মিঠুন চক্রবর্তী, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত, অসহায় ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষের দৃষ্টিশক্তি রক্ষায় ব্যতিক্রমী মানবিক ও নিজস্ব অর্থায়নে উদ্যোগ নিয়েছে কনিকা মাহফুজ স্পেশালাইজড চক্ষু হাসপাতালের চেয়ারম্যান তানভীর রশিদ আকন। এছাড়াও প্রতি মাসে ৫০ জন দরিদ্র রোগীর সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চলমান রয়েছে এবং বছরব্যাপী এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে গিয়ে তারা লক্ষ্য করেছেন, উপজেলার অনেক দরিদ্র মানুষ অর্থাভাবে বছরের পর বছর ছানি রোগে ভুগলেও অস্ত্রোপচার করাতে পারছেন না। ফলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে তাদের। এমন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই বিনামূল্যের ছানি অপারেশন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৫০ জন অসচ্ছল রোগীকে নির্বাচিত করে তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ছানি অপারেশন করা হবে। শুধু অস্ত্রোপচার নয়, রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবাও নিশ্চিত করা হবে। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য দরিদ্র মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে এনে তাদের স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করা।
এ কর্মসূচিকে আরও বিস্তৃত ও টেকসই করতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক এবং সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার অসচ্ছল ছানি রোগীদের শনাক্ত করে তাদের এই সেবার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হাসপাতালটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “মানুষের সেবাই আমাদের অঙ্গীকার। আর্তমানবতার কল্যাণে গৃহীত এই উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যেতে চাই। এই মহৎ উদ্যোগ সফল করতে সবার সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রাজাপুরে বছরব্যাপী বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের এই উদ্যোগ দরিদ্র মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। স্বাস্থ্যসেবায় এমন মানবিক কার্যক্রম শুধু অসচ্ছল মানুষের জীবনমান উন্নয়নেই নয়, সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টান্ত স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বছরজুড়ে চলবে এ মানবিক উদ্যোগ; দরিদ্র মানুষের চোখের আলো ফিরিয়ে আনাই লক্ষ্য।






















