লোকসমাচার ডেস্ক:জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কর্মসূচি পালনকালে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চড় মারেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সচিবালয়ের সামনে ১১ দলীয় ঐক্যের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় এ ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নেতাকর্মীদের এক বিশাল জটলা ছিল। সে সময় সেখানে চরম উত্তেজনার মাঝে মিছিল ও স্লোগান চলছিল। একপর্যায়ে ভিড়ের ভেতর বিশৃঙ্খলা সামলাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দলের ঊর্ধ্বতন নেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ধস্তাধস্তির এক ফাঁকে স্বয়ং জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সামনে থাকা শফিকুল ইসলাম মাসুদকে সজোরে ধাক্কা দেন এবং চড় মারেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মী ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে ওই মুহূর্তে এমন হট্টগোল তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
সচিবালয়ের সামনে তীব্র প্রতিবাদ ও বাধা
এর আগে, রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি পালন শেষে মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নেন জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। সচিবালয় অভিমুখে যাওয়ার পথে মিছিলে পুলিশি বাধা দিলে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
এ সময় রাজপথে নেতাকর্মীদের ‘গ্যাস দে, বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছাইড়া দে’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’ সহ বিভিন্ন সরকারবিরোধী স্লোগানে উত্তাল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে সচিবালয়ের সামনে প্রায় ২০ মিনিট অবস্থান করেন রাজপথের আন্দোলনকারীরা। এ সময় জামায়াত আমীর বলেন, “আমরা জনগণের সুনির্দিষ্ট দাবি জানাতে এসেছি। সচিবালয় থেকে নিচে আসতে পাঁচ মিনিটও লাগে না, অথচ সরকারের কোনো প্রতিনিধি আমাদের ডাকে সাড়া দিলেন না। যদি মিছিল থামাতে চান, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী বা প্রতিনিধিকে এসে আন্দোলনকারীদের স্মারকলিপি গ্রহণ করতে হবে।”
লংমার্চ ও মহাসমাবেশের বড় কর্মসূচি ঘোষণা
সচিবালয়ের রাজপথ থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চার বিভাগে লংমার্চ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের নতুন রাজপথের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান। History
১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত নতুন সূচি:
● ৫ সেপ্টেম্বর: ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ।
● ১৯ সেপ্টেম্বর: ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ।
● ১০ অক্টোবর: ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখে লংমার্চ।
● ২৪ অক্টোবর: ঢাকা থেকে সিলেট অভিমুখে লংমার্চ।
● ১৪ নভেম্বর: রাজধানী ঢাকায় বিশাল মহাসমাবেশ।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, জনদাবি আদায়ে ব্যর্থ হলে রাজপথে একের পর এক কঠোর কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।


























