ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বার দায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময়: ০৭:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে আখিনুরকে প্রধান আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার কিশোর আখিনুর পঞ্চগড় সদর থানার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত কিশোর একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে গত ৭ মে রাতে বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরীক সম্পর্ক করে।

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে ওই কিশোরী ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ওই কিশোরী আখিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্‌প্রতিবন্ধী। এ সুযোগে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলামের দাবি, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

আখিনুরের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার চাচা। তার দাবি, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে তার বয়স ১৪ বছরের কিছু বেশি হওয়ার কথা। অথচ মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কিশোরীর বিষয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ রয়েছে বরেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর সে দীর্ঘদিন মাদরাসায় আসেনি। ভুক্তভোগী কিশোরীও ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

হুতিদের ওপর হামলা চালাতে সৌদি যুবরাজের ফোন, ট্রাম্পের প্রত্যাখ্যান

৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে অন্তঃসত্ত্বার দায়ে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র গ্রেপ্তার

আপডেট সময়: ০৭:০৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বিয়ের প্রলোভন ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক নাবালিকা মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে মো. আখিনুর নামে এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বাদী হয়ে আখিনুরকে প্রধান আসামি করে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার কিশোর আখিনুর পঞ্চগড় সদর থানার চাকলা ইউনিয়নের কদমতলী এলাকার বাসিন্দা।

জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় একটি দাখিল মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত কিশোর একই মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মাদরাসায় যাওয়া-আসার পথে আখিনুর দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল এবং তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের একপর্যায়ে গত ৭ মে রাতে বাড়ির সবার অনুপস্থিতির সুযোগে আখিনুর ওই কিশোরীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরীক সম্পর্ক করে।

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পঞ্চগড় লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে ওই কিশোরী ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারে। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ওই কিশোরী আখিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি জানায়।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে এবং আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনি ব্যবস্থা নিতে কিছুটা বিলম্ব হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই মামলা করা হয়েছে এবং প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

মামলার বাদী শাহীনুর ইসলাম অভিযোগ করে জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ এবং মা বাক্‌প্রতিবন্ধী। এ সুযোগে আখিনুর ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

মামলা করার পর আসামির পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

আখিনুরের চাচা মনিরুল ইসলামের দাবি, তার ভাতিজা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। মামলা না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।

আখিনুরের বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার চাচা। তার দাবি, আখিনুরের জন্ম ২০১২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। সে হিসেবে তার বয়স ১৪ বছরের কিছু বেশি হওয়ার কথা। অথচ মামলার এজাহারে তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। ওই কিশোরীর বিষয়ে স্থানীয়দের নানা অভিযোগ রয়েছে বরেও জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট মাদরাসার সুপার হাবিবুর জানান, আখিনুর তাদের মাদরাসার ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। কিছুদিন আগে সিগারেট খাওয়ার অভিযোগে তাকে মাদরাসায় আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। এরপর সে দীর্ঘদিন মাদরাসায় আসেনি। ভুক্তভোগী কিশোরীও ওই মাদরাসার নবম শ্রেণির ছাত্রী।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মকলেছুর রহমান বলেন, মামলা পাওয়ার পর ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। পরে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।