ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ্মার তীব্র স্রোতে জাজিরায় ১০০ মিটার বিলীন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

  • আপডেট সময়: ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,শরীয়তপুর প্রতিনিধি:পদ্মা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি ও তীব্র স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় নতুন করে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা। তীব্র এই ভাঙনের মুখে ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি বসতঘর ও ৬টি দোকান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙনের তীব্রতায় কাথুরিয়া গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির বেশ কিছু অংশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঝুঁকিতে থাকা ঘরবাড়ি দ্রুত সরাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাৎ ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাথুরিয়া এলাকায় প্রায় ১০-১২ দিন আগে থেকেই ভাঙনের আভাস মিলছিল। এর মধ্যে গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নতুন করে ২৫ ফুট এলাকা বিলীন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা লোকমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষার আগেই যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করত, তবে আজ আমাদের ভিটেমাটি হারাতে হতো না।” পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।

ঘটনাটি জানার পর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, ডাম্পিং জোরদার করা হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত শেষ করে ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

উল্লেখ্য, জাজিরা উপজেলার নদীতীর রক্ষায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তবে নকশা পরিবর্তন ও প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের প্রশাসনিক অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পাউবো। বর্তমানে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই অংশের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

পদ্মার তীব্র স্রোতে জাজিরায় ১০০ মিটার বিলীন, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ

আপডেট সময়: ০৭:২৪:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,শরীয়তপুর প্রতিনিধি:পদ্মা নদীতে আশঙ্কাজনকভাবে পানি ও তীব্র স্রোত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া এলাকায় নতুন করে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা। তীব্র এই ভাঙনের মুখে ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি বসতঘর ও ৬টি দোকান নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরও বহু ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

ভাঙনের তীব্রতায় কাথুরিয়া গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র সড়কটির বেশ কিছু অংশ নদীতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। হঠাৎ ভাঙন শুরু হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঝুঁকিতে থাকা ঘরবাড়ি দ্রুত সরাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হঠাৎ ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাথুরিয়া এলাকায় প্রায় ১০-১২ দিন আগে থেকেই ভাঙনের আভাস মিলছিল। এর মধ্যে গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নতুন করে ২৫ ফুট এলাকা বিলীন হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা লোকমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বর্ষার আগেই যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড স্থায়ী বাঁধের কাজ শুরু করত, তবে আজ আমাদের ভিটেমাটি হারাতে হতো না।” পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল ফরাজী জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেবে।

ঘটনাটি জানার পর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে শুকনা খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং স্থায়ী প্রতিরোধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাঙন ঠেকাতে ঘটনাস্থলে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শরীয়তপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান জানান, ডাম্পিং জোরদার করা হয়েছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাজ দ্রুত শেষ করে ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

উল্লেখ্য, জাজিরা উপজেলার নদীতীর রক্ষায় ১ হাজার ২০২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। তবে নকশা পরিবর্তন ও প্রায় দুই কিলোমিটার অংশের প্রশাসনিক অনুমোদনে বিলম্ব হওয়ায় সময়মতো কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পাউবো। বর্তমানে প্রায় ২৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের ওই অংশের কাজ আগামী বছরের জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।