ঢাকা ০৬:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড়

  • আপডেট সময়: ০৮:০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৭ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ আবু সায়েমকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রহনপুর পৌরসভার ওয়েবসাইটেও তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত বলে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে দশম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর গত কয়েক বছরে তিনি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন,বিপুল পরিমাণ জমি ও অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহীর উপশহর উত্তরা ক্লিনিক এলাকায় তার দুটি বহুতল ভবন এবং একাধিক জমি রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া রহনপুর পৌর এলাকার নুনগোলায় জমি ক্রয় করে সাততলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। রহনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেল, একটি গোডাউন এবং আরও দুটি বহুতল ভবন রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় রহনপুর পৌর এলাকার তাহেরনগরে প্রায় আড়াই বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একইভাবে সোনাদহা মোড় এলাকায় প্রায় ৩ বিঘা জমির বর্তমান মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা ।

এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন দশম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয় বা সঞ্চয় দিয়ে কিভাবে এত পরিমান সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব.?
স্বরে জমিন অনুসন্ধানে আরো ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে তিনি রহনপুর পৌরসভার সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন এলাকার সচেতন মহল বলেন অভিযুক্ত বিষয়গুলো তদন্ত করলে তার বিরুদ্ধে আরো বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও অবৈধ সম্পদের উৎস বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আবু সায়েমের বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি জানান তিনি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি কোন অবৈধ সম্পদ অর্জন করেননি, একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা কিভাবে এত পরিমাণ সম্পদ অর্জন করে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নির্ভরযোগ্য কোন উত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

দশম গ্রেডের চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদ! রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবু সায়েমকে ঘিরে তোলপাড়

আপডেট সময়: ০৮:০১:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার,নিজস্ব প্রতিবেদক:চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোঃ আবু সায়েমকে ঘিরে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদের অভিযোগ স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রহনপুর পৌরসভার ওয়েবসাইটেও তিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) হিসেবে কর্মরত বলে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৮ সালে দশম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর গত কয়েক বছরে তিনি রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন,বিপুল পরিমাণ জমি ও অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহীর উপশহর উত্তরা ক্লিনিক এলাকায় তার দুটি বহুতল ভবন এবং একাধিক জমি রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া রহনপুর পৌর এলাকার নুনগোলায় জমি ক্রয় করে সাততলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। রহনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি আবাসিক হোটেল, একটি গোডাউন এবং আরও দুটি বহুতল ভবন রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায় রহনপুর পৌর এলাকার তাহেরনগরে প্রায় আড়াই বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। একইভাবে সোনাদহা মোড় এলাকায় প্রায় ৩ বিঘা জমির বর্তমান মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকা ।

এত বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একজন দশম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয় বা সঞ্চয় দিয়ে কিভাবে এত পরিমান সম্পদের মালিক হওয়া সম্ভব.?
স্বরে জমিন অনুসন্ধানে আরো ভয়ংকর তথ্য উঠে এসেছে তিনি রহনপুর পৌরসভার সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন কার্যক্রমে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে থাকেন এলাকার সচেতন মহল বলেন অভিযুক্ত বিষয়গুলো তদন্ত করলে তার বিরুদ্ধে আরো বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও অবৈধ সম্পদের উৎস বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।

অভিযোগের বিষয়ে মোঃ আবু সায়েমের বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হলে তিনি জানান তিনি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে তিল তিল করে সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি কোন অবৈধ সম্পদ অর্জন করেননি, একজন দশম গ্রেডের কর্মকর্তা কিভাবে এত পরিমাণ সম্পদ অর্জন করে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি নির্ভরযোগ্য কোন উত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পদের উৎস, আয়কর রিটার্ন, সম্পদ বিবরণী এবং সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুসারে প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার। এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যগুলো অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে।