ঢাকা ১১:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমি লেকশোর হোটেল প্রতিষ্ঠা করেছি দেশের পর্যটন সেক্টরের উন্নয়ন এর জন্য

  • আপডেট সময়: ০৯:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার বিশেষ প্রতিনিধি:কাজী তারিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লেকশোর হোটেল। তিনি একজন দক্ষ ও মেধাবী। দেশের হোটেল ব্যবসার একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব। ঢাকার বাণিজ্যিক এবং ডিপ্লোম্যাটিক জোনে যে কয়টি আন্তর্জাতিকমানের আবাসিক হোটেল রয়েছে লেকশোর হোটেল তাদের মধ্যে একটি। ।উষ্ণ আতিথেয়তা, নিরাপত্তা এবং চমৎকার, উপাদেয় রন্ধনপ্রণালী হোটেলটিকে বৈশ্বিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে বনানী ১১নং সড়কের শেষ প্রান্তে গিয়ে গুলশান—বনানী লিং রোড (ব্রীজ) এর পূর্ব পাশে গিয়ে ১৫০ গজ সামনে এগোলে হাতের ডান পাশে এটি অবস্থিত।

স¤প্রতি আপনার নামে অভিযোগ এসেছে আপনি আপনার পিতাকে আটকে রেখে ভাইবোনের সাথে লেকশোর হোটেলের মালিক কাজী শামসুল হককে দেখা করতে দিচ্ছেন না। এজন্য তারা আদালতে আপনার পিতাকে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হেবিয়াস কপার্স রিট করেছেন আপনার চার ভাই বোন তাদের বক্তব্য আপনি আপনার পিতাকে গৃহবন্দী করে রেখেছেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজী শামসুল হক সাহেব এদের একজন সম্মানিত মানুষ একজন ব্যবসায়ী ও কনসুল জেনারেল বর্তমানে তার বয়স ৯২ বছর তিনি শারিকিভাবে অসুস্থ্য হয় তাকে নিয়ে আমার সৎ ভাই বোনেরা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। আমি নিজে লেকশোর হোটেল প্রতিষ্ঠা করি আমি বর্তমানে এর ৫০% মালিক আমার মা ৫০% মালিক এবং আমার পিতাকে আমি ১% শেয়ার উপহার দিয়ে চেয়ায়ম্যান করেছিলাম পরবর্তীতে তিনি আমাকে সেই ১% শেয়ার জয়েনষ্টক এর আইন মেনে সাক্ষীদের সামনে আমার শেয়ার আমার নামে ফেরত দেন ।আমার পিতা যখন আমার শেয়ার ফেরতদেন তখন তিনি কনসুল জেনারেলদের সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। আমি আমার ভাইয়ের ছেলেদের পড়াশোনা করিয়েছি ভাইকে সিক্স সিজন হোটেল করে দিয়েছি আমি সেই হোটেলের এমডি হয়েও সেখান থেকে কোন আর্থক সুবিধা নেই নাই। আমার তৈরি হোটেলে আমাকে ঢুকতে দেয়া না। আমাকে যারা চেনে তারা জানে আমি কত পরিশ্রম করে লেকশোর হোটেলকে গত ২২ বছর যাবৎ দাড় করিয়েছি। যার কারণে এই হোটেল দেশের পর্যটন সেক্টরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছি। সরকারকে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স দিয়েছি। বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। আজকে আমার নামে যা কিছু বলা হচ্ছে তা মিথ্যা অপপ্রচার পিতার সাথে তার সব সন্তানের যোগাযোগ আছে। আমার পিতা গত ছয় বছর ধরে বেশি অসুস্থতাজনিত কারণে শয্যাশায়ী। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি ভ্রমসহ বিভিণ্ণ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত বিধায় তিনি পরিবারের সদস্যদের ও বর্তমানে চেনেননা। আমার সন্দেহ হচ্ছে আমার ভাই বোনেরা কোন কুচক্রী মহলের পরামর্শে এ ধরনের হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আমার পিতা ও আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের কাজ করছেন।আমি এই ধরনের অপপ্রচার এর তীব্র নিন্দা জানাই আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবো

হোটেল সুযোগ—সুবিধা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বলেন কাজী তারিক। তিনি বলেন, ঢাকাকে ভিন্নভাবে আবিস্কারের সুযোগ করে দিতে রুফটপ সুইমিংপুল ও রুফটপ রেস্টুরেন্টের সুবিধা নিয়ে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলের যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানকারী এই হোটেলের খাবার পরিবেশনা আগত অথিদিদের কাছে বিশেষ সুনাম অর্জন করেচে। লেকশোর ট্যুর ও ট্রাভেলসের মাধ্যমে হোটেলে অবস্থারত অধিথিরা দেশে—বিদেশে নানা ধরণের ট্র্যরে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এছাড়া হোটেলটিতে রয়েছে বাই সাইকেল রেন্ট সুবিধা যা বিদেশী পর্যকটদের শহর ঘুরে দেখাবার ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

রুম এবং স্যুট বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানে এখানে ৬০টি বিলাসবহুল এবং সুপ্রশস্থ রুম এবং স্যূট রয়েছে। রুমগুলোর ডিজাইন মার্জিত এবং আধুনিক। রুমগুলো সর্বাধিক সুযোগ—সুবিধা সম্পন্ন। এখানে সাধারনত ৬ ধরনের রুম বা স্যূট রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স রুমের সংখ্যা মোট ৩০টি। প্রতিটি রুম ১৮৪ বর্গফুট বিশিষ্ট। এক্সিকিউটিভ প্রিমিয়াম ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ প্রিমিয়াম ডিলাক্স রুমের সংখ্যা মোট ৫টি। প্রতিটি রুম ২২০ বর্গফুট বিশিষ্ট। রুমের ফ্লোরগুলো বিদেশী মার্বেল দ্বারা মোড়ানো। এক্সিকিউটিভ টুইন স্যূট, এই স্যুটগুলো ২৮৪ বর্গফুট বিশিষ্ট। এই স্যুটের মধ্যেই মাস্টার বেডরুম এবং অন্যান্য লিভিং রুম আলাদা থাকে। এই স্যুট থেকে গুলশান লেক উপভোগ করা যায়। স্টুডিও এপার্টমেন্ট, এটি ৩৭৩ বর্গফুট বিশিষ্ট। এই এপার্টমেন্টের মধ্যেই রান্নাঘর এবং ডাইনিংরুম পৃথকভাবে রয়েছে। ক্রাউন স্যুট, এটি ৪৫৬ বর্গফুট বিশিষ্ট। এখানে কিচেন আলাদা, ডাইনিং রুম, মাষ্টার বেডরুম এবং লিভিং রুম রয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, এটি ৫৮০ বর্গফুট বিশিষ্ট। স্যুটটিতে সমসাময়িক আর্টওয়ার্ক এবং সাজসজ্জা রয়েছে। বাসঘরের আসনবিন্যাস বেশ আরামদায়ক।
হোটেল সুযোগ—সুবিধা সম্পর্কে কাজী তারিক বলেন, হোটেলের রুম এবং স্যুটসমূহের সকল সুযোগ—সুবিধা রয়েছে। প্রত্যেকটি রুম এবং স্যুট শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত। রুমগুলোতে স্যাটেলাইট চ্যানেলযুক্ত এলসিডি টেলিভিশন এবং ডিভিডি প্লেয়ার রয়েছে। রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা। আন্তর্জাতিক টেলিফোনে কল করার সুবিধা সম্পন্ন টেলিফোন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেকটি রুমেই রয়েছে ইলেক্ট্রনিক সেফ ডিপোজিট সুবিধা রয়েছে। দৈনিক পত্রিকা।ঢিলা পোষাক, হেয়ার ড্রায়ার এবং রুম চপ্পলের ব্যবস্থা। অনুরোধের ভিত্তিতে ডাবা। টেবিল ডেস্ক এবং টেবিল ল্যাম্প সুবিধা।জুতো পালিশের সামগ্রী, ইস্ত্রী এবং ইস্ত্রী রাখার বোর্ড। রুমগুলো বড় জানালা এবং বারান্দাযুক্ত। এখান থেকে গুলশান লেক উপভোগ করা যায়।চা কফি তৈরির জন্য বৈদ্যুতিক কেটলি অন্যান্য ব্যবস্থা।বিভিন্ন ধরনের পানীয় সমৃদ্ধ মিনি বার। ফলমূল সংগ্রহের ঝুড়ি। দৈনিক লন্ড্রি সার্ভিস। ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস, ২৪ ঘন্টা প্রহরীযুক্ত এবং ২৪ ঘন্টা বৈদ্যুতিক সুবিধাসম্পন্ন।
অতিথি আপ্যায়ন এবং খাওয়া—দাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং খাওয়া—দাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে গোল্ডেন গুস রেষ্টুরেন্ট। এখানে থাই, ইন্ডিয়ান এবং জাপানী ডিশের সাথে দৈনিক বুফে এবং আলা কার্টের সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও এখানে কফি শপ, বেবি শপ রয়েছে।

সামাজিক এবং কর্পোরেট পার্টি সুবিধার বিষয়ে কাজী তারিক বলেন, এখানে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কর্পোরেট পার্টি বা মিটিংয়ের জন্য এখানে রয়েছে সুপ্রশস্থ শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত ভেন্যু, যেমন— (১) লা ভিটা: ১৮৫০ বর্গফুট; (২) ইকেবানা: ৭৮০ বর্গফুট; (৩) সমাধান: ৬৫০ বর্গফুট। ভেন্যুর অন্যান্য সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে; (১) পিএ সিস্টেম; (২) মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর; (৩) ওভারহেড প্রজেক্টর; (৪) ল্যাপটপ; (৫) ইন্টারনেট; (৬) ক্যাসেটে রেকর্ডিং সুবিধা; (৭) ফ্লিপ চার্ট পেপার; (৮) মার্কার; (৯) ফটোকপি; (১০) কম্পিউটার প্রিন্ট; (১১) স্টেজ; (১২) প্যাড এবং পেন এবং (১৩) পডিয়াম। প্রতিটি ভেন্যু ৩৫০ জন ধারনক্ষমতা সম্পন্ন।

অতিথিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি ধরণের সেবা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে অতিথিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রয়েছে সোয়াসদি হেলথ কেয়ার এবং স্পা সেন্টার। এখানে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে Herbal treatment; Aromatherapy; Reflexology; Aromatic scrubs; Medical herbal steam treatment; Aromatic scrubs; Medicinal herbal steam treatment; Facial and bodz mask treatment; Cellulite reduction therapy; Regular beauty and health treatments চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।

আগত অতিথিদের জন্য ট্রাভেল এবং ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে জানিয়ে তারিক বলেন, এখানে আগত অতিথিদের জন্য লেকশোর ট্যুর এবং ট্রাভেলসের মধ্যমে বিভিন্ন ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ঢাকার ঐতিহাসি স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করানো হয়। আমাদের সিটি ট্যুর প্যাকেজগুলি এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থানগুলির একটি সিরিজ পরিদর্শনের মাধ্যমে আপনার সাথে ঢাকাকে পরিচিত করবে। আমাদের প্যাকেজগুলির মধ্যে রয়েছে একজন গাইড যিনি এই সাইটগুলির পিছনের ইতিহাস সম্পর্কে ভালভাবে পারদর্শী এবং একজন দক্ষ চালক যিনি পুরান ঢাকার বিস্ময়কর রাস্তাগুলি ঘুরে দেখেন। আমরা যাত্রার জন্য জলখাবার এবং জলখাবার সরবরাহ করি। আপনার পছন্দের উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত অবস্থানসহ ট্যুরটি অত্যন্ত কাস্টমাইজযোগ্য। আমরা সেই অনুযায়ী আপনার জন্য সফরের ব্যবস্থা করব।সদরঘাট নদীঘাট, নীলকুঠি, লালবাগ কেল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আহসান মঞ্জিল, চন্দ্রিমা উদ্যান, ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁও, বঙ্গভবন সহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির অতীত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শপিং মল, মার্কেট এবং কাঁচাবাজার পরিদর্শন এবং ধারণা প্রদান করা হয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায়, অঞ্চলে অবস্থিত সুন্দর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাসমুহ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। যেমন— পৃথিবী বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, পতেঙ্গা, ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন, চা—বাগান, কুয়কাটাসহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া এখানে প্রতি ফ্লোরে ৩টি করে ফায়ার এক্সিটের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নিজস্ব সুপ্রশস্ত পার্কিং প্লেস রয়েছে। এখানে ১৫ থেকে ২০টি গাড়ী পার্ক করা যায়।

দেশের অর্থনীতিতে হোটেল খাতের সম্ভবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির মধ্যে হোটেল খাত অন্যতম। তরুণ প্রজন্মের জন্য রেস্টুরেন্ট মানেই একটি অন্যরকম আকর্ষণ। এখন তরুণরা যেমন রেস্টুরেন্টে যেতে ও খেতে পছন্দ করে ঠিক তেমনই একটি আকর্ষণীয় ব্যবসা হিসেবে তারা এটিকে বেছে নিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বর্তমান বিশ্বে মোবালাইজড, আরবানাইজড, সামাজিক মিলনস্থল সব একাকার হয়ে যাচ্ছে। যেখানে মানুষ তার তাৎক্ষণিক বা প্রাত্যহিক প্রয়োজনে খাবার ও বিশ্রামের জন্য ছুটে যাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে সার্বিক অতিথিসেবা আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পরিবেশিত হয়ে থাকে। সেজন্যই হোটেল রেস্তোরাঁর কাস্টমারকে ‘অতিথি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়ে থাকে।বিশ্বের সবখানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকায় এর ব্যবসায়িক চাহিদা প্রকট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রাইভেট সেক্টরে দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সামগ্রিকভাবে তৃতীয় বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রি। শুধু দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা গড়ে তুলছেন নামি—দামি রেস্টুরেন্ট। আরব আমিরাতে হোটেল—রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ। অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় দেশটিতে তারা গড়ে তুলেছেন ছোট—বড় ২ সহস্রাধিক হোটেল—রেস্টুরেন্ট। তাদের গড়ে তোলা হোটেল—রেস্টুরেন্টের তৈরি খাবার ব্যাপকভাবে সুনাম বাড়াচ্ছে দেশটিতে। দশ বছরে দেশ যেভাবে এগিয়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসাও সেভাবে এগিয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে, বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

এ খাতে ব্যাংকগুলো কেমন ঋণ দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রণোদনার স্কিমের মধ্যে পর্যটন খাতের সঙ্গে সেবাখাত হিসেবে হোটেল—রেস্তোঁরা খাত অন্তর্ভুক্ত আছে। বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যটন শিল্পের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সেবা চালুকরণের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ—আলোচনার মাধ্যমে যদি আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে তাহলে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নতকরণের মাধ্যমে জিডিপিতে এর বিপুল পরিমাণ অবদান বাড়ানো সম্ভব। পর্যটন খাতকে চাঙ্গা ও উন্নত করতে স্পেশাল ট্যুরিজম ব্যাংকিং কর্মসূচি চালুর ব্যাপারে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে জাতীয় অর্থনীতিতে শুভ ফলাফল বয়ে আনতে পারে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ ব্যয় করে তার একটি অংশ এখন থেকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে। এই মর্মে সিএসআর ব্যয় নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের সিএসআরে পর্যটনের অর্থ ব্যয় করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এতে করে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকগুলো কাজ করতে পারবে, তাদের প্রচারণাও ভালো হবে। এখনকার বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ীই ব্যাংকগুলো পর্যটন খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের মতো ব্যাংকগুলো পর্যটন খাতে বিশেষ ব্যাংকিং সেবা পণ্য চালুর মাধ্যমে আগ্রহী উদ্যোক্তা গ্রাহকদের সহযোগিতা করতে পারে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

আমি লেকশোর হোটেল প্রতিষ্ঠা করেছি দেশের পর্যটন সেক্টরের উন্নয়ন এর জন্য

আপডেট সময়: ০৯:৫৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার বিশেষ প্রতিনিধি:কাজী তারিক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, লেকশোর হোটেল। তিনি একজন দক্ষ ও মেধাবী। দেশের হোটেল ব্যবসার একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব। ঢাকার বাণিজ্যিক এবং ডিপ্লোম্যাটিক জোনে যে কয়টি আন্তর্জাতিকমানের আবাসিক হোটেল রয়েছে লেকশোর হোটেল তাদের মধ্যে একটি। ।উষ্ণ আতিথেয়তা, নিরাপত্তা এবং চমৎকার, উপাদেয় রন্ধনপ্রণালী হোটেলটিকে বৈশ্বিক খ্যাতি এনে দিয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮ কিলোমিটার দুরে বনানী ১১নং সড়কের শেষ প্রান্তে গিয়ে গুলশান—বনানী লিং রোড (ব্রীজ) এর পূর্ব পাশে গিয়ে ১৫০ গজ সামনে এগোলে হাতের ডান পাশে এটি অবস্থিত।

স¤প্রতি আপনার নামে অভিযোগ এসেছে আপনি আপনার পিতাকে আটকে রেখে ভাইবোনের সাথে লেকশোর হোটেলের মালিক কাজী শামসুল হককে দেখা করতে দিচ্ছেন না। এজন্য তারা আদালতে আপনার পিতাকে হাজির করার নির্দেশনা চেয়ে হেবিয়াস কপার্স রিট করেছেন আপনার চার ভাই বোন তাদের বক্তব্য আপনি আপনার পিতাকে গৃহবন্দী করে রেখেছেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাজী শামসুল হক সাহেব এদের একজন সম্মানিত মানুষ একজন ব্যবসায়ী ও কনসুল জেনারেল বর্তমানে তার বয়স ৯২ বছর তিনি শারিকিভাবে অসুস্থ্য হয় তাকে নিয়ে আমার সৎ ভাই বোনেরা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছে। আমি নিজে লেকশোর হোটেল প্রতিষ্ঠা করি আমি বর্তমানে এর ৫০% মালিক আমার মা ৫০% মালিক এবং আমার পিতাকে আমি ১% শেয়ার উপহার দিয়ে চেয়ায়ম্যান করেছিলাম পরবর্তীতে তিনি আমাকে সেই ১% শেয়ার জয়েনষ্টক এর আইন মেনে সাক্ষীদের সামনে আমার শেয়ার আমার নামে ফেরত দেন ।আমার পিতা যখন আমার শেয়ার ফেরতদেন তখন তিনি কনসুল জেনারেলদের সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। আমি আমার ভাইয়ের ছেলেদের পড়াশোনা করিয়েছি ভাইকে সিক্স সিজন হোটেল করে দিয়েছি আমি সেই হোটেলের এমডি হয়েও সেখান থেকে কোন আর্থক সুবিধা নেই নাই। আমার তৈরি হোটেলে আমাকে ঢুকতে দেয়া না। আমাকে যারা চেনে তারা জানে আমি কত পরিশ্রম করে লেকশোর হোটেলকে গত ২২ বছর যাবৎ দাড় করিয়েছি। যার কারণে এই হোটেল দেশের পর্যটন সেক্টরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছি। সরকারকে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স দিয়েছি। বহু মানুষের কর্মসংস্থান করেছি। আজকে আমার নামে যা কিছু বলা হচ্ছে তা মিথ্যা অপপ্রচার পিতার সাথে তার সব সন্তানের যোগাযোগ আছে। আমার পিতা গত ছয় বছর ধরে বেশি অসুস্থতাজনিত কারণে শয্যাশায়ী। ডিমেনশিয়া বা স্মৃতি ভ্রমসহ বিভিণ্ণ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি হিতাহিত জ্ঞান লুপ্ত বিধায় তিনি পরিবারের সদস্যদের ও বর্তমানে চেনেননা। আমার সন্দেহ হচ্ছে আমার ভাই বোনেরা কোন কুচক্রী মহলের পরামর্শে এ ধরনের হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়ে আমার পিতা ও আমাদের সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য এ ধরনের কাজ করছেন।আমি এই ধরনের অপপ্রচার এর তীব্র নিন্দা জানাই আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবো

হোটেল সুযোগ—সুবিধা ও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি বলেন কাজী তারিক। তিনি বলেন, ঢাকাকে ভিন্নভাবে আবিস্কারের সুযোগ করে দিতে রুফটপ সুইমিংপুল ও রুফটপ রেস্টুরেন্টের সুবিধা নিয়ে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলের যাত্রা শুরু হয়। আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানকারী এই হোটেলের খাবার পরিবেশনা আগত অথিদিদের কাছে বিশেষ সুনাম অর্জন করেচে। লেকশোর ট্যুর ও ট্রাভেলসের মাধ্যমে হোটেলে অবস্থারত অধিথিরা দেশে—বিদেশে নানা ধরণের ট্র্যরে ঘুরে বেড়াতে পারেন। এছাড়া হোটেলটিতে রয়েছে বাই সাইকেল রেন্ট সুবিধা যা বিদেশী পর্যকটদের শহর ঘুরে দেখাবার ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

রুম এবং স্যুট বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের এখানে এখানে ৬০টি বিলাসবহুল এবং সুপ্রশস্থ রুম এবং স্যূট রয়েছে। রুমগুলোর ডিজাইন মার্জিত এবং আধুনিক। রুমগুলো সর্বাধিক সুযোগ—সুবিধা সম্পন্ন। এখানে সাধারনত ৬ ধরনের রুম বা স্যূট রয়েছে। এর মধ্যে এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ ডিলাক্স রুমের সংখ্যা মোট ৩০টি। প্রতিটি রুম ১৮৪ বর্গফুট বিশিষ্ট। এক্সিকিউটিভ প্রিমিয়াম ডিলাক্স, এক্সিকিউটিভ প্রিমিয়াম ডিলাক্স রুমের সংখ্যা মোট ৫টি। প্রতিটি রুম ২২০ বর্গফুট বিশিষ্ট। রুমের ফ্লোরগুলো বিদেশী মার্বেল দ্বারা মোড়ানো। এক্সিকিউটিভ টুইন স্যূট, এই স্যুটগুলো ২৮৪ বর্গফুট বিশিষ্ট। এই স্যুটের মধ্যেই মাস্টার বেডরুম এবং অন্যান্য লিভিং রুম আলাদা থাকে। এই স্যুট থেকে গুলশান লেক উপভোগ করা যায়। স্টুডিও এপার্টমেন্ট, এটি ৩৭৩ বর্গফুট বিশিষ্ট। এই এপার্টমেন্টের মধ্যেই রান্নাঘর এবং ডাইনিংরুম পৃথকভাবে রয়েছে। ক্রাউন স্যুট, এটি ৪৫৬ বর্গফুট বিশিষ্ট। এখানে কিচেন আলাদা, ডাইনিং রুম, মাষ্টার বেডরুম এবং লিভিং রুম রয়েছে। প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট, এটি ৫৮০ বর্গফুট বিশিষ্ট। স্যুটটিতে সমসাময়িক আর্টওয়ার্ক এবং সাজসজ্জা রয়েছে। বাসঘরের আসনবিন্যাস বেশ আরামদায়ক।
হোটেল সুযোগ—সুবিধা সম্পর্কে কাজী তারিক বলেন, হোটেলের রুম এবং স্যুটসমূহের সকল সুযোগ—সুবিধা রয়েছে। প্রত্যেকটি রুম এবং স্যুট শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত। রুমগুলোতে স্যাটেলাইট চ্যানেলযুক্ত এলসিডি টেলিভিশন এবং ডিভিডি প্লেয়ার রয়েছে। রয়েছে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুবিধা। আন্তর্জাতিক টেলিফোনে কল করার সুবিধা সম্পন্ন টেলিফোন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রত্যেকটি রুমেই রয়েছে ইলেক্ট্রনিক সেফ ডিপোজিট সুবিধা রয়েছে। দৈনিক পত্রিকা।ঢিলা পোষাক, হেয়ার ড্রায়ার এবং রুম চপ্পলের ব্যবস্থা। অনুরোধের ভিত্তিতে ডাবা। টেবিল ডেস্ক এবং টেবিল ল্যাম্প সুবিধা।জুতো পালিশের সামগ্রী, ইস্ত্রী এবং ইস্ত্রী রাখার বোর্ড। রুমগুলো বড় জানালা এবং বারান্দাযুক্ত। এখান থেকে গুলশান লেক উপভোগ করা যায়।চা কফি তৈরির জন্য বৈদ্যুতিক কেটলি অন্যান্য ব্যবস্থা।বিভিন্ন ধরনের পানীয় সমৃদ্ধ মিনি বার। ফলমূল সংগ্রহের ঝুড়ি। দৈনিক লন্ড্রি সার্ভিস। ২৪ ঘন্টা রুম সার্ভিস, ২৪ ঘন্টা প্রহরীযুক্ত এবং ২৪ ঘন্টা বৈদ্যুতিক সুবিধাসম্পন্ন।
অতিথি আপ্যায়ন এবং খাওয়া—দাওয়া বিষয়ে তিনি বলেন, অতিথিদের আপ্যায়ন এবং খাওয়া—দাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে গোল্ডেন গুস রেষ্টুরেন্ট। এখানে থাই, ইন্ডিয়ান এবং জাপানী ডিশের সাথে দৈনিক বুফে এবং আলা কার্টের সুব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও এখানে কফি শপ, বেবি শপ রয়েছে।

সামাজিক এবং কর্পোরেট পার্টি সুবিধার বিষয়ে কাজী তারিক বলেন, এখানে সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কর্পোরেট পার্টি বা মিটিংয়ের জন্য এখানে রয়েছে সুপ্রশস্থ শীতাতপ নিয়ন্ত্রীত ভেন্যু, যেমন— (১) লা ভিটা: ১৮৫০ বর্গফুট; (২) ইকেবানা: ৭৮০ বর্গফুট; (৩) সমাধান: ৬৫০ বর্গফুট। ভেন্যুর অন্যান্য সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে; (১) পিএ সিস্টেম; (২) মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর; (৩) ওভারহেড প্রজেক্টর; (৪) ল্যাপটপ; (৫) ইন্টারনেট; (৬) ক্যাসেটে রেকর্ডিং সুবিধা; (৭) ফ্লিপ চার্ট পেপার; (৮) মার্কার; (৯) ফটোকপি; (১০) কম্পিউটার প্রিন্ট; (১১) স্টেজ; (১২) প্যাড এবং পেন এবং (১৩) পডিয়াম। প্রতিটি ভেন্যু ৩৫০ জন ধারনক্ষমতা সম্পন্ন।

অতিথিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কি ধরণের সেবা রয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে অতিথিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য রয়েছে সোয়াসদি হেলথ কেয়ার এবং স্পা সেন্টার। এখানে থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এখানে Herbal treatment; Aromatherapy; Reflexology; Aromatic scrubs; Medical herbal steam treatment; Aromatic scrubs; Medicinal herbal steam treatment; Facial and bodz mask treatment; Cellulite reduction therapy; Regular beauty and health treatments চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে।

আগত অতিথিদের জন্য ট্রাভেল এবং ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে জানিয়ে তারিক বলেন, এখানে আগত অতিথিদের জন্য লেকশোর ট্যুর এবং ট্রাভেলসের মধ্যমে বিভিন্ন ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ঢাকার ঐতিহাসি স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করানো হয়। আমাদের সিটি ট্যুর প্যাকেজগুলি এই ধরনের ঐতিহাসিক স্থানগুলির একটি সিরিজ পরিদর্শনের মাধ্যমে আপনার সাথে ঢাকাকে পরিচিত করবে। আমাদের প্যাকেজগুলির মধ্যে রয়েছে একজন গাইড যিনি এই সাইটগুলির পিছনের ইতিহাস সম্পর্কে ভালভাবে পারদর্শী এবং একজন দক্ষ চালক যিনি পুরান ঢাকার বিস্ময়কর রাস্তাগুলি ঘুরে দেখেন। আমরা যাত্রার জন্য জলখাবার এবং জলখাবার সরবরাহ করি। আপনার পছন্দের উপর ভিত্তি করে নির্বাচিত অবস্থানসহ ট্যুরটি অত্যন্ত কাস্টমাইজযোগ্য। আমরা সেই অনুযায়ী আপনার জন্য সফরের ব্যবস্থা করব।সদরঘাট নদীঘাট, নীলকুঠি, লালবাগ কেল্লা, ঢাকেশ্বরী মন্দির, আহসান মঞ্জিল, চন্দ্রিমা উদ্যান, ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁও, বঙ্গভবন সহ বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে বাঙ্গালী জাতির অতীত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত শপিং মল, মার্কেট এবং কাঁচাবাজার পরিদর্শন এবং ধারণা প্রদান করা হয়। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলায়, অঞ্চলে অবস্থিত সুন্দর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাসমুহ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। যেমন— পৃথিবী বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ, পতেঙ্গা, ষাট গম্বুজ মসজিদ, সুন্দরবন, চা—বাগান, কুয়কাটাসহ বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া এখানে প্রতি ফ্লোরে ৩টি করে ফায়ার এক্সিটের ব্যবস্থা রয়েছে। গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য নিজস্ব সুপ্রশস্ত পার্কিং প্লেস রয়েছে। এখানে ১৫ থেকে ২০টি গাড়ী পার্ক করা যায়।

দেশের অর্থনীতিতে হোটেল খাতের সম্ভবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতির মধ্যে হোটেল খাত অন্যতম। তরুণ প্রজন্মের জন্য রেস্টুরেন্ট মানেই একটি অন্যরকম আকর্ষণ। এখন তরুণরা যেমন রেস্টুরেন্টে যেতে ও খেতে পছন্দ করে ঠিক তেমনই একটি আকর্ষণীয় ব্যবসা হিসেবে তারা এটিকে বেছে নিচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয় বর্তমান বিশ্বে মোবালাইজড, আরবানাইজড, সামাজিক মিলনস্থল সব একাকার হয়ে যাচ্ছে। যেখানে মানুষ তার তাৎক্ষণিক বা প্রাত্যহিক প্রয়োজনে খাবার ও বিশ্রামের জন্য ছুটে যাচ্ছে। অর্থের বিনিময়ে সার্বিক অতিথিসেবা আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পরিবেশিত হয়ে থাকে। সেজন্যই হোটেল রেস্তোরাঁর কাস্টমারকে ‘অতিথি’ হিসেবে সম্বোধন করা হয়ে থাকে।বিশ্বের সবখানে রেস্টুরেন্ট ব্যবসার চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকায় এর ব্যবসায়িক চাহিদা প্রকট। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা প্রাইভেট সেক্টরে দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সামগ্রিকভাবে তৃতীয় বৃহত্তম ইন্ডাস্ট্রি। শুধু দেশে নয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা গড়ে তুলছেন নামি—দামি রেস্টুরেন্ট। আরব আমিরাতে হোটেল—রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ। অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় দেশটিতে তারা গড়ে তুলেছেন ছোট—বড় ২ সহস্রাধিক হোটেল—রেস্টুরেন্ট। তাদের গড়ে তোলা হোটেল—রেস্টুরেন্টের তৈরি খাবার ব্যাপকভাবে সুনাম বাড়াচ্ছে দেশটিতে। দশ বছরে দেশ যেভাবে এগিয়েছে রেস্তোরাঁ ব্যবসাও সেভাবে এগিয়েছে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, কর্মসংস্থান বেড়েছে, বাইরে খাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

এ খাতে ব্যাংকগুলো কেমন ঋণ দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রণোদনার স্কিমের মধ্যে পর্যটন খাতের সঙ্গে সেবাখাত হিসেবে হোটেল—রেস্তোঁরা খাত অন্তর্ভুক্ত আছে। বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যটন শিল্পের জন্য বিশেষ ব্যাংকিং সেবা চালুকরণের ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়, পর্যটন ও বেসামরিক বিমান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ—আলোচনার মাধ্যমে যদি আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে তাহলে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্পকে আরো সমৃদ্ধ ও উন্নতকরণের মাধ্যমে জিডিপিতে এর বিপুল পরিমাণ অবদান বাড়ানো সম্ভব। পর্যটন খাতকে চাঙ্গা ও উন্নত করতে স্পেশাল ট্যুরিজম ব্যাংকিং কর্মসূচি চালুর ব্যাপারে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে জাতীয় অর্থনীতিতে শুভ ফলাফল বয়ে আনতে পারে। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) অংশ হিসেবে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ ব্যয় করে তার একটি অংশ এখন থেকে দেশের পর্যটন খাতের উন্নয়নে ব্যয় করা যাবে। এই মর্মে সিএসআর ব্যয় নীতিমালা সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকের সিএসআরে পর্যটনের অর্থ ব্যয় করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করে শিগগিরই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এতে করে দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাংকগুলো কাজ করতে পারবে, তাদের প্রচারণাও ভালো হবে। এখনকার বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ীই ব্যাংকগুলো পর্যটন খাতে সিএসআরের অর্থ ব্যয় করতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এসএমই খাতের মতো ব্যাংকগুলো পর্যটন খাতে বিশেষ ব্যাংকিং সেবা পণ্য চালুর মাধ্যমে আগ্রহী উদ্যোক্তা গ্রাহকদের সহযোগিতা করতে পারে।