ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে এই জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • আপডেট সময়: ১০:১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
  • ২০৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সংগঠনের সদস্যদের (রুকন) প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা দলটির বাংলাদেশের পঞ্চম আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মাওলানা আব্দুর রহিম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও মকবুল আহমেদের পর তিনি এই দলটির আমির নির্বাচিত হলেন।

জন্ম ও পরিবার
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আবরু মিঞা ও মাতার নাম মরহুমা খাতিবুন নেসা। তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানার সবুজবাগ এলাকায়।

তিনি ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ডা. আমিনা শফিক ৮ম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তার ২ মেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন এবং একমাত্র পুত্র এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র।

শিক্ষা
শফিকুর রহমান ১৯৭৪ সালে কুলাউড়ার বরামচল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতি
সিলেট মেডিকেল কলেজেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হোন। ছাত্রশিবিরের সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হন। ১৯৮৬ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা শাখা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ১৯৮৯ থেকে ৯১ পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং ১৯৯১ থেকে ৯৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর, ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কেন্দ্রীয় জামায়াতে মনোনীত
তিনি ১৯৯৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১০ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২০১১ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্ম
শফিকুর রহমান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও রক্তদানকারী ক্লাব ‘পাল্স’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মানিত সদস্য।

নির্বাচনের অংশগ্রহণ
আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে (কাফরুল ও মিরপুর) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শফিকুর রহমান। এছাড়াও তিনি ২০০১ সালে মৌলভীবাজার-২ আসনে (কুলাউড়া উপজেলা ও কমলগঞ্জের একাংশ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভ্রমণ
তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, গ্রিস, বেলজিয়াম, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, ব্রুনেই প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কে এই জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট সময়: ১০:১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:সংগঠনের সদস্যদের (রুকন) প্রত্যক্ষ ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির নির্বাচিত হয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। ছাত্রশিবিরের সাবেক এই নেতা দলটির বাংলাদেশের পঞ্চম আমির হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মাওলানা আব্দুর রহিম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামী ও মকবুল আহমেদের পর তিনি এই দলটির আমির নির্বাচিত হলেন।

জন্ম ও পরিবার
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৫৮ সালের ৩১ অক্টোবর মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মরহুম আবরু মিঞা ও মাতার নাম মরহুমা খাতিবুন নেসা। তার বর্তমান ঠিকানা সিলেট মহানগরীর শাহপরান থানার সবুজবাগ এলাকায়।

তিনি ২ কন্যা ও ১ পুত্র সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ডা. আমিনা শফিক ৮ম জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। তার ২ মেয়ে চিকিৎসা শাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা নিয়েছেন এবং একমাত্র পুত্র এমবিবিএস শেষ বর্ষের ছাত্র।

শিক্ষা
শফিকুর রহমান ১৯৭৪ সালে কুলাউড়ার বরামচল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৭৬ সালে সিলেটের এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৮৩ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

রাজনীতি
সিলেট মেডিকেল কলেজেই ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে কলেজ শাখা শিবিরের সভাপতি নির্বাচিত হোন। ছাত্রশিবিরের সিলেট শহর শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য হন। ১৯৮৬ সাল থেকে ৮৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা শাখা জামায়াতের সেক্রেটারি ও ১৯৮৯ থেকে ৯১ পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং ১৯৯১ থেকে ৯৮ সাল পর্যন্ত সিলেট জেলা জামায়াতের আমীর, ১৯৯৮ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত সিলেট মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

কেন্দ্রীয় জামায়াতে মনোনীত
তিনি ১৯৯৮ সালে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মনোনীত হন। ২০১০ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ২০১১ সাল থেকে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।

কর্ম
শফিকুর রহমান একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়াও রক্তদানকারী ক্লাব ‘পাল্স’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি। তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) আজীবন সদস্য এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সম্মানিত সদস্য।

নির্বাচনের অংশগ্রহণ
আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে (কাফরুল ও মিরপুর) ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শফিকুর রহমান। এছাড়াও তিনি ২০০১ সালে মৌলভীবাজার-২ আসনে (কুলাউড়া উপজেলা ও কমলগঞ্জের একাংশ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভ্রমণ
তিনি সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, গ্রিস, বেলজিয়াম, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, ব্রুনেই প্রভৃতি দেশ ভ্রমণ করেছেন।