ঢাকা ০১:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চাঁদাবাজদের জন্যই বাজার অস্থির: জামায়াত আমির

  • আপডেট সময়: ১১:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ১৬০ জন দেখেছে
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইদানীং আরও একটু বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর পেছনে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দায়ী করে বাজার নিয়ন্ত্রণে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার শাহ আলী পাইকারি কাঁচা বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজরা কোনো ভিনদেশি বা ভিনগ্রহের প্রাণী নয়; তারা আমাদের আশেপাশেই চলাফেরা করা চেনা লোক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ এখানে চাঁদাবাজি করে না, আমাদের সঙ্গে উঠবস করা লোকেরাই এই অপকর্ম করছে এবং তাদের পরিচয় সবার জানা।’

বাজার পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় বরাদ্দ পাওয়া দোকানগুলো দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত উপ-ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি চলছে ‘নীরব চাঁদাবাজি’, যার ভয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন এখন চরম সংকটাপন্ন।

কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, আবার ভোক্তারাও অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মাঝখান থেকে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজরা সব মুনাফা লুটে নিচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই অন্যায্য চক্র ভাঙতে তার দলের লড়াই শুরু হয়েছে এবং এটি সংসদের ভেতর ও বাইরে সমানতালে চলবে।

ডা. শফিকুর রহমান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, মুখ বুজে নীরবে চাঁদা দিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। ব্যবসায়ীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে চান, তবে তার দল সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে তিনি জাতীয় সংসদেও বলেছেন যে সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি হবে না, তবে কারও এই সাহস দেখানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে মহড়া নয়, বরং জনস্বার্থে বাজারের গভীর সমস্যাগুলো বুঝতেই তিনি এই পরিদর্শনে এসেছেন বলে জানান। পাইকারি বাজারের পর তিনি খুচরা বাজার ও মোকামগুলোতেও খবর নেবেন বলে ঘোষণা দেন।

পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিরোধীদলীয় নেতার এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। শফিকুর রহমান আশ্বস্ত করেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে তার দল কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।

ট্যাগ

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইনফরমেশন সেভ করুন

জনপ্রিয়

দেশে ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে, শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিতের আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

চাঁদাবাজদের জন্যই বাজার অস্থির: জামায়াত আমির

আপডেট সময়: ১১:০৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Spread the love

লোকসমাচার ডেস্ক:বাজার পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইদানীং আরও একটু বেশি অস্থির বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এর পেছনে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দায়ী করে বাজার নিয়ন্ত্রণে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার শাহ আলী পাইকারি কাঁচা বাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন।

শফিকুর রহমান বলেন, চাঁদাবাজরা কোনো ভিনদেশি বা ভিনগ্রহের প্রাণী নয়; তারা আমাদের আশেপাশেই চলাফেরা করা চেনা লোক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ এখানে চাঁদাবাজি করে না, আমাদের সঙ্গে উঠবস করা লোকেরাই এই অপকর্ম করছে এবং তাদের পরিচয় সবার জানা।’

বাজার পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ীরা বিরোধীদলীয় নেতার কাছে অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে পাঁচ হাজার টাকায় বরাদ্দ পাওয়া দোকানগুলো দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত উপ-ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি চলছে ‘নীরব চাঁদাবাজি’, যার ভয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন এখন চরম সংকটাপন্ন।

কৃষক পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না, আবার ভোক্তারাও অতিরিক্ত দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মাঝখান থেকে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজরা সব মুনাফা লুটে নিচ্ছে। তিনি ঘোষণা করেন যে, এই অন্যায্য চক্র ভাঙতে তার দলের লড়াই শুরু হয়েছে এবং এটি সংসদের ভেতর ও বাইরে সমানতালে চলবে।

ডা. শফিকুর রহমান ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, মুখ বুজে নীরবে চাঁদা দিয়ে যাওয়া কোনো সমাধান নয়। ব্যবসায়ীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ করতে চান, তবে তার দল সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে তিনি জাতীয় সংসদেও বলেছেন যে সংসদ সদস্যরা যদি মনে করেন বাংলাদেশে কোনো চাঁদাবাজি হবে না, তবে কারও এই সাহস দেখানোর সুযোগ নেই। বর্তমানে বাজার নিয়ন্ত্রণে মহড়া নয়, বরং জনস্বার্থে বাজারের গভীর সমস্যাগুলো বুঝতেই তিনি এই পরিদর্শনে এসেছেন বলে জানান। পাইকারি বাজারের পর তিনি খুচরা বাজার ও মোকামগুলোতেও খবর নেবেন বলে ঘোষণা দেন।

পরিদর্শনকালে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

বিরোধীদলীয় নেতার এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে মিরপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। শফিকুর রহমান আশ্বস্ত করেন, জনদুর্ভোগ কমাতে এবং বাজারের শৃঙ্খলা ফেরাতে তার দল কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।