ঢাকা ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হত্যাকাণ্ড : সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

  • আপডেট সময়: ০৩:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯
  • ১৮১ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে আসামিদের হাজিরা শেষে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে বিচারকার্যের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর এই মামলার বিচারকার্য পরিচালনা শুরু হল।

গত সপ্তাহে এই মামলায় হাজিরার জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাঈদীকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ১১টা ৯মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে সাঈদীকে আদালতে আনা হয়। হাঁটতে না পারায় ভ্যান থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে আদালতে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় মামলার আরও ৫৯জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দু ঘণ্টা পর আবার সাঈদীকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে সাঈদীকে আনার আগেই আদালত প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালত চত্বরের কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এদিন সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিরাজী শওকত সালেহীন-এলেন বলেন, ‘সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মহামান্য আদালত বিচারকার্যের তারিখ পরবর্তীতে নির্ধারণ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ফারুক নিহত হওয়ার দুদিন আগে সাঈদী রাজশাহীতে এসেছিলেন। তিনি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ফারুককে হত্যার নির্দেশনা দেন। এজন্য সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১০৯ এবং বাকিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।’

তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু মো. সেলিম। তিনি বলেন, ‘ফারুক হত্যার ব্যাপারে সাঈদী রাজশাহীতে এসে গোপন বৈঠক করেছেন এগুলো মিথ্যা। সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাবিতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এর পরদিন শাহ মখদুম হলের পাশের একটি ম্যানহোল থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে আসামি করা হয়।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হত্যাকাণ্ড : সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

আপডেট সময়: ০৩:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় জামায়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. এনায়েত কবীর সরকারের আদালতে আসামিদের হাজিরা শেষে এ অভিযোগ গঠন করা হয়। তবে বিচারকার্যের তারিখ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ সাত বছর পর এই মামলার বিচারকার্য পরিচালনা শুরু হল।

গত সপ্তাহে এই মামলায় হাজিরার জন্য আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাঈদীকে ঢাকা থেকে রাজশাহীতে আনা হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল ১১টা ৯মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে সাঈদীকে আদালতে আনা হয়। হাঁটতে না পারায় ভ্যান থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে আদালতে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় মামলার আরও ৫৯জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দু ঘণ্টা পর আবার সাঈদীকে আদালত থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে সাঈদীকে আনার আগেই আদালত প্রাঙ্গনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আদালত চত্বরের কয়েকটি স্থানে তল্লাশি চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এদিন সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিরাজী শওকত সালেহীন-এলেন বলেন, ‘সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। মহামান্য আদালত বিচারকার্যের তারিখ পরবর্তীতে নির্ধারণ করবেন।’

তিনি আরো বলেন, ফারুক নিহত হওয়ার দুদিন আগে সাঈদী রাজশাহীতে এসেছিলেন। তিনি ছাত্রশিবিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ফারুককে হত্যার নির্দেশনা দেন। এজন্য সাঈদীর বিরুদ্ধে ৩০২ ও ১০৯ এবং বাকিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।’

তবে সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু মো. সেলিম। তিনি বলেন, ‘ফারুক হত্যার ব্যাপারে সাঈদী রাজশাহীতে এসে গোপন বৈঠক করেছেন এগুলো মিথ্যা। সাঈদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাবিতে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এর পরদিন শাহ মখদুম হলের পাশের একটি ম্যানহোল থেকে ফারুকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় রাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে নগরীর মতিহার থানায় মামলা করেন। এতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মো. মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে আসামি করা হয়।