লোকসমাচার, যশোর প্রতিনিধি:আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে যশোরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি স্থাপন, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় পূজামণ্ডপে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা ও পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং ছিনতাই প্রতিরোধের বিষয়েও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা বিভিন্ন মণ্ডপে ডিজে পার্টি, অতিরিক্ত শব্দে গান-বাজনা ও মদ্যপ অবস্থায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলে এসব কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পূজার ধর্মীয় পরিবেশ ব্যাহত করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে।
সভায় উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় মাইক, সাউন্ড সিস্টেম ও ডিজে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অতিরিক্ত আলোকসজ্জা পরিহার করে মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলো ব্যবহারের পরামর্শ দেন। জাতীয় স্বার্থে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ী ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় জানানো হয়, এবার যশোর জেলায় ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মণ্ডপ বেড়েছে ২৮টি। এছাড়া প্রতিটি মন্দিরের জন্য সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার কেজি করা হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

























