ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ভয়াবহভাবে বাড়ছে শিশু নিখোঁজ : সংসদে রুমিন ফারহানা

  • আপডেট সময়: ১১:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জাতীয় সংসদে শিশু নিখোঁজ ও গুমের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সবার সামনে উপস্থাপন করেন এই আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। এর মধ্যে এখনও দুই হাজারের বেশি শিশুর কোনো হদিস মিলেনি উল্লেখ করে তিনি নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের আহাজারি ও আকুল আকুতির কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী সরকারি কোনো বাহিনী কিংবা তাদের অনুমোদন ও সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে তাকে গুম বলা হয়। একজন আইনজীবী ও আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে শিশুদের হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজের ঘটনাটি সরাসরি এই গুমের আইনি সংজ্ঞায় পড়ে না। কিন্তু গুমের আওতায় না পড়লেও ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবতাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে চরম আশঙ্কাজনক। সেই তাগিদ থেকেই তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সকল সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের আকুল আর্তনাদের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানহারা পরিবারগুলো আজ একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশ করছে এবং রাজপথে দাঁড়িয়ে এক বাক্যেই বলছে যে ‘আমাদের সন্তানদের আমাদের কোলে ফিরিয়ে দিন’। অথচ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিশালসংখ্যক শিশুর অন্তর্ধান ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সংসদে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ এবং তিনি প্রতিনিয়ত পত্রিকা বা দেশের সার্বিক খবর পড়ার সময় পান কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেই কারণেই একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রশাসনিক উদাসীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম অবনতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, কীভাবে প্রতিনিয়ত শত শত শিশু উধাও হয়ে যাচ্ছে। এসব শিশু কোনো আন্তর্জাতিক শিশু পাচারকারী চক্রের শিকার হচ্ছে নাকি কোনো অসাধু বলয়ের হাত ধরে অপরাধ জগতে ছিটকে পড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্তান হারানো বাবা-মা এবং স্বজনরা যখন নিখোঁজের পর দিন-রাত প্রশাসনিক দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক নজরদারি ও সদিচ্ছার অভাবে কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।

রুমিন ফারহানা তাগিদ দেন যে, নিখোঁজ হওয়া প্রতিটা শিশুর প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনতিবিলম্বে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে পূর্ণাঙ্গ অভিযানে নামার জন্য জোর দাবি জানান।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

দেশে ভয়াবহভাবে বাড়ছে শিশু নিখোঁজ : সংসদে রুমিন ফারহানা

আপডেট সময়: ১১:৫০:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:জাতীয় সংসদে শিশু নিখোঁজ ও গুমের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ২০২৬ সালের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৫ হাজার ৭১৭ জন শিশু নিখোঁজ হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সবার সামনে উপস্থাপন করেন এই আইনজীবী ও সংসদ সদস্য। এর মধ্যে এখনও দুই হাজারের বেশি শিশুর কোনো হদিস মিলেনি উল্লেখ করে তিনি নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের আহাজারি ও আকুল আকুতির কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনেন।

রোববার (০৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর সভাপতিত্বে এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, আইনি সংজ্ঞা অনুযায়ী সরকারি কোনো বাহিনী কিংবা তাদের অনুমোদন ও সমর্থনে কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক করা হলে তাকে গুম বলা হয়। একজন আইনজীবী ও আইনপ্রণেতা হিসেবে তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে শিশুদের হারিয়ে যাওয়া বা নিখোঁজের ঘটনাটি সরাসরি এই গুমের আইনি সংজ্ঞায় পড়ে না। কিন্তু গুমের আওতায় না পড়লেও ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও মানবতাবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে চরম আশঙ্কাজনক। সেই তাগিদ থেকেই তিনি জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সকল সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

নিখোঁজ শিশুদের স্বজনদের আকুল আর্তনাদের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, সন্তানহারা পরিবারগুলো আজ একত্রিত হয়ে সভা-সমাবেশ করছে এবং রাজপথে দাঁড়িয়ে এক বাক্যেই বলছে যে ‘আমাদের সন্তানদের আমাদের কোলে ফিরিয়ে দিন’। অথচ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিশালসংখ্যক শিশুর অন্তর্ধান ঠেকাতে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

সংসদে উপস্থিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একজন অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ এবং তিনি প্রতিনিয়ত পত্রিকা বা দেশের সার্বিক খবর পড়ার সময় পান কি না তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেই কারণেই একজন দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি আবারও স্মরণ করিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

প্রশাসনিক উদাসীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তার চরম অবনতির কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, কীভাবে প্রতিনিয়ত শত শত শিশু উধাও হয়ে যাচ্ছে। এসব শিশু কোনো আন্তর্জাতিক শিশু পাচারকারী চক্রের শিকার হচ্ছে নাকি কোনো অসাধু বলয়ের হাত ধরে অপরাধ জগতে ছিটকে পড়ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সন্তান হারানো বাবা-মা এবং স্বজনরা যখন নিখোঁজের পর দিন-রাত প্রশাসনিক দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঠিক নজরদারি ও সদিচ্ছার অভাবে কোনো কূলকিনারা পাওয়া যাচ্ছে না।

রুমিন ফারহানা তাগিদ দেন যে, নিখোঁজ হওয়া প্রতিটা শিশুর প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করা এবং উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান সাংবিধানিক দায়িত্ব। শিশু নিখোঁজের ঘটনাগুলোর পেছনে কোনো সুসংগঠিত সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা বের করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনতিবিলম্বে বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে পূর্ণাঙ্গ অভিযানে নামার জন্য জোর দাবি জানান।