লোকসমাচার ডেস্ক:নির্বাচনকে বিতর্কিত করাই বিএনপির মূল উদ্দেশ্য বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খান হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আজকে ঢাকা উত্তরে এবং সিরাজগঞ্জে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিএনপি জানে তারা এ নির্বাচনে পরাজিত হবে। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নির্বাচনকে বিতর্কিত করা। নির্বাচন শেষে একগাদা অভিযোগ নিয়ে তারা হাজির হয়। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সংস্কৃতি লালন করছে তারা। বিএনপি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করার কথা বলেছে। আমি বিএনপিকে বলবো যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাদের শিক্ষা নেয়ার জন্য।’
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি যে পথে হাঁটছে, নির্বাচন বানচাল করার জন্য তারা অতীতে যেভাবে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে, এখন নির্বাচনকে বানচাল করতে ব্যর্থ হয়ে, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ তা প্রত্যাখ্যান করছে। সুতরাং আজকের নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টাও মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।’
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো এই ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে আপনারা আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। বিএনপির নিজেদের মধ্যে অনৈক্য, সেটি এখন আর ঘরের মধ্যে নেই, অনেকেই প্রকাশ্যে বলতে শুরু করেছেন। আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাব আগে নিজের ঘরের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করুন, তারপর বৃহত্তর ঐক্যের কথা বলুন।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা চাই দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক। শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে দেশের গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। সেজন্য বিএনপিও শক্তিশালী হোক, সেটিই আমরা চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বিএনপি নিজেদের মধ্যে অনৈক্য ঘোচাতে পারছে না এবং তারা শক্তিশালীও হতে পারছে না। বিএনপি যদি ষড়যন্ত্রের পথ, মানুষকে বন্দি-জিম্মি, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা ও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপের রাজনীতির পথ পরিহার না করে, তাহলে বিএনপির পক্ষে জনগণের কাছে প্রিয় হওয়ার কোনও সুযোগ নাই।’
শহীদ নূর হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহীদ নূর হোসেন নিজের জীবন দিয়ে, নিজের জীবন্ত পোস্টারকে চির অবিস্মরনীয় করে রেখে গেছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে নূর হোসেনের নাম রক্তাক্ষরে লেখা থাকবে।’
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, ‘নূর হোসেন শুধু স্বৈরচারবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক নয়, সারা বিশ্বের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের প্রতীক।’
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সম্পাদক অ্যাড. বলরাম পোদ্দার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক মিরাজ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা এম এ করিম, স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি জিন্নাত আলী জিন্নাহ ও শহীদ নূর হোসেনের বড় ভাই আলী হোসেন।
স্বাধীনতা পরিষদের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাহাদৎ হোসেন টয়েলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
























