ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

  • আপডেট সময়: ০২:০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯
  • ১৭৮ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লাবন দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান নদীগুলোতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নীলফামারীর তিস্তা, সুনামগঞ্জের সুরমা, বান্দববানের সাঙ্গু, কক্সবাজারের মাতামুহুরী ও বাঁকখালী এবং চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলোতে বন্যার পানির প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও জীবনহানির কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের তেঘরিয়া, সাববাড়ির ঘাট, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, নবীনগর, ষোলঘরসহ বেশ কিছু নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া শহরের জামতলা, আরপিননগর, পশ্চিমবাজার, পশ্চিম নুতনপাড়া, শন্তিবাগসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বুধবার সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬২ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিমি. রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। এ কারণে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা সদরসহ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জেলার নিম্নাঞ্চল।

এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার হাটবাজারগুলো পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ বৃষ্টিপাতের ফলে ঘর থেকে কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে না পারায় অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছেন। এ দিকে বন্যাপরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এ দিকে সুরমার পানি বৃদ্ধির কারণে বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার নিচু বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকায় অনেকেই পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে সুনামগঞ্জে। গত তিন দিন বর্ষণ ও ঢল অব্যাহত রয়েছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সুরমা, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, খাসিয়ামারা, চেলাসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদনদীর পানি বেড়েছে।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

যশোরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ২৮ জন ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ২৫ জন, চলতি বছরে মৃত্যু ২

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

আপডেট সময়: ০২:০৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই ২০১৯
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্লাবন দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান নদীগুলোতে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নীলফামারীর তিস্তা, সুনামগঞ্জের সুরমা, বান্দববানের সাঙ্গু, কক্সবাজারের মাতামুহুরী ও বাঁকখালী এবং চট্টগ্রামের পাহাড় থেকে নেমে আসা নদীগুলোতে বন্যার পানির প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটলেও জীবনহানির কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন স্থানে প্রশাসন পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের পরিবারগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পৌরসভার নিম্নাঞ্চলের তেঘরিয়া, সাববাড়ির ঘাট, বড়পাড়া, মল্লিকপুর, ওয়েজখালী, নবীনগর, ষোলঘরসহ বেশ কিছু নদী তীরবর্তী অঞ্চলের আবাসিক এলাকা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ ছাড়া শহরের জামতলা, আরপিননগর, পশ্চিমবাজার, পশ্চিম নুতনপাড়া, শন্তিবাগসহ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। জেলার প্রধান নদী সুরমার পানি বুধবার সুনামগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬২ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থাপনা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়াও গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিমি. রেকর্ড বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া।

তিনি বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর পানি বেড়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন নিম্নাঞ্চলের মানুষ। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল অব্যাহত আছে। এ কারণে নদী ও হাওরের পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলা সদরসহ, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ বেশ কিছু অভ্যন্তরীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে জেলার নিম্নাঞ্চল।

এ ছাড়া তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকার হাটবাজারগুলো পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ফলে জেলার নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ বৃষ্টিপাতের ফলে ঘর থেকে কাজের সন্ধানে বাইরে যেতে না পারায় অনাহারে-অর্ধাহারে রয়েছেন। এ দিকে বন্যাপরিস্থিতির আরো অবনতি হলে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। এ দিকে সুরমার পানি বৃদ্ধির কারণে বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, দিরাই, শাল্লাসহ হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদর ও বিভিন্ন উপজেলার নিচু বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকায় অনেকেই পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ভারতের মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে সুনামগঞ্জে। গত তিন দিন বর্ষণ ও ঢল অব্যাহত রয়েছে। রেকর্ড বৃষ্টিপাতে সুরমা, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, খাসিয়ামারা, চেলাসহ বিভিন্ন সীমান্ত নদনদীর পানি বেড়েছে।