ঢাকা ০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমপিরা ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না

  • আপডেট সময়: ০২:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
  • ২১৫ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: সংসদ সদস্যরা ডিগ্রি পর্যন্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকতে পারবেন না বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।

গত বছর ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছিল।

রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো: আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরের পর আজ এ রায় প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে ২০১৭ সালে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এসএম আফজালুল হক রিট আবেদনটি দাখিল করেছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্যকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। অপরদিকে গভর্নিং বডি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদমর্যাদা সংসদ সদস্যের নিচের পদমর্যাদার। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি গভর্নিং বডির সভাপতি হন তাহলে কার্যত উক্ত গভর্নিং বডি একটি ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে বাধ্য।

সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন আইন প্রণয়নের জন্য। আর তারা সার্বক্ষণিক এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম করার কাজে ন্যস্ত থাকার কথা। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই পরবর্তীতে মন্ত্রী ও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। সুতরাং একটি গভর্নিংবডির এমন ছোট পদে তার থাকা সমিচীন নয়। কারণ তিনি যদি একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন তাহলে দেশের অন্যান্য উন্নয়নমুখী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

রায়ে আরো বলা হয়, ‘হাইকোর্ট ও মাননীয় আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত আগের রায় পর্যালোচনা করে এটা কাঁচের মতো স্পষ্ট যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সহিত সাংঘর্ষিক’।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

এমপিরা ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না

আপডেট সময়: ০২:৩৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২০
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক: সংসদ সদস্যরা ডিগ্রি পর্যন্ত কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি থাকতে পারবেন না বলে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল তার পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক।

গত বছর ২৫ নভেম্বর হাইকোর্ট এই রায় দিয়েছিল।

রায় প্রদানকারী বিচারপতি মো: আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের স্বাক্ষরের পর আজ এ রায় প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আতরজান মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি পদ নিয়ে ২০১৭ সালে করা এক রিট আবেদনে হাইকোর্ট এ রায় দিয়েছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্যকে (এমপি) ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি হিসেবে মনোনয়ন দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এসএম আফজালুল হক রিট আবেদনটি দাখিল করেছিলেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একজন সংসদ সদস্যকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে হয়। অপরদিকে গভর্নিং বডি নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের পদমর্যাদা সংসদ সদস্যের নিচের পদমর্যাদার। সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি গভর্নিং বডির সভাপতি হন তাহলে কার্যত উক্ত গভর্নিং বডি একটি ব্যক্তির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে বাধ্য।

সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত হন আইন প্রণয়নের জন্য। আর তারা সার্বক্ষণিক এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম করার কাজে ন্যস্ত থাকার কথা। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই পরবর্তীতে মন্ত্রী ও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। সুতরাং একটি গভর্নিংবডির এমন ছোট পদে তার থাকা সমিচীন নয়। কারণ তিনি যদি একটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন তাহলে দেশের অন্যান্য উন্নয়নমুখী কার্যক্রম ব্যাহত হবে।

রায়ে আরো বলা হয়, ‘হাইকোর্ট ও মাননীয় আপিল বিভাগের এ সংক্রান্ত আগের রায় পর্যালোচনা করে এটা কাঁচের মতো স্পষ্ট যে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সভাপতি হিসেবে নিয়োগ বা মনোনয়ন সংবিধানের মূল উদ্দেশ্যের সহিত সাংঘর্ষিক’।