ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ’

  • আপডেট সময়: ০৮:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৫৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:এখন আর কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিএনপি তাই সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কথা বলছে।

শ্রমিক, কৃষকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, অধিকার, নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে অর্থনীতি ও রাজনীতি পরিচালনা করতে হবে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে স্কুল অব লিডারশিপ, ইউএসএ’র বাংলাদেশ শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় দেশ দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে বর্তমানে কোনো সেতুবন্ধন নেই, যার কারণে পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

তিনি বলেন, দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থার অভাবে ভুগছেন। সম্প্রতি একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি; বরং বর্তমান বিনিয়োগকারীরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে, নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর থেকে জাপানিজ ডেলিগেশনসহ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা নড়াচড়া শুরু হয়েছে এবং তারা নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি এ নেতা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যা শুধুমাত্র রাজনীতিতেই নয়, অর্থনীতিতেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং এর ফলে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে বিএনপি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ স্লোগান দিয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে গণতন্ত্রায়ন হলেও অর্থনীতি যদি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেটে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র সফল হবে না। সত্যিকারের গণতন্ত্র তখনই কাজ করবে যখন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবার—সবক্ষেত্রেই গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিএনপি জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে এবং সমপরিমাণ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মাত্র এক শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে, যার একটি অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হচ্ছে। পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ একটি বিশাল অঙ্ক, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, শুধু স্কুল-কলেজ নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য স্কিলিং, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং-এর ওপর জোর দেওয়া হবে। এতে করে বিদেশে অদক্ষ শ্রমিকদের ৫০০ ডলারের বদলে দক্ষ শ্রমিকরা ২০০০-১০০০ ডলার বা তারও বেশি আয় করতে পারবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ না বলে তিনি এটিকে সুচিন্তিত হিসাব-নিকাশের ফল হিসেবে দাবি করেন। স্কিলিংয়ের মাধ্যমে এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গ্রামে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সেন্টার, বিপিও, ডেটা সেন্টার স্থাপন করে প্রায় দুই লাখ তরুণ-তরুণীর ব্যক্তিগত উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিএনপির। আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য পেপ্যাল বা বিকল্প প্ল্যাটফর্ম চালুর কথাও তিনি জানান।

তিনি মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের অর্থ চুরির বিরোধিতা করে বলেন, দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে পকেটে টাকা ভরার জন্য মেগা প্রজেক্টের প্রয়োজন নেই। যা জরুরি, সেটাই করা হবে। উন্নয়নের নামে জনগণকে বঞ্চিত করা কোনো রাজনীতি নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো কৃতিত্বের দাবিদার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের কৃতিত্ব। তিনি আরও বলেন, অতীত নিয়ে আলোচনা করে সময়ক্ষেপণ করার কোনো মানে হয় না।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ’

আপডেট সময়: ০৮:১০:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:এখন আর কথার ফুলঝুরি দিয়ে রাজনীতি করার দিন শেষ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিএনপি তাই সুনির্দিষ্ট নীতি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ পরিচালনার কথা বলছে।

শ্রমিক, কৃষকসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ, অধিকার, নাগরিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করে অর্থনীতি ও রাজনীতি পরিচালনা করতে হবে।

বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে স্কুল অব লিডারশিপ, ইউএসএ’র বাংলাদেশ শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনা জরুরি ছিল, কিন্তু তা না হওয়ায় দেশ দিন দিন পিছিয়ে যাচ্ছে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার ও জনগণের মধ্যে বর্তমানে কোনো সেতুবন্ধন নেই, যার কারণে পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এমনকি ব্যবসা-বাণিজ্যও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারছে না।

তিনি বলেন, দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না, কারণ বিনিয়োগকারীরা আস্থার অভাবে ভুগছেন। সম্প্রতি একটি বিনিয়োগ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও তাতে নতুন কোনো বিনিয়োগ আসেনি; বরং বর্তমান বিনিয়োগকারীরাই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে, নির্বাচনের ঘোষণা আসার পর থেকে জাপানিজ ডেলিগেশনসহ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা নড়াচড়া শুরু হয়েছে এবং তারা নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি এ নেতা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে একটি গোষ্ঠীকেন্দ্রিক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যা শুধুমাত্র রাজনীতিতেই নয়, অর্থনীতিতেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে এবং এর ফলে বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ কারণে বিএনপি ‘অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ন’ স্লোগান দিয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতিতে গণতন্ত্রায়ন হলেও অর্থনীতি যদি মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেটে থাকে, তাহলে গণতন্ত্র সফল হবে না। সত্যিকারের গণতন্ত্র তখনই কাজ করবে যখন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও পরিবার—সবক্ষেত্রেই গণতন্ত্রায়ন নিশ্চিত হবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, বিএনপি জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত স্বাস্থ্য খাতে এবং সমপরিমাণ শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমানে মাত্র এক শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে, যার একটি অংশ দুর্নীতিতে নষ্ট হচ্ছে। পাঁচ শতাংশ বিনিয়োগ একটি বিশাল অঙ্ক, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, শুধু স্কুল-কলেজ নয়, দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য স্কিলিং, রি-স্কিলিং ও আপ-স্কিলিং-এর ওপর জোর দেওয়া হবে। এতে করে বিদেশে অদক্ষ শ্রমিকদের ৫০০ ডলারের বদলে দক্ষ শ্রমিকরা ২০০০-১০০০ ডলার বা তারও বেশি আয় করতে পারবে, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।

১৮ মাসে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে ‘রাজনৈতিক বক্তব্য’ না বলে তিনি এটিকে সুচিন্তিত হিসাব-নিকাশের ফল হিসেবে দাবি করেন। স্কিলিংয়ের মাধ্যমে এ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। গ্রামে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে কল সেন্টার, বিপিও, ডেটা সেন্টার স্থাপন করে প্রায় দুই লাখ তরুণ-তরুণীর ব্যক্তিগত উদ্যোগকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বিএনপির। আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য পেপ্যাল বা বিকল্প প্ল্যাটফর্ম চালুর কথাও তিনি জানান।

তিনি মেগা প্রজেক্টের নামে জনগণের অর্থ চুরির বিরোধিতা করে বলেন, দেশের মানুষকে বঞ্চিত করে পকেটে টাকা ভরার জন্য মেগা প্রজেক্টের প্রয়োজন নেই। যা জরুরি, সেটাই করা হবে। উন্নয়নের নামে জনগণকে বঞ্চিত করা কোনো রাজনীতি নয়।

তিনি বলেন, বিএনপি জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো কৃতিত্বের দাবিদার নয়, বরং এটি বাংলাদেশের মানুষের কৃতিত্ব। তিনি আরও বলেন, অতীত নিয়ে আলোচনা করে সময়ক্ষেপণ করার কোনো মানে হয় না।