ঢাকা ১১:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুলাউড়ায় ঘুমন্ত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করল বড় ভাই!

  • আপডেট সময়: ১০:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯
  • ১৮৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ছোট ভাই রাজিবুল ইসলাম রাজুকে ঘুমন্তবস্থায় নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন বড় ভাই মামুনুর রশীদ মামুন। আজ রবিবার সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে তৈয়ব আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মামুন ও রাজু একই ইউনিয়নের নুনা গ্রামের ওয়ারিছ আলীর পুত্র। নিহত রাজু উপজেলার রবিরবাজার দারুসুন্নাহ আলিম মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় ছেলে হত্যার দায়ে বড় ছেলে মামুনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন পিতা ওয়ারিছ আলী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ারিছ আলীর ৪ ছেলে ২ মেয়ে। বড় ছেলে মামুনুর রশীদ মামুন ওয়ারিছ আলী সাথে তার বাড়িতে থাকতেন। ২ ছেলে প্রবাসে ও এক মেয়ে শশুর বাড়িতে থাকে। তার স্ত্রী নেকজান বেগম ছোট ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজু ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাই তৈয়ব আলীর (ওয়ারিছের শ্যালকের) বাড়িতে থাকেন। ওয়ারিছ আলীর বড় ছেলে মামুন রবিবার ভোরে মামার বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে ঘরের ভিতর বিছানায় ঘুমে থাকা ছোট ভাই রাজুকে কোপাতে থাকে। এ সময় রাজুর চিৎকার শুনে নেকজান বেগম রুমে এসে দেখেন মামুন ধারালো দা দিয়ে ছোট ছেলেকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। মাকে দেখে মামুন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ পুলিশ সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত রাজুর এক স্বজন জানান, মামুন পুরো সুস্থ। রাজুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে মামুন। পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পিতা ওয়ারিছ আলী বলেন, মামুন দিনমজুরের কাজ করতো। তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। ৮ বছর আগে মামুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তার স্ত্রী কিছুদিন পর বাপের বাড়ি চলে যায়।

কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, রাজুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামুন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযানে রয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামুন মানসিক রোগী। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার কারণ জানা যাবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কুলাউড়ায় ঘুমন্ত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করল বড় ভাই!

আপডেট সময়: ১০:১৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় ছোট ভাই রাজিবুল ইসলাম রাজুকে ঘুমন্তবস্থায় নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন বড় ভাই মামুনুর রশীদ মামুন। আজ রবিবার সকাল ৬ টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে তৈয়ব আলীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মামুন ও রাজু একই ইউনিয়নের নুনা গ্রামের ওয়ারিছ আলীর পুত্র। নিহত রাজু উপজেলার রবিরবাজার দারুসুন্নাহ আলিম মাদরাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় ছেলে হত্যার দায়ে বড় ছেলে মামুনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন পিতা ওয়ারিছ আলী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ারিছ আলীর ৪ ছেলে ২ মেয়ে। বড় ছেলে মামুনুর রশীদ মামুন ওয়ারিছ আলী সাথে তার বাড়িতে থাকতেন। ২ ছেলে প্রবাসে ও এক মেয়ে শশুর বাড়িতে থাকে। তার স্ত্রী নেকজান বেগম ছোট ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজু ও ছোট মেয়েকে নিয়ে ভাই তৈয়ব আলীর (ওয়ারিছের শ্যালকের) বাড়িতে থাকেন। ওয়ারিছ আলীর বড় ছেলে মামুন রবিবার ভোরে মামার বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে ঘরের ভিতর বিছানায় ঘুমে থাকা ছোট ভাই রাজুকে কোপাতে থাকে। এ সময় রাজুর চিৎকার শুনে নেকজান বেগম রুমে এসে দেখেন মামুন ধারালো দা দিয়ে ছোট ছেলেকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। মাকে দেখে মামুন সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তীসহ পুলিশ সকাল ১১টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে রাজুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিহত রাজুর এক স্বজন জানান, মামুন পুরো সুস্থ। রাজুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে মামুন। পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বেরিয়ে আসবে।

নিহতের পিতা ওয়ারিছ আলী বলেন, মামুন দিনমজুরের কাজ করতো। তার মানসিক সমস্যা রয়েছে। ৮ বছর আগে মামুনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে তার স্ত্রী কিছুদিন পর বাপের বাড়ি চলে যায়।

কুলাউড়া থানার ওসি তদন্ত সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, রাজুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামুন পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা যায়নি। তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিযানে রয়েছে।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইয়ারদৌস হাসান বলেন, এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানায় নিহতের পিতা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামুন মানসিক রোগী। তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যার কারণ জানা যাবে।