লোকসমাচার ডেস্ক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে কুপ্রস্তাবের ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন বিদ্যালয় কমিটির সদস্য। গত বৃহস্পতিবার ম্যানেজিং কমিটির ওই সভায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়ে পার পান বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শরীফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মামুন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর নামে কুপ্রস্তাব ও দুটি মোবাইল নম্বরসহ একটি টোকন দেন বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শরীফপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম মামুন। এতে ছাত্রীর মা স্কুল কমিটির সদস্য মামুনকে তাদের বাড়ি আসতে নিষেধ করে এবং বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে অবগত করেন।
বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে ইভটিজিং করেন বিতর্কিত ওই সদস্য মামুন। গত ১০ জুলাই বুধবার ও ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার পৃথকভাবে স্কুলছাত্রীর পথরোধ করে মামুন বলেন, ‘তুই স্কুলে আমার নামে যে, অভিযোগ দিয়েছিলি তা তুই তুলে নে। আমি তোকে আমার খরচে মেট্রিক পাশ করাবো। তোর যা কিছু প্রয়োজন সবকিছু আমি তোকে দেব।’ পরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে শিক্ষকদের সামনে তার নামে নানা মিথ্যা অপবাদ দিয়ে অপমান করেন। এছাড়াও মেয়েকে স্কুল থেকে বের করে দিবেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করিয়ে রাখবেন, উপবৃত্তির নাম কেটে দিবেন এরকম নানা ভয়ভীতিও প্রদর্শন করেন। এ ঘটনায় হয়রানির শিকার হলে নিরাপত্তার জন্য স্কুলছাত্রীর মা গত ১৬ জুলাই বিকেলে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে পৃথক দু’টি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর মামুনের ভয়ে ১৪ দিন বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয় স্কুলছাত্রী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ‘টোকেন পাঠিয়ে স্কুল ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব’ দেওয়া বিতর্কিত ওই সদস্য, যুবলীগ নেতা মামুনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তিনি ওই ছাত্রীর মা-বাবার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে পরবর্তীতে কিছু করবেন না বলে অঙ্গীকার নামায় স্বাক্ষর করে মুচলেকা দেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্কুলছাত্রীর অভিভাবকের দেওয়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করতে গিয়ে সমঝোতার চেষ্ঠা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার। ঘটনার আপোস-মীমাংসার ১৫দিন পর শনিবার ফের স্কুলের ক্লাসে ফিরে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী।
স্কুলছাত্রীর মা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘মামুন প্রকাশ্য ক্ষমা চেয়েছেন আর বন সই দিয়েছেন। সেখানে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ছিলেন। কিন্তু আমার মেয়ে উপস্থিত ছিলো না। এখনও আমরা শঙ্কায় রয়েছি। মামুন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভবিষ্যতে আমার মেয়ের ক্ষতি করতে পারে।’
কানিহাটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজল উদ্দিন আপোস-মীমাংসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শনিবার স্কুলে ফিরেছে ছাত্রীটি।
উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ জানান, অভিযোগের বিষয়টি শুনেছি। দলীয় পদের প্রভাব খাটিয়ে এ রকম ঘটনায় মাজহারুল ইসলাম মামুনের কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার শনিবার বিকেলে জানান, ইউএনওর নির্দেশে সরেজমিন তদন্ত করেছি। রিপোর্ট ইউএনও অফিসে জমা দেব। তবে সমঝোতার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে তিনি বলেন, আমি সমঝোতা করিনি। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি ও ভুক্তভোগী ছাত্রীর পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ শনিবার বিকেলে বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট এখনো পাইনি। ঘটনার সত্যতা পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নিরাপত্তার ভয়ে ছাত্রী নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ নিতে যাতে কোনো হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য অভিযোগটি থানায় পাঠিয়েছি।





















