ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাতিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

  • আপডেট সময়: ০৫:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬২ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দ্বীপের সাত ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সারারাত অবিরাম বর্ষণে অনেকস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকা এলাকাগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, সাময়িক দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ১০ টন চাল ও নগদ ৪ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতের বৃষ্টিতে এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, তমরদ্দি, সুখচর, চরকিং, জাহাজমারা ও নলচিরাসহ অন্তত সাত ইউনিয়নের বীজতলা, ফসলের খেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকস্থানে বাসিন্দারা রান্নার চুলা ডুবে খাবারের কষ্টে আছে।

নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, জাতীয় উদ্যান হওয়ায় এখানে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। তাই অনায়াসে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। তার ওপর অতিবৃষ্টিতে পুরো ইউনিয়ন জলমগ্ন। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সহায়তা জরুরি।

চরকিং ইউনিয়নের সানা উল্যাহ বলেন, পানিবন্দি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে হাঁড়িতে চাল ওঠেনি। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে শিশুখাদ্য, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে গত পাচঁদিন ধরে জেলার সঙ্গে হাতিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান ঘাটে মালবাহী ট্রাকসহ শত-শত যানবাহন আটকা পড়ে আছে। এতে অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে থাকা-খাওয়াসহ পয়োনিষ্কাশনে কষ্ট পাচ্ছে আটকে থাকা যানবাহনের চালক ও সহকারীরা।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

হাতিয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেট সময়: ০৫:৪৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে দ্বীপের সাত ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকালে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সারারাত অবিরাম বর্ষণে অনেকস্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বেড়িবাঁধ না থাকা এলাকাগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, সাময়িক দুর্যোগ মোকাবিলায় পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ১০ টন চাল ও নগদ ৪ লাখ টাকা মজুত রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নোয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনও বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতের বৃষ্টিতে এবং অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ, তমরদ্দি, সুখচর, চরকিং, জাহাজমারা ও নলচিরাসহ অন্তত সাত ইউনিয়নের বীজতলা, ফসলের খেত, মাছের ঘের ও কাঁচা ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেকস্থানে বাসিন্দারা রান্নার চুলা ডুবে খাবারের কষ্টে আছে।

নিঝুমদ্বীপের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, জাতীয় উদ্যান হওয়ায় এখানে কোনো বেড়িবাঁধ নেই। তাই অনায়াসে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। তার ওপর অতিবৃষ্টিতে পুরো ইউনিয়ন জলমগ্ন। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের সহায়তা জরুরি।

চরকিং ইউনিয়নের সানা উল্যাহ বলেন, পানিবন্দি হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষজন চরম বিপাকে পড়েছে। অনেকের রান্নাঘরে পানি ওঠায় গত দুই দিন ধরে হাঁড়িতে চাল ওঠেনি। এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। জরুরি ভিত্তিতে শিশুখাদ্য, শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করছি।

এদিকে গত পাচঁদিন ধরে জেলার সঙ্গে হাতিয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় চেয়ারম্যান ঘাটে মালবাহী ট্রাকসহ শত-শত যানবাহন আটকা পড়ে আছে। এতে অনেক কাঁচা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে থাকা-খাওয়াসহ পয়োনিষ্কাশনে কষ্ট পাচ্ছে আটকে থাকা যানবাহনের চালক ও সহকারীরা।