ইভেন্টে না খেললে নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানা পেতে পারে। তবে এখানে কিছু শব্দের ব্যবহার ছাড়া কিছুই করতে হচ্ছে না– আপনি কাকে সমর্থন করেন জানিয়ে দেওয়ার এখনই সময়।’

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ও সাংবাদিক নোমান নিয়াজ আর্থিক ক্ষতির প্রসঙ্গ টানলে রশিদ বলেন, ‘যখন আপনি বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেন, তখন আইসিসির অনুদানের চিন্তা ছেড়ে দিতে হয়। বাংলাদেশ এটা করে দেখিয়েছে। ২১ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট শেষ হয়ে যায়নি।’ একই অনুষ্ঠানে সাবেক এই পাক অধিনায়ক আরও বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে বিশ্বকাপের আয় ৫০ ভাগ কমে যাবে। বর্তমান ক্রিকেট–ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করার এটাই সেরা সময়। পাকিস্তানের এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত।’