ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাকর্মকর্তা পরিচয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: মোংলায় পারভেজ গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময়: ০৭:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ জন দেখেছে
Spread the love

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের মোংলা থেকে পিরোজপুরের কাউখালী থানা পুলিশ ও মোংলা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ খুলনা সদর এলাকার কয়রা ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মোংলা থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পারভেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর বা কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের সূত্র ধরে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা রাত্রিযাপনও করেন।

‎সম্প্রতি পারভেজের এই প্রতারণার বিষয়টি পরিবারের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

‎কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত পারভেজকে পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধর্ষণ মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু নারীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

চলতি বছরই ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

সেনাকর্মকর্তা পরিচয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ: মোংলায় পারভেজ গ্রেপ্তার

আপডেট সময়: ০৭:৫৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Spread the love

ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর ভুয়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেজে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে পারভেজ ব্যাপারী (২২) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাগেরহাটের মোংলা থেকে পিরোজপুরের কাউখালী থানা পুলিশ ও মোংলা থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

‎পুলিশ জানায়, সোমবার দুপুরে মোংলা পৌর শহরের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে থেকে পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পারভেজ খুলনা সদর এলাকার কয়রা ২৩ নম্বর রোডের সাখাওয়াত ব্যাপারীর ছেলে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাউখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খায়রুল হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ মোংলা থানা পুলিশের সহায়তায় এই অভিযান পরিচালনা করে।

‎মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত পারভেজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেকে র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর মেজর বা কর্নেলসহ বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে জাহির করতেন। এই ভুয়া পরিচয়ের সূত্র ধরে পিরোজপুরের এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি। একপর্যায়ে ভুয়া বিয়ের নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা রাত্রিযাপনও করেন।

‎সম্প্রতি পারভেজের এই প্রতারণার বিষয়টি পরিবারের কাছে ফাঁস হয়ে যায়। এরপর ভুক্তভোগী কিশোরীর মা নিলুফা বেগম বাদী হয়ে পিরোজপুরের কাউখালী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর পারভেজ খুলনা থেকে পালিয়ে মোংলায় গিয়ে আত্মগোপন করেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

‎কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গ্রেপ্তারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত পারভেজকে পিরোজপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ধর্ষণ মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে বহু নারীর সঙ্গে একই কায়দায় প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত চলছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।